bengali news

 

মহানগর ডেস্ক:  আজ বৃহস্পতিবার চতুর্থদফা ভোটের শেষদিনের প্রচারে আলিপুরদুয়ার জেলার কুমারগ্রামে নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য রাখলেন তৃণমূলের অন্যতম শীর্ষনেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়৷ ভারত-ভুটান সীমান্ত লাগোয়া কুমারগ্রামে দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, তৃণমূলের নেতৃত্বে গত ১০ বছরে পশ্চিমবঙ্গ তথা ভারতবর্ষের মানচিত্রে অনন্য জায়গা করে নিয়েছে কুমারগ্রাম তথা আলিপুরদুয়ার জেলা৷ এ জন্য কুমারগ্রাম তথা আলিপুরদুয়ার জেলার সেচতন নাগরিকদের ধন্যবাদ জানান অভিষেক৷ আরও বলেন, সুখের সময় তৃণমূলীদেরকে না পেলেও, দুঃখের দিনে, বিপদ-আপদের দিনে তৃণমূল কংগ্রেস ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার পাশে দাঁড়াবে৷ বিজেপিকে তোপ দেগে বলেন, প্রধানমন্ত্রী হওয়ার আগে ২০১৪ সালের নির্বাচনী প্রচারে নরেন্দ্র মোদি বলেছিলেন, বিদেশ থেকে কালো টাকা ফিরিয়ে এনে প্রত্যেক দেশবাসীকে ১৫ লক্ষ করে টাকা দেওয়া হবে৷ সেজন্য ক্ষমতায় এসে সব নাগরিককে জিরো ব্যালেন্সে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খুলতে বলেছিল৷ ব্যাস্, ওই পর্যন্তই৷ একটা টাকাও গত ৭ বছরে কারও অ্যাকাউন্টে জমা হয়নি৷ অথচ দিদির সরকারের কন্যাশ্রী, রূপশ্রীর টাকা পড়ুয়াদের অ্যাকাউন্টে নিয়মিত ঢুকছে৷  

মমতা ব্যানার্জির সরকার ক্ষমতায় আসার পর উত্তরবঙ্গের ৫টা চা-বাগান খুলে দিয়েছে৷ বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতা-মন্ত্রীরাও একই প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন৷ কিন্তু একটাও বন্ধ বাগান খুলে দিতে পারেনি৷ তাই তাদের জনসভাগুলো একের পর এক সুপার ফ্লপ হচ্ছে৷ কোথাও লোকজন হচ্ছে না৷ নরেন্দ্র মোদি, অমিত শাহ, জেপি নাড্ডার সভায় লোক হচ্ছে না৷ আর তারা দুবেলা নিয়ম করে তৃণমূল কংগ্রেসকে গালমন্দ করছে আর একটার পর একটা সভা বাতিল করছে৷ অভিষেকের কথায়, মমতা ব্যানার্জি মোদি-শাহদের কাছে মাথানত করেনি৷ তাই মমতার প্রতি ওদের এত গাত্রদাহ৷ বিজেপি রাজ্য দখল করবে বলছে, অথচ তাকিয়ে দেখুন ২৯৪টা আসনের মধ্যে ৭০-৭৫টা প্রার্থী তৃণমূল ছেড়ে যাওয়া গদ্দার৷ ওদের নিজেদের প্রার্থী নেই, সব ধার করা৷ তাই সবাইকে একসুরে বলতে বলেন, ’বল হরি হরি বোল, ২রা মে বিজেপিকে ঘাটে তোল৷’ ২ মে-র পর পদ্মফুলীরা চোখে সর্ষেফুল দেখবে বলেও মন্তব্য করেন অভিষেক৷

ভাষা নিয়ে অভিষেক বিজেপির জাতীয় নেতাদেরকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বলেন, আপনারা দু মিনিট বাংলায় কথা বলুন৷ আমি বাঙালি হয়েও ঘণ্টার পর ঘণ্টা হিন্দিতে ভাষণ দিতে পারব৷ এটা হল সব ভাষার প্রতি ভালবাসা এবং আন্তরিকতা৷ বাংলার কৃষ্টি, সংস্কৃতিই জানে না ওরা৷ সহজপাঠ কার লেখা জানে না৷ বর্ণপরিচয় যিনি লিখেছেন, সেই বিদ্যাসাগরের মূর্তি ওরা ভেঙেছে৷ আয়ুষ্মান প্রকল্পের সঙ্গে স্বাস্থ্যসাথীর তুলনা করে অভিষেক বলেন, স্বাস্থ্যসাথী কার্ড ইস্যু প্রকল্প হয়েছে মা-দিদি-বৌদিদের নামে৷ এটা হল নারীর ক্ষমতায়ণের বহির্প্রকাশ৷ আর কেন্দ্রের আয়ুষ্মান প্রকল্প নামটাই পুরুষতান্ত্রিক৷ তাঁর কথায়, বিজেপির সবকিছু অডিয়ো৷ শুধু শোনা যায়, চোখে কিছু দেখা যায় না৷ আর মা মাটি মানুষের সরকার দু-দফায় ১০ বছরে সবকিছু করে দেখিয়েছে৷ সেসব আপনারা দুচোখে দেখতে পাচ্ছেন৷ অর্থাৎ তৃণমূল হল একইসঙ্গে অডিয়ো এবং ভিডিয়ো৷ অর্থাৎ এখানে সবকিছু নিজের চোখে দেখতে পাচ্ছেন আপনারা৷

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here