১০০ বছর কয়লার অভাব হবে না বাংলার! দেউচা-পাঁচামি খনিতে কাজ শুরুর ইঙ্গিত মমতার

0
kolkata bengali news

মহানগর ওয়েবডেস্ক: দেউচা-পাঁচামি কোল ব্লকের কয়লা হাতে পেতে এখনো অনেকগুলো বছর অপেক্ষা করতে হবে। পাশাপাশি মোকাবিলা করতে হবে আরও অনেক চ্যালেঞ্জের। কয়লা স্তরের উপরে থাকা বিপুল পরিমাণ পাথর সরানোর পাশাপাশি পরিবেশ সংক্রান্ত ছাড়পত্র আদায় করতে হবে। পাশাপাশি বহুসংখ্যক স্থানীয় মানুষের পুনর্বাসনসহ প্রয়োজনীয় কাজ সেরে তবেই কয়লা উত্তোলনের কাজ শুরু হবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

বহু কাঠখড় পুড়িয়ে কেন্দ্রের কাছ থেকে চলতি বছরের জুন মাসে দেউচা-পাঁচামি কয়লা ব্লকের স্বত্ব আদায় করেছে রাজ্য। কিন্তু বিরাট এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে থাকা কয়লা স্তরের নাগাল পাওয়া যে সহজ নয়, এদিন মুখ্যমন্ত্রীর কথাতেই তা পরিষ্কার হয়ে গিয়েছে। বুধবার নবান্নে দেউচা-পাঁচামি কয়লা ব্লক নিয়ে বিভিন্ন দপ্তর ও বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী। তার পরেই তিনি জানান, ওই খনি থেকে কয়লা উত্তোলন করতে অন্তত পাঁচ বছর সময় লাগবে। তিনি বলেন, ‘অনেকগুলি বিষয় দেখে তবেই কাজে নামতে হবে। তাড়াহুড়ো করে ঝুঁকি নিতে আমি রাজি নই। সবদিক দেখেই কাজ করা হবে। দেশে তো বটেই দরকার হলে আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নেওয়া হবে।’ কয়লা খনি শুরু করতে কী কী অসুবিধা আছে সেকথা মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন ১১ হাজার ২০০ একরেরও বেশি জমির নিচে ওই কয়লা স্তর রয়েছে। যার মধ্যে ৯ হাজার একর রায়তি জমি ছাড়াও ৫ হাজার একর বনভূমি রয়েছে। কাজেই ঐসব জমিতে বসবাসকারী প্রায় সাড়ে চার হাজার বাসিন্দার পুনর্বাসনের পাশাপাশি পরিবেশ মন্ত্রকের ছাড়পত্র আদায় করতে হবে। বাসিন্দাদের মধ্যে ৪০ শতাংশ আদিবাসী সম্প্রদায়ের।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, স্থানীয় মানুষকে সঙ্গে নিয়ে তাদের স্বার্থ সুরক্ষিত রেখে সব কাজ করা হবে। আমার কাছে তাদের রুজি-রুটি বাসস্থানের নিরাপত্তার বিষয়টি সব থেকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

এই সমস্ত বিষয় খতিয়ে দেখে বিস্তারিত পরিকল্পনা তৈরির জন্য মুখ্য সচিব মলয় দে’র নেতৃত্বে মুখ্যমন্ত্রী এদিন একটি কমিটি তৈরি করে দিয়েছেন। জমি অধিগ্রহণ, বাসিন্দাদের পুনর্বাসন সহ বিভিন্ন বিষয়ে ওই কমিটি বিস্তারিত পরিকল্পনা তৈরি করবে। বিদ্যুৎ, বিপর্যয় মোকাবিলা, পরিবেশ, স্বাস্থ্য, ভূমি, পঞ্চায়েত সহ বিভিন্ন দপ্তরের মন্ত্রী ও সচিবদের পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশের কর্তারা ওই কমিটিতে থাকবেন। এছাড়াও জেলাশাসকের নেতৃত্বে স্থানীয় স্তরে একটি কমিটি তৈরি করা হবে।

প্রাথমিকভাবে প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকা খরচ ধার্য করা হয়েছে। তবে প্রকল্পের খরচ আরো বাড়তে পারে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তবে এই প্রকল্পে অর্থ বরাদ্দ করতে রাজ্য সরকার কার্পণ্য করবে না বলেও তিনি জানিয়েছেন। কারণ দেউচা-পাঁচামি খনি থেকে কয়লা উৎপাদন শুরু হলে রাজ্যের সামনে কুবেরের ভান্ডারের দরজা খুলে যাবে বলে প্রশাসনের কর্তারা আশাবাদী। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম ওই কয়লা ব্লকে দু’হাজার মেট্রিক টনেরও বেশি কয়লা সঞ্চিত রয়েছে বলে বিশেষজ্ঞদের দাবি। মুখ্যমন্ত্রী কথায়, এই খনি চালু হলে আগামী একশ বছর বাংলায় কয়লার অভাব হবে না। দেশের কয়লা সমস্যা অনেকটাই মিটে যাবে। লক্ষাধিক ছেলে মেয়ে কাজ পাবেন।

কিন্তু নবান্ন সূত্রে জানা গেছে, ওই কয়লা ব্লক থেকে কয়লা উত্তোলন করা একটি বিরাট বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ কয়লা স্তর রয়েছে মাটির পাঁচশ মিটারেরও বেশি গভীরে। যার নাগাল পেতে গেলে ভেদ করতে হবে গ্রানাইট পাথরের বিরাট একটি স্তর। প্রাথমিকভাবে পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে আরও পাঁচ রাজ্যের মধ্যে এই কয়লা ব্লক বন্টান হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এইসব চ্যালেঞ্জের জন্য অন্য রাজ্যগুলি পিছিয়ে যায় বলে দাবি ওই সূত্রের। কাজেই কয়লা ব্লকের স্বত্ব হাতে পেলেও কয়লার ভান্ডার হাতে পেতে রাজ্যকে আরও অনেক কাঠ-খড় পোড়াতে হবে বলে তারা মনে করছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here