নিজস্ব প্রতিবেদক, দার্জিলিং: শিশু বিক্রির অভিযোগ ওঠার পর মাদার টেরেজা প্রতিষ্ঠিত মিশনারিজ অফ চ্যারিটির কার্যক্রম নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে বিভিন্ন মহলে। এই ঘটনার জেরে ইতিমধ্যেই এক মহিলাকে গ্রেপ্তার করার পাশাপাশি দুই সিস্টারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে সেই ঘটনায় মিশনারিজ অফ চ্যারিটির উপর আস্থা রেখেই বিজেপির দিকে অভিযোগের আঙুল তুললেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

বৃহস্পতিবার উত্তরকন্যায় প্রশাসনিক আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিক সম্মেলনে এবিষয়ে প্রশ্ন উঠলে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘মিশনারিজ অফ চ্যারিটি বলতে আমরা জানি মাদার টেরেজাকে, সিস্টার প্রেমাকে। তাদের প্রতি আমাদের গভীর শ্রদ্ধা আছে। রাজনীতিক উদ্দেশ্য সাধনে এখন মাদারকেও রেয়াত করছে না বিজেপি। সিস্টারদের বদনাম করা হচ্ছে। বিজেপি কাউকেই ছাড়ছে না। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক।’ একইসঙ্গে তিনি বলেন, ‘২০১৯ লোকসভা নির্বাচনের আগে ক্ষমতাসীন একটি দল বিরোধীদের কন্ঠরোধ করার অনবরত প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে। বিভিন্ন রকম ভাবে রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক কাজকর্ম শুরু করেছে ওরা। একটা ঘটনার জন্য পুরো চ্যারিটিকে দোষারোপ করা যায় না, মাদারকে দোষারোপ করা যায় না। যদি কেউ ব্যক্তিগতভাবে দোষ করে, তাহলে তাকে দোষারোপ করা উচিত। শাস্তি দেওয়া উচিত। গোটা মিশনারিকে কেন?’

একইসঙ্গে চা বাগানের শ্রমিকদের দুঃখ দুর্দশা মেটাতে এদিনের বৈঠকে পর বাগান শ্রমিকদের জন্য স্পেশাল কমিটি সরকার গঠন করতে চলেছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। এদিনের এই সাংবাদিক বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী সহ মলয় ঘটক, রাজ্যের ডিজি ও অন্যান্য সরকারী উচ্চ পদস্থ আধিকারিকরা।
এদিন মূখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘চা বাগান কেউ ইচ্ছে মত খোলে, আবার ইচ্ছে মত বন্ধ করে দেয়। এই কারণে বাগানের চিফ সেক্রেটারী, চা বিশেষজ্ঞদের নিয়ে এই কমিটি গঠন করা হবে। তিনি আরও বলেন, বাগানে কর্মীর সংখ্যা প্রায় ২ লাখ, আর কর্মী নন এমন মানুষের সংখ্যা প্রায় ৮ লাখ। যারা বাগানের কর্মী নন, তাদের অন্য কাজ করতে নির্দেশ দেন মূখ্যমন্ত্রী। সেই সাথে তিনি আরও জানান, আসামে যেখানে চা বাগানের শ্রমিকদের ২০ কেজি চাল দেয় সেখানকার সরকার, সেখানে আমাদের রাজ্যে ৩৫ কেজি করে মাথা পিছু চাল দেওয়া হয়। একইসঙ্গে তিনি বলেন, রাজ্যে বন্ধ ৬টি বন্ধ চা বাগানের মধ্যে ৫টি চা বাগানের পুরোনো লিজ বাতিল করে, নতুন লিজ দিয়ে চা বাগান খোলার জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সেই সাথে চা বাগান শ্রমিকরা যাতে পিএফ ও গ্র্যাচুয়েটি পায় সেই বিষয়েও ভাবনা চিন্তা করা হবে। অন্যদিকে
এদিনের বৈঠক শুরুর আগে আলিপুরদুয়ার জেলার ১৫ জন ও জলপাইগুড়ি জেলার ২১ জন মিলিয়ে মোট ৩৬ জনকে স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী শংসাপত্র তুলে দিয়ে হোমগার্ড পদে নিযুক্ত করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here