‘ডোন্ট ইউজ মাই নেম’! তৃণমূলের কুকর্ম থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে রাখার চেষ্টা মমতার

0
242

মহানগর ওয়েবডেস্ক: হাওড়া জেলার সামগ্রিক উন্নয়ন নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বস্তি এলাকার উন্নয়ন থেকে শুরু করে পুরসভায় কর্মী নিয়োগ, সব বিষয় নিয়েই স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের তীব্র ভাষায় ভর্ৎসনা করেন তিনি। সোমবার হাওড়ার শরৎ সদনে জেলার উন্নয়নমূলক কাজের পর্যালোচনা করতে প্রশাসনিক বৈঠক ডেকেছিলেন মমতা। সেখানে স্থানীয় বিধায়ক তথা রাজ্যের মন্ত্রী অরূপ রায় থেকে শুরু করে হাওড়া পুরো বোর্ডের সদ্য প্রাক্তন মেয়র রথীন চক্রবর্তী সকলেই নেত্রীর তোপের মুখে পড়েন। পাশাপাশি তার নাম ব্যবহার করে দলের একাংশ অনৈতিক কাজ করছে বলে ইঙ্গিত মিলেছে মুখ্যমন্ত্রীর কথায়।

তাঁর এদিনের বক্তব্য থেকে দলের নেতাদের ‘অনৈতিক’ কাজ কর্ম থেকে নিজেকে সযত্নে দূরে রাখার প্রয়াস দেখতে পাচ্ছে রাজনৈতিক মহল। হাওড়া পুরসভায় অস্থায়ী কর্মী নিয়োগ নিয়ে এদিন প্রাক্তন মেয়র রথীন চক্রবর্তীকে তীব্র ভাষায় ভর্ৎসনা করেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে তাঁর নাম ব্যবহার প্রসঙ্গে দলীয় নেতৃত্বকে সতর্ক করে দেন মমতা।

হাওড়ায় পুরবোর্ডের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। বর্তমানে সেখানে প্রশাসক বসেছে। কিন্তু পাঁচ বছর সেখানে ক্ষমতাসীন ছিল তৃণমূল পরিচালিত পুর বোর্ড। সেই বোর্ডের কাজকর্ম নিয়েও যে তিনি খুশি নন এদিন তার ইঙ্গিত মিলেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথায়।

প্রশাসনিক বৈঠকে রথীন চক্রবর্তীকে উদ্দেশ্য করে নেত্রী বলেন, “তোমরা যাওয়ার আগে ৪০০ লোক নিয়ে নিলে। তারা আমার ঘাড়ে এসে পড়ল। আমার বাড়ি চলে যাচ্ছে। তোমরাই পাঠাচ্ছ।” মাসদুয়েক আগেই এই অস্থায়ী কর্মীদের তুমুল বিক্ষোভে উত্তাল হয়েছিল হাওড়া কর্পোরেশন। দীর্ঘক্ষণ ঘেরাও হয়ে থাকতে হয়েছিল কমিশনার বিজিন কৃষ্ণনকে। এ দিন রথীনবাবুকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “লোক নিয়েছ আর অনুমতি নাওনি কেন? এটা বেআইনি। এঁদের ভবিষ্যৎ নিয়ে তোমরা ছিনিমিনি খেলছ।” জবাবে রথীনবাবু পাল্টা দাবি করেন, মুখ্যমন্ত্রীর মৌখিক অনুমোদনক্রমেই লোক নিয়োগ করা হয়েছিল। এই কথা শুনে মেজাজ হারান মমতা। ধমকে উঠে তিনি বলেন, “সরকারি কাজে মৌখিক বলে কিছু হয় না। ডোন্ট ইউজ মাই নেম। এ সব বলবে না।”

শরৎ সদনের বৈঠকে যোগ দেওয়ার আগে মুখ্যমন্ত্রী দু’নম্বর রাউন্ড ট্যাঙ্ক লেনের পুরনো বস্তিতে যান। সেখানকার অব্যবস্থা দেখে উষ্মা প্রকাশ করেন তিনি। মমতা বলেন, “বস্তিতে গিয়ে দেখলাম ৪০০ পরিবার আর দুটো মাত্র বাথরুম। এটা কেন হবে? বস্তি উন্নয়নের জন্য টাকা দেওয়া হয়। তাও এত অব্যবস্থা কেন?” স্থানীয় বিধায়ক মন্ত্রী অরূপ রায়কেও তিরস্কার করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁকে উদ্দেশ্য করে মুখ্যমন্ত্রী কে বলতে শোনা যায় “ওটা তোমার এলাকা। তুমিই ঘুরবে, আমি নই। তোমাকেই কাজ করতে হবে।” এরপরেই মমতা বলেন, “ওখানে গিয়ে আবার বলবে না দিদিকে কেন বলেছ, দিদির জানার অধিকার আছে।” হাওড়ায় জল জমার সমস্যা নিয়েও পুরসভা এবং পুর ও নগর উন্নয়ন দপ্তর তিরস্কার করেন তিনি।

জন্মলগ্ন থেকেই তৃণমূলের সঙ্গে নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম ছিল সমর্থক। তাঁকে দেখেই দলের প্রার্থীদের ভোট দেওয়ার আবেদন জানতেন মমতা। কিন্তু বিগত নির্বাচনের পর থেকে শুরু হয়েছে উলট পুরাণ। গত দু’মাস ধরে দলের দুর্নীতিগ্রস্ত অংশ থেকে তৃণমূল নেত্রীর নিজেকে আলাদা করে দেখানোর মরিয়া চেষ্টা বারবার চোখে পড়েছে। নেতাদের সরকারি প্রকল্পে কাটমানি ফেরত দেওয়ার নিদের্শ হোক বা এদিনের তৃণমূল পরিচালিত পুরবোর্ডের সমালোচনা, সবই এই প্রচেষ্টার অঙ্গ বলে রাজনৈতিক মহলের অভিমত।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here