কলকাতা: সাংসারিক বিড়ম্বনায় কাজে মন নেই মেয়রের। দলের মধ্যে নিচু স্তরের কর্মীরা আজকাল বাকা চোখে তাকান দাপুটে এই তৃণমূল নেতার দিকে। চারপাসে কানাঘুষো বান্ধবী বৈশাখী দেবীর সম্পর্কে জড়িয়েছেন তিনি। ফলস্বরূপ সকলের সামনে গালমন্দ করতেও ছাড়েন না দলনেত্রী। যার জেরেই সম্প্রতি, দক্ষিন ২৪ পরগণার জেলা সভাপতির পদ থেকে সরানো হয়েছে একদা দিদির অতি প্রিয় কাননকে। সবমিলিয়ে অভিযোগের শেষ নেই মেয়র তথা রাজ্যের দমকল মন্ত্রী এবং তৃণমূল নেতা শোভন চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে। ঘুরে ফিরে আবার খবরের শিরোনামে উঠে এলেন শোভন। তাঁর প্রেম নিয়ে দিদি নাকি বেশ করে বকে দিয়েছেন শোভনকে। আর তার জেরে ফের অভিমানী শোভন।

প্রতি বছর মহালয়ার দিন নিয়ম করে অনুষ্ঠিত হয় তৃণমূল মুখপত্রের অনুষ্ঠান। যেখানে হাজির থাকা এককথায় বাধ্যতামূলক দলের সমস্ত নেতা মন্ত্রিদের। এই বছরও এই অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয় নজরুল মঞ্চে। যেখানে উপস্থিত ছিলেন দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। জানা গিয়েছে, সেখানে দলীয় বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনার পর একেবারে শেষে শোভনের প্রসঙ্গ তোলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কারণ সেই বৈঠকে অনুপস্থিত ছিলেন একমাত্র শোভন চট্টোপাধ্যায়। শোভনের অনুপস্থিতির কারণ জানতে চাওয়ায় শোভন জানান, বিবাহ বিচ্ছেদের মামলা নিয়ে ব্যস্ত থাকার কারণে অনুষ্ঠানে উপস্থিত হতে পারেননি তিনি। সূত্রের খবর, শোভনের এই জবাবের পাল্টা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, তাঁর কাছে খবর রয়েছে তিনি নাকি বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে শপিং করতে গিয়েছেন তিনি। যদিও এই অপমান পাল্টা দিয়ে শোভন বলেন, তাঁর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে আপত্তি থাকলে, দায়িত্ব থেকে যেন অব্যাহতি দেওয়া হয়।

উল্লেখ্য, এর আগে শোভনের এই সম্পর্কের জন্য একাধিকবার মুখ্যমন্ত্রীর কাছে প্রকাশ্যে বকা খেয়েছেন শোভন চট্টোপাধ্যায়। গত আগস্ট মাসে ক্যাবিনেট বৈঠকের মিটিংয়ে সরাসরি শোভনকে আক্রমণ করেছিলেন মমতা সেবার তিনি বলেন, সারা রাজ্যের মানুষ শোভন চট্টোপাধ্যায়ের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে আলোচনা করছে। শোভনের প্রেমের জন্য কাজে গাফিলতি হচ্ছে বলে অভিযোগ তোলেন তিনি। যদিও সেই ঘটনার ব্যাপক আহত হন শোভন। তার কিছুক্ষন পরেই নবান্নে নিজের পদত্যাগপত্র জমা দেন তিনি। যদিও সেবার বুঝিয়ে সুঝিয়ে থামানো হয় শোভনকে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here