ডেস্ক: ভোটের ঢাকে পড়তে কাঠি হয়ত আর মাস দুই। তার আগে বুধবার বাঁকুড়ায় প্রশাসনিক বৈঠকে আমজনতার প্রয়োজনকেই পাখির চোখ করে ফেললেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। একের পর এক জনপ্রতিনিধি উঠে দাঁড়িয়ে তার কাছে আবদার রেখেছেন নিজ নিজ এলাকার চাহিদা নিয়ে। আর সে সব শুনে কখনও তিনি রেগেছেন আবার কখনও সে ফরমাইশে সবুজ সঙ্কেত দিয়েছেন। তা শুনে রোদবৃষ্টির মত হাসিকান্নার লুকোচুরি খেলা চলল সভায় হাজির জনপ্রতিনিধিদের। যাদের ফরমাইশ মঞ্জুর হয়েছে তাদের মুখে ফুটেছে হাসি, আর যাদের খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে তাদের গোমড়া মুখটাই সম্বল।

বাংলা বছরটা শেষ হতে আর খুব বেশি বাকি নেই। কিন্তু তার আগে বুধবার নতুন বছরের উপহারের ডালি দিয়ে বাঁকুড়াকে সাজিয়ে দিয়ে গেলেন তিনি। কি নেই সেই ডালিতে? বাসস্ট্যান্ড, মর্গ, টিবওয়েল, রেললাইন সব জায়গা করে নিয়েছে সেই তালিকায়। খরা প্রবন বাঁকুড়া জেলায় চাষ থেকে পানীয়, সবেতেই জলটান নিত্যদিনের কথা। সেই জলটানের সুরাহায় মুখ্যমন্ত্রী যেমন খরা মরশুমের আগে ‘জল ধরো জল ভরো’ প্রকল্পের মাধ্যমে জলের ব্যবস্থা করার ওপর জোর দিয়েছেন তেমনি পানীয় জলের সমস্যা মেটাতে পরিকল্পনা করে টিবওয়েল বসানোর ওপরেও জোর দিয়েছেন। তারই মধ্যে সকলের নজর টেনে নিয়েছে নিম্ন দামোদর অববাহিকায় আড়াই হাজার কোটি টাকার প্রকল্পটি। সভায় বৈঠক চলাকালীন সময়ে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়ে দিলেন, আড়াই হাজার কোটি টাকায় নদী বাঁধ মেরামত করা হবে যাতে লাভবান হবে দক্ষিণবঙ্গের চারটি জেলার মানুষ। পাশাপাশি সেচের জলের সমস্যাও মেটাবে ওই প্রকল্প। জোর দেওয়া হবে নদী ভাঙ্গন প্রতিরোধেও।

প্রশাসনিক বৈঠকে উহ্য থেকেও এসেছে ভবাদিঘি প্রসঙ্গ। বৈঠকে এক জনপ্রতিনিধি মুখ্যমন্ত্রীর কাছে বিষ্ণুপুর-তারকেশ্বর রেললাইন নিয়ে জমি সংক্রান্ত কিছু সমস্যার কথা তুলেছিলেন। সেখানেই মুখ্যমন্ত্রী জানিয়ে দেন, প্রকল্প কেন্দ্রের হোক কি রাজ্যের তা সময় মত শেষ করতে হবে। কেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা সমস্যা মেটাতে পারবেন না, সে প্রশ্নও করেন তিনি। বেশ ক্ষোভের সঙ্গেই জানান, হাজারো মানুষের সুবিধা হবে যে প্রকল্পের মাধ্যমে তা কেন হাতেগোনা কিছু মানুষ আটকে দিচ্ছেন। সবাইকে তো ক্ষতিপূরণ দেওয়া হচ্ছে। তাহলেও কেন প্রকল্পের জন্য জমি সংক্রান্ত সমস্যা দেখা দিচ্ছে? জয়রামবাটী কামারপুকুর দুই পূণ্যস্থান। রেল যোগাযোগ গড়ে উঠলে সেখানে আসা মানুষজনদেরও সুবিধা হবে।

সভাতেই তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, রেলমন্ত্রী থাকাকালীন সময়ে তিনি তারকেশ্বর বিষ্ণুপুর রেললাইন গড়ে তোলার কাজ শুরু করেন। সেই কাজ এখনও শেষ হয়নি হুগলী জেলার গোঘাটের ভবাদিঘি এলাকায় স্থানীয় কিছু মানুষের বিক্ষোভ আন্দোলনের জন্য। মুখ্যমন্ত্রী এদিন মুখে একবারও ভবাদিঘি নাম না নিয়েই বুঝিয়ে দেন সেখানকার বিক্ষোভ আন্দোলন তার না পসন্দ। আগামী পঞ্চায়েত নির্বাচনে ভবাদিঘি যে জোড়াফুল শিবিরে গলার কাঁটা হতে চলেছে সে আর বলার অপেক্ষা রাখে না। এদিন বৈঠকে বাঁকুড়ার তিন জায়গায় বাসস্ট্যান্ড তৈরি করার কথা যেমন ঘোষণা করেছেন তেমনি বাঁকুড়া মেডিকেল কলেজ হসপিটালে নতুন একটি মর্গ তৈরি করার নির্দেশও দেন তিনি। সব মিলিয়ে পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে জেলার মানুষকে যেমন দিদি বেশ কিছু দিয়ে গেলেন তেমনি প্রত্যাশাটাও রাখলেন ভোটবাক্সে সকলের হাত উপুড় করা সমর্থন পাওয়া নিয়ে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here