ডেস্ক: একদিকে যখন সুপ্রিম রায়ে বিপাকে পড়েছেন মোর্চা নেতা বিমল গুরুং, অন্যদিকে ঠিক তখন দীর্ঘ দিনের সম্পর্কের টানা পোড়েন কাটিয়ে সিকিমের মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সন্ধি করলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দুই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর বৈঠকের পর সাংবাদিক সম্মেলন করেন মমতা ও চামলিং। সেখানে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘সম্পর্কের তিক্ততা কাটিয়ে, এখন থেকে একে অপরের পাশে থাকবে দুই রাজ্য। আগে দুই রাজ্যের পরিবহণ ক্ষেত্রে যে সমস্যা ছিল তাও মিটে গিয়েছে এই বৈঠকে।’

প্রতিবেশী হলেও, দুই রাজ্যের সম্পর্কের তিক্ততা ছিল বহুদিনের। পর্যটন নির্ভর সিকিমের গাড়ি বাংলায় চলাচল বন্ধ হয়ে যাবে এই আশঙ্কায় তড়িঘড়ি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বৈঠকে বসতে শিলিগুড়ি আসেন পবন চামলিং। শুক্রবার উত্তরকন্যায় প্রায় ঘন্টা ঘানেক ধরে এক বৈঠক হয় দুই মুখ্যমন্ত্রীর। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সামনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘দার্জিলিং নিয়ে যা ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল তা আর নেই। এখন থেকে সিকিমকে সবরকম সহযোগিতা করবে রাজ্য। সিকিমও রাজ্যকে সবরকম সহযোগিতা করবে।’ এছাড়া মূল যে বিষয় নিয়ে এদিনের এই বৈঠক সে প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের রাজ্যের গাড়ি সিকিম যাবে। এবং সিকিমের গাড়িও পশ্চিমবঙ্গে আসতে কোনও বাঁধা নেই। এমনকি পরের বারের বাণিজ্য সম্মেলনে সিকিমের মুখ্যমন্ত্রী পবন চামলিংকেও আমন্ত্রণ জানানো হবে বলেও জানান তিনি।’

উল্লেখ্য, সিকিম ও পশ্চিমবঙ্গের চুক্তি অনুযায়ী বৈধ পারমিট নিয়ে সিকিমের গাড়ি বাংলায় চলাচল করতে পারে। ঠিক একইভাবে পশ্চিমবঙ্গের গাড়িও যেতে পারে সিকিমে। কিন্তু বাস্তব ক্ষেত্রে তা হয়না। পশ্চিমবঙ্গের গাড়িকে শুধুমাত্র গ্যাংটক পর্যন্তই যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়। ঠিক একইরকম চলে সিকিমের গাড়ির জন্য। যার ফলে পর্যটন নির্ভর সিকিমে মার খাচ্ছেন পর্যটন ব্যবসায়ীরা। এরই মাঝে উঠে আসে গুরুং ইস্যু। পাহাড়ের গণ্ডগোলের সময় সিকিমের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। গুরুংকে সিকিমে আস্তানা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে চামলিংয়ের বিরুদ্ধে। এই ঘটনার পর জিটিএর দায়িত্ব নিয়ে এপ্রিল থেকে জিটিএর পারমিট বিহীন গাড়ি এরাজ্যে ঢোকা বন্ধ করে দেন। পরিস্থিতি যে খারাপ দিকে যাচ্ছে বুঝতে পেরেই এদিন তড়িঘড়ি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে বসেন চামলিং। বৈঠকে পরিবহণ সমস্যা মিটলেও এদিনের সাংবাদিক বৈঠকে তাৎপর্যপূর্ণভাবে গুরুং ইস্যু সম্পূর্ণরুপে এড়িয়ে যান দুই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। তবে রাজনৈতিক মহলের মতে, ‘শুক্রবার বিমল গুরুংয়ের সুপ্রিম কোর্টে রাজ্যের বিরুদ্ধে করা মামলা খারিজ করে দিয়েছে শীর্ষ আদালত। তাতে প্রবল চাপে পড়েছেন এককালের ‘পাহাড়ের বাপ’। বিমলের দুর্দশার সময়ে যার ছায়ার নিজে ঘাঁটি গেড়েছিল বিমল গুরুং। সেই পবন চামলিংও মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়েছেন।’ বিমল নিয়েও এদিন চামলিংয়ের সঙ্গে মমতার কথা হয়েছে বলে জানা গেছে গোপন সূত্রে। সবমিলিয়ে ঘরে বাইরে একঘরে গুরুং গ্রেপ্তার শুধু সময়ের অপেক্ষা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here