ডেস্ক: দেশজুড়ে বিজেপির উত্থান রুখতে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী যে থার্ড ফ্রন্টের পথে পা বাড়াচ্ছেন তা আগেই সাফ হয়ে গিয়েছিল। তেলেঙ্গানা মুখ্যমন্ত্রী কেসি রাও ইতিমধ্যেই আনুষ্ঠানিকভাবে সেই ডাক দিয়েছেন। পাশে পেয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। এবার আঞ্চলিক ক্ষমতাশালী দলগুলির শক্তি আরও বৃদ্ধি করতে এই উদ্যোগে সামিল হওয়ার জন্য দক্ষিণ ভারতের ডিএমকে নেতা স্ট্যালিনকে ফোন করলেন মমতা।

সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, তৃতীয় ফ্রন্ট গঠন নিয়ে রবিবার মমতা এবং স্ট্যালিনের মধ্যে দীর্ঘক্ষণ আলাপ আলোচনা হয়। উল্লেখ্য, ইউপিএ-র সঙ্গে শরিক দল হিসাবে রয়েছে ডিএমকে। জানা গিয়েছে, তৃতীয় ফ্রন্টের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন স্ট্যালিনও। রাও ইতিমধ্যেই জানিয়েছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ছাড়াও ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন, মহারাষ্ট্রের ছয় সাংসদ ও জন সেনা প্রধান পবন কল্যাণের ফোন পেয়েছেন। এছাড়াও, এনডিএ বিরোধী সুরে কথা বলা অন্ধ্রের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডুও পেছন থেকে এই তৃতীয় ফ্রন্টকে সমর্থন করবেন বলে জানা গিয়েছে।

জানা গিয়েছে, মমতার নেতৃত্বে কেন্দ্রে বৃহত্তর জোটের হয়ে সওয়াল করেছেন স্ট্যালিন। আগামী লোকসভায় তামিলনাড়ু এবং বাংলায় এই দুই দল জোটের সুতোয় বাঁধা পড়লে কমপক্ষে ৭০–‌‌৭৫টি আসন পেয়ে অন্যতম নির্ণায়ক শক্তির আকার নিতে পারে বলে মমতাকে স্মরণ করিয়েছেন স্ট্যালিন।

অন্যদিকে, কেসি রাও এবং স্ট্যালিন ছাড়াও পশ্চিম ভারতের আরও একটি অন্যতম শক্তিশালী দল শিবসেনা সুপ্রিমো উদ্ধব ঠাকরের ফোন পেয়েছিলেন মমতা। জানা গিয়েছে, বিজেপি-কংগ্রেস বিরোধী এই তৃতীয় ফ্রন্টে তারাও সামিল হওয়ার আগ্রহ দেখিয়েছেন। এছাড়াও সর্বভারতীয় স্তরে অরবিন্দ কেজরিওয়াল, হার্দিক প্যাটেলের মতো নেতাদের সমর্থন ইতিমধ্যেই পেয়ে রয়েছেন মমতা। এখানেই শেষ নয়, বিজেপি বিরোধিতার অন্যতম মুখ হিসাবে এখন দেশে প্রথম নামই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই ক্ষেত্রে তৃতীয় ফ্রন্টের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে, উত্তরপ্রদেশে অখিলেশের সপা এবং মায়াবতীর বসপা-র সমর্থনও পেয়ে যাবেন মমতা। এছাড়াও হায়দরাবাদে এআইএমআইএম দলের নেতা আসাদুদ্দিন ওয়েসির সমর্থন রয়েছে।

অধিকাংশ রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদেরই মত, ২০১৯ সালে এনডিএ সরকার যদি ক্ষমতায় আসে তবে পুরো ভারতের রঙ গেরুয়া হওয়া কেবল সময়ের অপেক্ষা থাকবে। এহেন অবস্থায় বাকি দলগুলি অস্তিত্ব সংকটেও ভুগতে পারে। তাই আঞ্চলিক দলগুলিকে প্রাধান্য দিয়ে তাদের জোটকে জাতীয় স্তরে তুলে ধরতে আগ্রহী হয়েছেন অঞ্চলিক দলগুলির প্রধানেরা।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here