নিজস্ব প্রতিবেদক, মেদিনীপুর: শুক্রবার রাত পোহালেই ২১শে জুলাই। তৃণমূলের শহীদ দিবস। লাখো মানুষের সমাবেশ ঘটবে কলকাতার বুকে। মহানগরীতে ইতিমধ্যে আসতে শুরু করে দিয়েছে দলের কর্মী সমর্থকেরা। নেতারা নেমে পড়েছেন সভার খুঁটিনাটি দেখভালে। তারই মধ্যে মুখ্যমন্ত্রী দিয়ে দিলেন তার মানবিক মাস্টারস্ট্রোক। বৃহস্পতিবার তিনি পাড়ি জমিয়েছিলেন খড়গপুরের পথে। উদ্দেশ্য ছিল খড়গপুর আইআইটি-র সমাবর্তনে যোগ দেওয়া। কিন্তু মাঝ পথেই সেই সিদ্ধান্তে বদল ঘটালেন তিনি নিজেই। জেলাশাসক, পুলিশ সুপার, এডিজি আইবি সহ জেলা পুলিশ ও প্রশাসনের শীর্ষকর্তাদের নিয়ে খড়গপুরের আগেই চলে গেলেন মেদিনীপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। যেখানে ভর্তি আছেন গত সোমবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জনসভায় শামিয়ানা ভেঙে পড়ার ঘটনায় আহত বেশ কয়েকজন।

কোন খবর না দিয়েই মুখ্যমন্ত্রী সোজা হাজির হয়ে যান হাসপাতালে। মুহুর্তে হাসপাতাল জুড়ে পড়ে যায় রব। মুখ্যমন্ত্রীকে কাছ থেকে দেখতে ভিড় জমান হাসপাতালে আসা রোগীর পরিজনেরা। অনেকেই মুখ্যমন্ত্রীকে হাতের নাগালে পেয়ে অভিযোগ জানাতেও এগিয়ে আসেন। মুখ্যমন্ত্রী অবশ্য সে সবের তোয়াক্কা না করে, হাসপাতালে গিয়ে সোজা চলে যান বিধান ব্লকে ফিমেল সার্জিক্যাল ওয়ার্ডে। সেখানেই রয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর সভায় আহত সুমিত্রা মাহাতো। তার পা ভেঙে গিয়েছে। সুমিত্রার সঙ্গে বেশ কিছুক্ষণ কথা বলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অন্য অসুস্থতা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি, এমন কয়েকজনের সঙ্গেও কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী। তারপর সেখান থেকে বেড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী চলে যান স্থানীয় একটি নার্সিংহোমে। সেখানে এই মুহূর্তে চিকিৎসাধীন রয়েছেন মোদীর সভায় আহত সাত জন। তাদের সঙ্গেও কথা বলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখান থেকে বেরিয়েই সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান,’আহতরা প্রত্যেকেই ঠিক মতো সাহায্য না পাওয়ার কথা জানিয়েছে। তাই আহতদের প্রত্যেকের পরিবারকে ১ লাখ টাকা করে মোট ৩ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। মুখ্যমন্ত্রী ত্রাণ তহবিল থেকেই এই টাকা দেওয়া হবে। আগামীকালই এই টাকা ওই পরিবারগুলির হাতে তুলে দেওয়া হবে।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here