মহানগর ওয়েবডেস্ক: করোনা মোকাবিলায় কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের করা লকডাউন সফল করতে অক্লান্ত পরিশ্রম করে চলেছেন পুলিশকর্মীরা। শুধু রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে মানুষকে ঘরে রাখা নয়, অনেক জায়গাতেই অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তাঁদের নিজেদের সাধ্যমত সাহায্য করতে দেখা গেছে উর্দিধারীদের। গরীব মানুষকে খাবার, বয়স্ক মানুষদের খাবার-ওষুধ পর্যন্ত পৌঁছে দিচ্ছেন পুলিশ কর্মীরা। এই পরিস্থিতিতে রাজ্যে লকডাউনের সপ্তাহ পূর্তিতে বাহিনীর মনোবল বাড়াতে উদ্যোগী হলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যিনি রাজ্যের পুলিশ মন্ত্রীও বটে। একই দিনে নীচু তলার পুলিশ কর্মীদের মনোবল বাড়াতে শহরের বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন কলকাতার নগরপাল অনুজ শর্মা।

মঙ্গলবার বিকেল পাঁচটা নাগাদ লালবাজারে উপস্থিত হন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে একটি সংক্ষিপ্ত বৈঠকের পর পুলিশ কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “নিজেদের পরিবারের কথা না ভেবে আপনারা যে কাজ করছেন, তার জন্য ধন্যবাদ”। একই সঙ্গে তিনি বলেন, পুলিশকে ভারসাম্য রক্ষা করে কাজ করতে হবে। “কড়াকড়ি চলবে কিন্তু বাড়াবাড়ি চলবে না”। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সবাই যাতে আইন মেনে চলে সে দিকটা দেখতে হবে। তবে তার জন্য বাড়াবাড়ি করা যাবে না। পুলিশকর্মীদের পাশাপাশি তাদের পরিবারও যেন সুস্থ থাকে সেই প্রার্থনা করেন তিনি। মোট ১৫মিনিট তিনি লালবাজারের থাকেন। পুলিশ কর্মীদের উদ্দেশ্যে বার্তা দেওয়ার পাশাপাশি কলকাতার পুলিশ কমিশনার অনুজ শর্মা সহ উচ্চপদস্থ পুলিশ আধিকারিকদের সঙ্গে একটি সংক্ষিপ্ত বৈঠক করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে এদিন তার লালবাজারে যাওয়ার প্রধান উদ্দেশ্য পুলিশকর্মীদের মনোবল বৃদ্ধি করা ছিল বলেই মত বিশেষজ্ঞ মহলের।

এদিন সকালে রাস্তায় নেমে লকডাউনের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখলেন কলকাতা পুলিশ কমিশনার অনুজ শর্মা। মঙ্গলবার সকালে প্রথমে তিনি যান হাজরা মোড়ে, সেখান থেকে গড়িয়াহাট হয়ে পার্ক সার্কাস। তাঁর সঙ্গে ছিলেন অন্যান্য পুলিশ আধিকারিকরাও। তাঁদের থেকে শহরের লকডাউনের পরিস্থিতির খবর নেন তিনি। দক্ষিণ কলকাতার গড়িয়াহাট মোড়ে আসেন কর্তব্যরত পুলিশ কর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন কলকাতার পুলিশ কমিশনার। তারপর সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দিতে বলেন মানুষ লকডাউন সম্পর্কে সচেতন হচ্ছেন। সাধারন মানুষ সরকারের ডাকা সাড়া দিয়েছেন । তবে এখনও কিছু মানুষ যে লকডাউন ভাঙছেন। পুলিশ সবাইকে বোঝাবার চেষ্টা করছে। বুঝিয়েই মানুষকে লকডাউন সফল করার চেষ্টা করা হচ্ছে। পুলিশ কমিশনার জানান, করোনা মোকাবিলায় মানুষকে আরও সচেতন হতে হবে। কোনও জায়গায় ভিড় বা দোকান খোলা থাকলে পুলিশ ব্যবস্থা নেবে। সংক্রমণ রুখতে পুলিশ মাইকিং করছে এবং নাকা চেকিং চলছে বলে এদিন জানিয়েছেন তিনি।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here