‘সতীর্থ ‘অরুণ জেটলির প্রয়াণে দিল্লি ছুটে গেলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

0
381

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: অরুণ জেটলির প্রয়াণে গভীর শোকপ্রকাশ করেছেন মমতাবন্দ্যোপাধ্যায়৷ বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষিতে বিজেপির সঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের অবস্থান বিপরীত মেরুতে। সেখানে জেটলির শেষকৃত্যে যোগ দিতে মমতার দিল্লি ছুটে আসায় অনেকেরই মনে পড়ছে দুই নেতা নেত্রীর ব্যক্তিগত সুসম্পর্কের কথা। দু’দশক আগের বাজপেয়ী সরকারের মন্ত্রিসভায় সতীর্থ হিসাবে কাজ করার সময় থেকে আজ পর্যন্ত যা অমলিন।

অটল বিহারী বাজপেয়ী’র মন্ত্রিসভায় মমতা যখন রেলমন্ত্রী তখন তথ্য সম্প্রচার মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী জেটলি৷দুই রাজনীতিকের মধ্যে সখ্যের সূচনা সেই সময় থেকেই। জেটলি মোদী মন্ত্রিসভায় অর্থমন্ত্রী হওয়ার পর রাজ্যের বিশেষ আর্থিক অনুমোদনের জন্য একাধিকবার অরুণ জেটলির দ্বারস্থ হয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা৷ আমন্ত্রণ করে নিয়ে এসেছিলেন নবান্নেও৷২০১৪ সালের ২৪ অক্টোবর মমতার আমন্ত্রণে প্রথম নবান্নে পা রাখেন তৎকালীন অর্থমন্ত্রী জেটলি। সেদিন মুখোমুখি প্রায় ৪ ঘণ্টা বৈঠক করেন দুজনে। তার আগের বছর রাজ্য সরকারের বিশ্ব বাণিজ্য সম্মেলনে অরুণ জেটলিকে অতিথি করে এনেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ ওই মঞ্চে দাঁড়িয়ে সব রকম ভাবে রাজ্যের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী। পরবর্তী কালে বাংলায় বিজেপির উত্থান নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রবল আপত্তি থাকলেও দিল্লিতে তিনি গিয়েছেন প্রায় প্রত্যেকবারই দেখা করেছেন অরুণ জেটলির সঙ্গে৷ ২০১৬ সালে কলকাতার রেড রোডে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দ্বিতীয়বার রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানেও উপস্থিত ছিলেন জেটলি৷ শপথের পর মঞ্চেই একান্ত আলাপচারিতায় মেতে উঠতে দেখা গিয়েছিল দজনকে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদী সরকারের বিরুদ্ধে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্ষোভ-বিক্ষোভ থাকলেও অরুণ জেটলি ছিলেন তাঁর বিশেষ পছন্দের৷ দু’জনের মধ্যে সম্পর্ক এতটাই মধুর ছিল, রাজনৈতিক ময়দানে কখনই জেটলি অথবা মমতা দু’জন দু’জনের বিরুদ্ধে আক্রমনের পথে হাঁটেননি কখনও৷ এমনকী, রাজ্যের ঋণ বিষয়ক আলোচনার টেবিলে বসে সব সুষ্ঠু সমাধানের পথে হাঁটতে দেখা গিয়েছে তাঁদের৷এদিন সকালে অরুণ জেটলি প্রায়াণে সেই সম্পর্কের কথা তুলে ধরে বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ টুইটারে তিনি লেখেন, ‘অরুণ জেটলি প্রয়াণে আমি শোকস্তব্ধ৷ অসাধারণ সাংসদ ও আইনজীবী ছিলেন তিনি৷ ৷ ভারতীয় রাজনীতিতে তাঁর অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে ৷ তাঁর স্ত্রী, সন্তান, বন্ধু ও সমর্থকদের প্রতি আমার সমবেদনা৷’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here