kolkata bengali news

ডেস্ক: এক অনশন তাঁকে কুর্সিতে এনেছিল। আরেক অনশন নাড়িয়ে দিতে বসেছে তাঁর কুর্সি। তবে অপেক্ষার হল অবসান। অবশেষে এসএসসি চাকরিপ্রার্থীদের অনশন মঞ্চে উপস্থিত হলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। লাগাতার ২৮ দিন চাকরির দাবিতে রাজপথে অনশন চলার মৃতপ্রায় অনশনকারীদের নিকট তাদের সমস্যা শুনতে গেলেন মমতা। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ও।

ধর্মতলায় প্রেস ক্লাবের পাশে স্কুলের ওয়েটিং চাকরিপ্রার্থীদের অনশন আন্দোলন চলছে ২৮ দিন ধরে। বুধবার শহরের বুকে আরেক অনশন মঞ্চের শুরুয়াত হল। সুবোধ মল্লিক স্কোয়ারে এই অনশন আন্দোলনে নেমেছেন আপার প্রাইমারিতে শিক্ষকতার পরীক্ষায় যোগ্যতা অর্জনকারীরা।

অনশনরত চাকরিপ্রার্থীদের সমর্থনে ও রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে ‘অমানবিক উদাসীনতার’ অভিযোগ তুলে নাগরিক মিছিলের আয়োজন করেছে নাগরিক অধিকাররক্ষায় আপসহীন সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন ফর প্রোটেকশন অব ডেমোক্রেটিক রাইটস বা এপিডিআর। ২৫ মার্চ এপিডিআরের নেতৃত্বে সুবোধ মল্লিক স্কোয়ারে জমায়েতের পর ধর্মতলায় প্রেস ক্লাবের অনশন মঞ্চে পৌঁছয় নাগরিক মিছিল। মিছিলের পুরোভাগে ছিলেন মিরাতুন নাহার, ড. বিনায়ক সেন, ড. সব্যসাচী দেব, ধীরাজ সেনগুপ্ত প্রমুখ বিশিষ্টজন। এছাড়াও রাজ্যের সচেতন বহু নাগরিকের পাশাপাশি মিছিলে যোগ দেন প্রেসিডেন্সি, যাদবপুর ছাড়াও মেডিক্যালের পড়ুয়ারা। বুধবার দুপুরেও হাজরা থেকে নেহরু চিলড্রেন মিউজিয়াম পর্যন্ত একটি নাগরিক মিছিলের আয়োজন হয়। বিভিন্ন দিনে অনশনমঞ্চে গিয়ে অনশনকারীদের পাশে থেকেছেন কবি মন্দাক্রান্তা সেন, পুণ্যব্রত গুণ, ড. ভাস্কর গুপ্ত প্রমুখ বিশিষ্টজন। রাজ্য প্রশাসনের আশ্চর্য উদাসীনতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদে সরব হয়েছে বিভিন্ন সংগঠনও। চিঠি লিখে সরকারের কাছে দ্রুত বিবেচনার আবেদন রেখেছেন প্রবীণ অভিনেতা সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়, কবি শঙ্খ ঘোষ।

যদিও নতুন করে অনশনকারীদের কেউ অসুস্থ হননি। ইতিমধ্যেই অসুস্থ হয়ে পি জি হাসপাতালে ভর্তি অনশনকারীদের সঙ্গে দেখা করতে যান অমলেন্দু চৌধুরির নেতৃত্বে সিপিআইএম লিবারেশন-এর এক প্রতিনিধিদল।

বুধবার অনশনমঞ্চে আসেন বাম শ্রমিক সংগঠনের নেতা শ্যামল চক্রবর্তীর নেতৃত্বে বেঙ্গল প্ল্যাটফর্ম অব মাস অর্গানাইজেশন বা বিপিএমও-র প্রতিনিধিদল। সংগঠনের দাবি, অনশনকারীদের মাথার উপর থেকে পুলিশ ছাউনি খুলে নেওয়ার বিষয়টি নিয়ে তারা চিঠি দিয়েছেন সেনাবাহিনীকে। জানতে চেয়েছেন, সেনার কথা বলে পুলিশ এভাবে অনশনকারীদের মাথার উপর থেকে ছাউনি খুলে নিতে পারে কি না? সেনাবাহিনী বিভিন্ন সময় বিপর্যয়ে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ায়। স্কুলের ওয়েটিং চাকরিপ্রার্থীরা তাদের দাবি আদায়ে প্রায় মাসখানেক ধরে অনশন আন্দোলন করছেন, তাদের মাথার উপর ছাউনি দিতে দেওয়া হবে না কেন? ব্রিগেডে রাজনৈতিক সভা হলে কয়েক ঘণ্টার জন্য হলেও রজনীতিকদের মাথায় ছাউনি দেওয়ার ব্যবস্থা থাকে। সেটা যদি অ্যালাউ করা যায়, এক্ষেত্রে হবে না কেন? অনশনকারীরাও তো দেশের নাগরিক এবং আপাতত অসহায়। এদের পাশে না দাঁড়িয়ে সেনা কেন রাজনীতির সঙ্গে নিজেকে জড়াবে? প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা। অন্যদিকে, অনশন মঞ্চের আশপাশের শৌচালয়গুলি বন্ধ করে দিয়েছে প্রশাসন। তাতে করে অনশনকারী, বিশেষ করে মহিলারা বেজায় অসুবিধার সম্মুখীন হচ্ছেন। বিপিএমও-র দাবি, শৌচাগার ব্যবহারের অনুমতি চেয়ে তারা চিঠি দিয়েছেন কলকাতা প্রেস ক্লাবকে। এ প্রসঙ্গে তাদের বক্তব্য, সংবাদ প্রতিষ্ঠানের মালিকের আপত্তি থাকলে খবর নাও করতে পারেন সাংবাদিকরা। কিন্তু প্রেস ক্লাব তো কোনও মালিকের নয়, সাংবাদিকদের। তাই প্রেস ক্লাব অনশনরত মহিলাদের শৌচালয় ব্যবহারের অনুমতি দিক। শৌচাগার পরিষ্কারের টাকা আগাম প্রেস ক্লাবকে দিতে রাজি তারা।

এদিকে, অনশন-মঞ্চ থেকে আজ পর্যন্ত কোনও লিখিত অভিযোগ মেলেনি বলে দাবি প্রশাসনের গড়া কমিটির।
পাঁচ সদস্য নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় কমিটি গড়ে দিয়েছেন গত শুক্রবার। তার দু’দিনের মধ্যে কমিটির কাছে নথি-সহ অভিযোগপত্র পেশ করবেন বলে জানিয়েছিলেন স্কুলশিক্ষকের পদপ্রার্থী অশনকারীরা। মঙ্গলবারেও লিখিত অভিযোগ জমা দিতে পারেননি তাঁরা। শিক্ষামন্ত্রীর পাঁচ সদস্যের কমিটিতে আছেন স্কুল সার্ভিস কমিশন বা এসএসসি-র চেয়ারম্যান সৌমিত্র সরকার। মঙ্গলবার তিনি বলেন, ‘‘স্কুলশিক্ষা দফতরের সচিব মণীশ জৈন-সহ আমরা পাঁচ সদস্য সোমবার ও মঙ্গলবার বেলা ১১টা থেকে বিকেল ৪টে পর্যন্ত ওঁদের (অনশনকারীদের প্রতিনিধি) জন্য অপেক্ষা করেছি। কিন্তু কেউ আসেননি।’’ সৌমিত্রবাবু জানান, অনশনকারীরা বলেছিলেন, ওই কমিটি গঠনের দু’দিনের মধ্যে অভিযোগ জমা দেওয়া হবে। শুক্রবার কমিটি গঠনের পরে চারদিন কেটে গেল। এখনও অনশনকারীদের তরফে কোনও অভিযোগ জমা পড়েনি।

এদিন সুবোধ মল্লিক স্কোয়ারে নতুন করে অনশনে বসেছেন আপার প্রাইমারির শিক্ষকপদের দাবিদার কয়েকশো তরুণ-তরুণী। এই আপার প্রাইমারিতে নিয়োগেও নানা দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। অনেকে প্যানেলে নাম থাকা সত্ত্বেও চাকরি পাননি বলে অভিযোগ। প্রতিবাদে তারাও অনশনের পথে হাঁটলেন। এদিন প্রেসক্লাবের অনশন মঞ্চে এসে আন্দোলনকারীদের প্রতি সংহতি জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গ পেনশনার্স অ্যাসোসিয়েশন, জীবনবিমা নিগম এবং বিএসএনএল কর্মচারী সমিতির প্রতিনিধিরাও।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here