kolkata bengali news

ডেস্ক: একটানা ২৬ দিন অনশনের রেকর্ড ছিল তাঁর দখলে। এসএসসি চাকরিপ্রার্থীদের অনশন ২৮ দিনে পা দেওয়ার পর চেয়ার টলে গেল সেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। দীর্ঘদিনের চাপা ক্ষোভ, অভিমান, রাগ, শারীরিক যন্ত্রণা, রোগ, জ্বালা, ক্ষুধা সব যেন ফেটে বেরিয়ে আসতে চাইল। অনশন মঞ্চে খোদ মুখ্যমন্ত্রীকে দেখে তাঁর পায়েই লুটিয়ে পড়লেন কয়েকজন চাকরিপ্রার্থী। করুণ কণ্ঠে সকলের একটাই আর্তি, ‘দিদি আমাদের বাঁচান’।

টানা ২৮ দিন অনশনের জেরে কেউ অসুস্থ হয়ে পড়েছেন, কেউ হাসপাতালে ভর্তি, কারও হয়েছে গর্ভপাত, কারোর বা ভেসে গেছে সংসার। কিন্তু দিনের পর দিন কেটে যায় রাজ্য সরকার সুরাহার পথ খোঁজে না। প্রতিবাদে সমর্থন জানান মন্দাক্রান্তা সেন, সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়, শঙ্খ ঘোষের মতো বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বরাও। মাঝে অবশ্য একবার অনশনে মঞ্চে গিয়ে কমিটি গড়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। অনশনের ২৩ তম দিনে সাংবাদিক সম্মেলনও করেন। আবেদন জানান অনশন তুলে নেওয়ার। কিন্তু সমস্যা যে তিমিরে ছিল, আটকে রয় সে তিমিরেই। অনশন চালিয়ে যান চাকরিপ্রার্থীরা। ফলে, ক্রমশ বাড়তে থাকে চাপ। উঠতে শুরু করে নিন্দার ঝড়। তবে চাকরির অধীর অপেক্ষায় বোধহয় অবশেষে পড়ল দাঁড়ি। শেষ পর্যন্ত হাজির হলেন মমতা। এদিনও অবশ্য মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী।

এদিন প্রেস ক্লাবের সামনে চাকরিপ্রার্থীদের মঞ্চে উপস্থিত হয়ে অনশনকারীদের বক্তব্য শোনেন মমতা। এরপর মুখ্যমন্ত্রী জানান, নির্বাচনের কারণে আদর্শ আচরণবিধি লাগু হয়ে যাওয়ায় এখনই কোনও ঘোষণা করতে পারছেন না তিনি। মমতা বলেন, ‘নির্বাচনী বিধির কারণে আমার হাত-পা বাঁধা। তোমাদের প্রতি আমার সহানুভূতি রয়েছে। দরকার হলে আইন পরিবর্তন করা হবে। একটি কমিটি গঠন করা হবে যেখানে অনশনকারীদের ৫ জন ছাত্রদের সদস্য থাকবে। কিন্তু বিধি লাগু থাকার কারণে এখন আমি কিছুই ঘোষণা করতে পারব না। তবে জুন মাসের মধ্যে তোমাদের সকল সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘যা করার আমরাই করব। বাইরে থেকে এসে তো কেউ করবে না। তাই বিশ্বাস রাখুন। নিয়মের মধ্যে থেকে যা করা যায় সব করব।’ তবে আদর্শ আচরণ বিধি লাগু থাকার কারণে যে কোনও সাহায্যের ঘোষণা তিনি করতে পারছেন না,  এ কথা বারবার মনে করিয়ে দেন মমতা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here