ডেস্ক: সরগরম রাজনীতির, রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান সবকিছুর বাইরে বেরিয়ে মানবিকতা, বাঙালিয়ানার অন্য নাম রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নিয়মের কঠিন বেড়াজাল ভেঙে কখনও তিনি রাজ্যবাসীর জন্য মমতাময়ী তো কখনও দক্ষ প্রশাসক। তবে রাজ্যে উৎসবের দিনে এক অন্যরুপে ধরা দিলেন চিরপরিচিত রাজ্যবাসীর প্রিয় দিদি। ঘটল প্রাক্তন ও বর্তমানের এক অনন্য সৌজন্য।

এমনিতেই পুজো ও উৎসবের দিনে প্রিয়জনকে উপহার দেওয়ার এক সৌজন্যতা রয়েছে বাঙালি সংস্কৃতিতে। আর সেই সংস্কৃতিকে বলা ভালো অভ্যাসে পরিণত করে ফেলেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। পুজোর সময়ে অনেককেই উপহার পাঠান তিনি। তবে এবার তিনি উপহার পাঠালেন এমন এক মানুষকে যে একটা সময়ে চির প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন মমতার। হ্যাঁ তিনি রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য্য। প্রাক্তন এই মুখ্যমন্ত্রীকে পুজোর উপহার হিসাবে মমতা পাঠালেন আদ্দির পাঞ্জাবী এবং ঢোলা পাজামা। বাদ যাননি বুদ্ধবাবুর স্ত্রীও। মীরা ভট্টচার্যের জন্য পাঠালেন ধনেখালির তাঁতের শাড়ি ও মিষ্টি। সরকারি দুই আধিকারিককে দিয়ে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধবাবুর পাম অ্যাভিনিউয়ের বাড়িতে এই সমস্ত উপহার পাঠান মমতা। রাজনীতি থেকে নিজেকে একেবারেই গুটিয়ে নিয়েছেন সিপিএমের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য্য তাই মমতার উপহার সাদরে গ্রহণও করেন তিনি।

তবে বুদ্ধবাবুর এই উপহার গ্রহণ একেবারেই ভালো চোখে নিচ্ছে না রাজ্য সিপিএম। একেবারে তেড়েফুড়ে আক্রমণে নেমেছে তারা। সোশ্যাল মিডিয়ায় এই খবর চাঊর হতেই শুরু হয়েছে সমালোচনা। চলছে প্রাক্তনকে নিয়ে বিদ্রুপ। রাজ্য স্তরের কোনও নেতাই অবশ্য মুখ খুলতে চাননি এই বিষয়ে। কিন্ত কর্মীরা বাদ যাবেন কেন, উত্তর চব্বিশ পরগণার ওই নেতার কথায়, ‘গ্রামে গঞ্জে কর্মীরা তৃণমূলের হাতে মার খাচ্ছে আর ওখানে উনি পাঞ্জাবী নিচ্ছেন।’ কেউ কেউ তো আবার বলেই ফেলেছেন, পার্টি নিয়ম জারি করেছে গ্রামে গ্রামে সিপিএম কর্মিরা মার খাচ্ছে কেউ যেন তৃণমূলের কোনও উপহার গ্রহণ না করে। বুদ্ধবাবুর জন্য কি লাদা নিয়ম প্রযোজ্য হয়েছে।’ তবে সব কিছুকে পিছনে ফেলে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী কিন্তু সৌজন্যতার এক অনন্য নজির স্থাপন করলেন এই বাংলায়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here