kolkata bengali news

মহানগর ওয়েবডেস্ক: এবার বুদ্ধিজীবী মহলের পাশে এসে দাঁড়ালেন এরাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। দেশের ৪৯ জন বুদ্ধিজীবী এদিন লিখিত ভাবে অভিযোগ জানান দেশর প্রধানমন্ত্রীর কাছে। গোটা রাজ্য তথা দেশ জুড়ে চলতে থাকা অসহিষ্ণুতার প্রসঙ্গ টেনে এনে তাঁর বলেন, দেশে যেভাবে অসহিষ্ণুতার বাতাবরণ তৈরী হচ্ছে তাতে মানুষের গনতান্রিক অধিকারের উপর আঘত হানছে বিশেষ কিছু রাজনৈতিক দল। রাজ্য থেকে এই চিঠিতে সহমত পোষণ করে স্বাক্ষর করেন সৌমিত্র চ্যাটার্জী অপর্ণা সেন সহ তাবড় তাবড় অভিনেতারা। দেশ ধর্মনিরপেক্ষতার পথ থেকে ভারত দ্রুত সরে আসছে বলে চিঠিতে দাবি করেছেন বুদ্ধিজীবীরা।

প্রসঙ্গত তাঁদের চিঠির দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানিয়ে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের পক্ষ থেকে  অভিযোগ খারিজ করে দেওয়া হয়। অভিযোগ উড়িয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক জানিয়েছে, এই ধরনের কোনও রিপোর্ট নেই সরকারের কাছে। দেশের সংবিধানের মূল্যবোধ বাঁচিয়ে রাখতে সরকার বদ্ধপরিকর। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক আরও জানিয়েছে, দেশে কারফিউ জারির মতো পরিস্থিতি কোথাও নেই।

এবার সে বিষয়ে সরব হয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, দেশের কি হাল তা জানতে কারোর বাকি নেই। নাম না করেই বুদ্ধিজীবী মহলের পাশে এসে দাঁড়ালেন তিনি। পাঠানো চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে মমতা জানান, ‘এটা একদম সঠিক সময় প্রধানমন্ত্রী তথা স্বরাষ্ট্র দপ্তরকে চিঠি পাঠানোর। যারা জেগে ঘুমোচ্ছে তাঁদের হুশ ফিরিয়ে আনার।
বিশিষ্টজনেরা যে চিঠি দিয়েছেন তাঁদের দাবিগুলো যথার্থ। তাঁদের মতের সঙ্গে আমি একমত। প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি দেওয়ার অধিকার তাঁদের আছে।’ মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, ‘আমরা সব ধর্মকে ভালোবাসি। যার যার নিজের ধর্ম নিয়ে থাকুক। এটাই আমাদের দেশের ঐতিহ্য।’ বিজেপির জয় শ্রীরাম স্লোগান নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘কোনো রাজনৈতিক ও ধর্মীয় স্লোগান আমি অশ্রদ্ধা করি না। প্রত্যেক রাজনৈতিক দলের নিজেদের স্লোগান দেওয়ার অধিকার আছে।’

প্রসঙ্গত বিশিষ্টজনের চিঠি দেওয়া নিয়ে সমালোচনা করেছে বিজেপি। এর জবাবে মমতা বলেন, ‘দেশ যখনই কোনো বিপদের মুখে পড়েছে তখন সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশিষ্টজনেরা এগিয়ে এসেছেন। তাঁদের মতামত কারো পছন্দ হতে পারে। কারো নাও হতে পারে।গণতন্ত্রে প্রত্যেকের মতপ্রকাশের অধিকার আছে। প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি দেওয়ার অধিকার আছে। শুধু তুমি বলবে আর কেউ বলবে না। এটা তো হতে পারে না।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here