ডেস্ক: উত্তরকন্যায় সিকিমের মুখ্যমন্ত্রী পবং চামলিং-এর সঙ্গে বৈঠকে বসার আগে কিছুটা ফ্রন্টফুটেই এগিয়ে রইলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। টিডিপি নেতা চন্দ্রবাবু নাইডু এনডিএ সঙ্গ ত্যাগ করায় আরও বিরোধীদের জমি আরও শক্ত হল বলেই মনে করা হচ্ছে। এনডিএ ত্যাগ করার সিদ্ধান্তের পরই এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে মমতা টুইটারে লেখেন, ”টিডিপির এনডিএ ছাড়ার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাচ্ছি। দেশকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচাতে এই ধরণের পদক্ষেপ আবশ্যক ছিল।”

অন্যদিকে, দীর্ঘদিনের তিক্ততা কাটিয়ে অবশেষে পাহাড়ের শান্তিরক্ষার স্বার্থে এক টেবিলে বসছেন মমতা ও চামলিং। বিমল গুরুং-এর সঙ্গে রাজ্যের সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকেই সিকিমের সঙ্গেও রাজ্যের সম্পর্কের অবনতি সমান্তরাল গতিতে হয়েছে। সিআইডি-র হাতের নাগাল থেকেও বেশ কয়েকবার পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছেন বিমল। আর এর পিছনে মূলত প্রশাসনের সহযোগিতার অভিযোগ বারবার উঠে এসেছে। এসআই অমিতাভ মালিকের মৃত্যুর পর থেকেই পাহাড়কে অশান্ত করে রাখার পিছনে সিকিমের মদতের অভিযোগ ওঠে। এখানেই শেষ নয়, পলাতক বিমল গুরুংকে আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে চামলিং সরকারের বিরুদ্ধে।

এরপর থেলেই সিকিমের প্রতি কঠোর মনোভাব দেখানো শুরু করে রাজ্য সরকার। ১০ নম্বর জাতীয় সড়কে সিকিমের গাড়ি চলাচল নিয়ন্ত্রিত করা হয়। বাড়ানো হয় বাণিজ্যিক গাড়ির পারমিটের খরচও। ফলে দার্জিলিং হয়ে পণ্য সরবরাহ কমায় সমস্যায় পড়ে সিকিম। একইসঙ্গে পর্যটন ও পরিবহণ ব্যবসায় ক্ষতির মুখে পড়তে হয়। অন্যদিকে, দার্জিলিংয়ে উন্নয়নের ঝাঁপি খুলে দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিগত কয়েক মাসে পাহাড়ের জন্য একের পর এক প্রকল্প ঘোষণা করে ও শিল্প সম্মেলন করেন তিনি। ফলে রাজ্যের বিরুদ্ধে গিয়ে বিমলের পাশে দাঁড়ানো যে তাদের জন্য ইতিবাচক সংকেত নিয়ে আসেনি তা ঠাহর করতে বেশি সময় লাগেনি চামলিং-এর। তাই রাজ্যের এক টেবিলে বসার প্রস্তাবে সায় দিয়ে আজ উত্তরকন্যায় বৈঠকে বসবেন পবন ও মমতা।

 

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here