ডেস্ক: ‘ইতিহাসে আমরা রামকে দেখছি তীর ধনুক নিয়ে রাবণের সঙ্গে যুদ্ধ করতে। রাম ঠাকুর কবে কোথায় বলে গেছে তরয়াল হাতে মাথায় ফেট্টি বেঁধে মিচ্ছিল করতে হবে। হাতে খোলা তরয়াল নিয়ে ভিন্ন সম্প্রদায়ের পাড়ায় গিয়ে চমকানি, গুন্ডামি মেনে নেওয়া হবে না। ধর্মের নামে কোন ভন্ডামি মেনে নেব না। বাংলার সংস্কৃতিতে হাজারো পূজো আছে। আমরা দুর্গাপূজো করি, কালিপূজো করি, সরস্বতী পূজো করি, কিন্তু কখনো ধর্মের নামে গুন্ডামি করি না। রাম ঠাকুর কনে কোথায় বলে গেছে পিস্তল হাতে মিছিল করতে হবে। কাল তো জেলায় জেলায় গুন্ডামি করেছে। পুরুলিয়াতে একজন মারাও গেছে। কিছু হুজুগে গুন্ডা হাতে অস্ত্র তুলে নিয়েছে। এটা কিন্তু টলারেট করা হবে না। পুলিশকে বলছি কড়া হাতে এই সব ভন্ডামি গুন্ডামি আটকান।’ বক্তা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার কলকাতা লাগোয়া পৈলানে ভারত সেবাশ্রম সংঘের প্রেক্ষাগৃহে দক্ষিন ২৪ পরগণা জেলার প্রশাসনিক বৈঠকে নাম না করেই এভাবেই রামনবমী নিয়ে বিজেপির কড়া নিন্দায় সরব হলেন মুখ্যমন্ত্রী।

তবে শুধুমাত্র গেরুয়া নিন্দায় তার বৈঠক থেমে থাকেনি। জেলার উন্নয়নে বেশ কিছু বিষয়ে নজর দেন মুখ্যমন্ত্রী। তার মধ্যে যেমন খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্প রয়েছে, তেমনই রয়েছে মৎস্যচাষ প্রকল্পও। মুখ্যমন্ত্রী খোঁজ নিয়েছেন জেলার ১০০ দিনের কাজের প্রকল্প থেকে, বাংলা আবাস যোজনা, পানীয় জল প্রকল্প, গ্রামীন বিদ্যুতায়ন এমনকি পর্যটন নিয়েও। তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে মুখ্যমন্ত্রী এদিন প্রশাসনকে জানিয়ে দেন, ভাঙড়ের সমস্যার সমাধান করতে। প্রয়োজনে রাজনীতির লোকদের বাদ দিয়ে গ্রামের লোকেদের মধ্যে থেকে ৫-৬ জনকে প্রতিনিধি হিসাবে ডেকে তাদের সঙ্গে কথা বলে সমস্যার সমাধান করতে হবে বলে তিনি প্রশাসনিক কর্তাদের জানিয়ে দেন। সেই সঙ্গে এদিন বৈঠক চলাকালীন সময়ে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়ে দেন গোটা দেশে ১০০ দিনের কাজের প্রকল্পে দেশের মধ্যে প্রথম হয়েছে দক্ষিন ২৪ পরগণা। তার জন্য তিনি জেলার সকল প্রশাসনিক কর্তাদের পাশাপাশি জনপ্রতিনিধিদের ধন্যবাদ দেন। পাশাপাশি জেলার মুখ্য প্রশাসনিক কার্যালয় যাতে জোকা মেট্রো রেল স্টেশনের কাছে গড়ে তোলা যায় তার জন্যও প্রশাসনকে জমি খোঁজার জন্য তৎপর হতে বলেন তিনি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here