kolkata news

মহানগর ওয়েবডেস্ক : করোনা মোকাবিলায় রাজ্যের মানুষদের কাছে অতন্দ্র প্রহরীর মতো দাঁড়িয়ে রয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। লকডাউনের জেরে যাতে সাধারণ মানুষের কোনও অসুবিধা না হয় সেই দিকে প্রতি মুহূর্তে সতর্ক দৃষ্টি রাখছেন তিনি। শুধু রাজ্যের অধিবাসীরাই নয়, তাঁর রাজ্যের পশু–পাখিরা কেমন আছে সে খবরও নেওয়া জরুরি বলে মনে করেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই খোঁজ নিতেই আজ বৃহষ্পতিবার তিনি হঠাৎ করে পৌঁছে যান রফি আহমেদ কিদোয়াই রোডে। দেখতে থাকেন খাঁচাবন্দি পাখিদের। একসময় ধৈর্য হারিয়ে জিজ্ঞাসা করেন, খাঁচায় থাকা পাখিগুলো জল পায়নি কেন?

প্রশ্নটি যার উদ্দেশে করা, সেই স্থানীয় কর্মীর উত্তর মুখ্যমন্ত্রীকে আদৌ সন্তুষ্ট করেনি। কিছুটা ক্ষুব্ধ হয়েই মুখ্যমন্ত্রী তাকে বোঝান পৃথিবীটা শুধু মানুষেরই বাসভূমি নয়। তিনি ওই কর্মীকে বলেন, ‘মানুষদের পাশাপাশি প্রকৃতিতে প্রয়োজন রয়েছে পশু পাখিদের। তাদের দেখভাল করা জরুরি।’ সেখানে থাকা পাখিদের খাঁচাগুলি অপরিষ্কার দেখেও অসন্তোষ প্রকাশ করেন মমতা। সঙ্গে উপস্থিত পুলিশ কমিশনার কে নির্দেশ দেন, ‘যতদিন লকডাউন চলছে পাখিগুলোকে আলিপুর চিড়িয়াখানায় রাখার ব্যবস্থা করুন। লকডাউন মিটে গেলে আবার এদের পুরানো জায়গায় পাঠিয়ে দেবেন।’ সাধারণ মানুষের পাশাপশি পশু পাখিদের প্রতি এই দৃষ্টিভঙ্গী নিঃসন্দেহে মুখ্যমন্ত্রীর চরিত্রের একটি নতুন দিক উন্মোচিত করল।

এদিন নবান্ন থেকে ফেরার পথে মুখ্যমন্ত্রী কলকাতার বিভিন্ন বাজার পরিদর্শনে নামেন। সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলে তিনি সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে দেখেন লকডাউনের জেরে বাজারের পরিস্থিতি কী। গত ৪৮ ঘণ্টায় বাজারে আকাল সৃষ্টি হওয়ার পাশাপাশি বিক্রেতাদের উপর পুলিশের লাঠি চালানোর অভিযোগ উঠেছে। যার কারণে দোকান বন্ধ রাখতে বাধ্য হচ্ছেন বিক্রেতারা, নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী পাচ্ছেন না সাধারণ মানুষ। সেই সমস্যার সমাধানেই এদিন পথে নামেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here