মহানগর ওয়েবডেস্ক: করোনা হোক বা আমফান, বাঙালি নিজের শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপুজোর আমেজে গা ভেজাবে না সেটা তো হতে পারে না। তবে এখন গোটা পৃথিবীর পরিস্থিতিটাই বদলে গিয়েছে বিগত কয়েক মাসে। ফলে আগের মতো পুজো হওয়া যে সম্ভব না সেটা এখন ধ্রুব সত্য। কিন্তু এর মধ্যেও আকারে ছোট করে হলেও পুজো করতে চলছে কলকাতা সহ রাজ্যের নানা পুজো উদ্যোক্তারা। কিন্তু নিউ নরম্যালের মধ্যে কীভাবে পুজো অনুষ্ঠিত হবে? কীভাবেই বা ভিড় সামলানো যাবে? এসব নিয়ে আলোচনা করতেই এদিন নেতাজি ইনডোরে পুজো উদ্যোক্তাদের সঙ্গে একটি সভার আয়োজন করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একনজরে দেখে নিন এদিনের সভা থেকে কী কী বললেন মুখ্যমন্ত্রী…

  • করোনার জন্য অনেক উৎসব ঠিকমত হয়নি। সবাই সুরক্ষা বিধি মেনে উৎসব করছেন। অনেকে সম্প্রদায়ের মধ্যে বিভেদ তৈরি চেষ্টা করছে। খোলামেলা মন্ডপ করুন। ছাদ ঢাকতে হলে অন্য দিকগুলো খোলা রাখুন। কলকাতা পুলিশ এলাকায় ২৫০৯টি পুজো। রাজ্যে ৩৪৭৪৭ টি পুজো হচ্ছে। মহিলা পরিচালিত পুজো ১৭০৬টি। দেখতে হবে মানুষ যেন কোনও বিপদে না পড়ে। তাই পুজোর উদ্যাক্তাদের বলবো খোলামেলা মণ্ডপ করুন।
  • মন্ডপ এমন করুন যাতে হাওয়া চলাচল করে। প্যান্ডেল এমনভাবে করুন যাতে শারীরিক দূরত্বও মেনটেন করা যায়। প্যান্ডেলের ঢোকা এবং বেরোনোর জন্য আলাদা আলাদা জায়গা করুন।
  • পুজোর পরে যাতে সংক্রমণ না ছড়ায় দেখতে হবে।
  • পুজো মণ্ডপে ক্লাবগুলোকে অনুরোধ যে যেমন পারবে হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও মাস্ক রাখুক। এটা করতেই হবে। মাস্ক হ্যান্ড স্যানিটাইজার শারীরিক দূরত্ব বাধ্যতামূলক মণ্ডপে।
  • নাক ও মুখ ঢেকে রাখলে এই রোগ থেকে অনেকটা মুক্তি মিলতে পারে। সুরক্ষার জন্য বেশি সংখ্যক ভলেন্টিয়ার রাখতে হবে। ভলেন্টিয়ারদের ফেসশিল্ড দিতে হবে।
  • অঞ্জলীর জন্য মাইক ব্যবহার করুন যাতে দূর থেকে দাঁড়িয়ে এই লোকের মন্ত্র শুনতে পারে। অঞ্জলি যেন সবাই একসঙ্গে ভিড় করে না দেয় সেটা লক্ষ্য রাখতে হবে। দরকার হলে ফুল-বেলপাতা বাড়ি থেকে নিয়ে আসুন।
  • প্রসাদ বিতরণের ক্ষেত্রে ও স্বাস্থ্যবিধি ও দূরত্ব বিধি মানতে হবে।
  • সিঁদুর খেলুন। কিন্তু একসাথে নয়। সিঁদুর খেলার জন্য একটা বড় জায়গা রাখা হোক। সেখানে দু-তিনজন করে ঢুকে সিঁদুর খেলবেন। তারা বেরিয়ে এলেন আবার পরের দু-তিনজন ঢুকবেন।
  • আমরা কোন রাজনীতি করি না কিন্তু অনেকেই রাজনীতি করবে। ব্যবস্থা ঠিক করে না হলে তারা এমন চিৎকার শুরু করবে। কারণ তাদের কোন দায় নেই। পুলিশকে একা দায়িত্ব দিলে হবে না। তাই প্রত্যেক বাবাকে বলব এবার কালচারাল অনুষ্ঠান না রাখতে। কারণ সেখানে থেকে সংক্রমণ ছড়ালে যারা অপবাদ দেয় তারা চিৎকার করতে শুরু করবে। পুজো করতে দিলেও দোষ দুজনা করতে দিলেও দোষ। কিন্তু আমি পুজো বন্ধ করতে পারিনা সে অধিকার আমার নেই। আমি পুজো বন্ধ করতে চাই ও না। তাই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন।
  • একদিনে সব বিসর্জন নয়। এক একটা এলাকায় এক এক দিনে বিসর্জন। ঘাটগুলো আলোর ব্যবস্থা ঠিক রাখতে হবে। কোভিড সংক্রান্ত হেল্পলাইন এই সময় ঠিক রাখতে হবে। কোন জরুরী কালীন পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর দমকল পুলিশ সবাই মিলে উদ্যোগ নিতে হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here