FotoJet-3-6

ডেস্ক: বাবার পথ ধরেই বিজেপিতে নাম লেখাবেন ছেলেও! এমন জল্পনা চলছে কয়েকমাস ধরেই। কিন্তু শনিবার বারবেলায় যেন একধাক্কায় অনেকটাই বেড়ে যায় জল্পনা। প্রথমত, শর্তসাপেক্ষে নিজেই বিজেপিতে যোগ দেবেন বলে জানান তিনি। এরপরই তাঁর একটি ফেসবুক পোস্টে আন্দাজ করা যায় যে, তৃণমূলে ‘অগ্নিপরীক্ষা দিতে দিতে দেওয়ালে পিঠ ঠেকে গিয়েছে’ শুভ্রাংশুর। এই সব মিলিয়ে রাজনৈতিক মহলে জোর গুঞ্জন চলছে যে, দিনকয়েকের মধ্যেই হয়তো বিজেপিতে নাম লেখাবেন তিনি।

ছেলের দলবদল নিয়েই এদিনের সাংবাদিক বৈঠকে প্রশ্ন করা হয় মুকুল। মুখে সরাসরি স্বীকার না করে বিষয়টি এড়িয়ে যান তিনি। তবে বলাই বাহুল্য, অস্বীকারও করেননি মুকুল। বরং সুকৌশলি জবাবের মাধ্যমে প্রশ্নটি এড়িয়ে যান বঙ্গ রাজনীতির ‘চাণক্য’। শুভ্রাংশুর বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে মুকুল বলেন, ‘শুভ্রাংশু পরিণত ও সাবালক। জল্পনা তো অনেক কিছুই হতে পারে। মমতাও তো লাইন দিয়ে আছে।’ রাজনৈতিক মহলে এমনও জল্পনা যে, রাণাঘাটে নরেন্দ্র মোদীর সভা থেকে বিজেপি ঝাণ্ডা হাতে তুলে নেবেন শুভ্রাংশু। এই জল্পনাকে জল্পনাই রাখলেন মুকুল। এই বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তৃণমূল ত্যাগী নেতা বলেন, ‘এই প্রশ্ন শুভ্রাংশুকে করুন। সে দু’দুবার বিধায়ক হয়ে গিয়েছে।’

দিনদুয়েক আগেই অবশ্য ছেলের দলবদল নিয়ে একটি সাক্ষাৎকারে মুখ খুলেছিলেন মুকুল। ছেলের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, কয়েকদিন অপেক্ষা কর‍তে। মুকুলের এই সুকৌশলি জবাবে যে আদতে বেশ কিছু রাজনৈতিক সমীকরণ লুকিয়ে রয়েছে তা বুঝতে বিশেষ কষ্ট হয়নি কারোরই। অন্যদিকে, যে যাই বলুক, শুভ্রাংশু কিন্তু গলা ফাটিয়ে তৃণমূলের প্রার্থী দীনেশ ত্রিবেদীর হয়েই প্রচার করে যাচ্ছিলেন। দেওয়াল লিখন থেকে শুরু করে রোড শো, সব ক্ষেত্রেই আগাগোড়া তৃণমূলের পক্ষেই ছিলেন তিনি। কিন্তু, শনিবার শুভ্রাংশুর ফেসবুক পোস্ট ছাড়াও তাঁর আরেকটি মন্তব্য দলবদলের জল্পনায় কার্যত ঘি ঢেলে দেয়। শুভ্রাংশুকে বলতে শোনা যায়, ‘বিজেপি যদি কাঁচরাপাড়ার প্রস্তাবিত রেলের কোচ ফ্যাক্টরি তৈরি করে দেয় এবং সেখানে বীজপুরের যুবকদের জন্য ৩০ শতাংশ চাকরির কোটা রাখে, তা হলে বিজেপিতে যোগ দিতে আমি রাজি।’

শুভ্রাংশুর এই দুই মন্তব্যে কার্যত সাফ হয়ে যায়, তৃণমূল ছেড়ে তাঁর বিজেপিতে যোগ দেওয়া এখন কেবলই সময়ের অপেক্ষা। মুকুল রায় দলছাড়ার পর থেকেই অবশ্য তৃণমূলে খানিকটা কোণঠাসা হয়ে পড়েছিলেন শুভ্রাংশু। একাধিকবার নিজের বিশ্বাসযোগ্যতার প্রমাণও দিয়েছেন তিনি। কিন্তু কোথাও গিয়ে তা যেন কম পড়ে গিয়েছে। শুভ্রাংশুর ফেসবুক পোস্টেও সে কথা স্পষ্টভাবে বোঝা যায়। তিনি লেখেন, ‘অপমান হতে হতে দেওয়ালে ঠেকেছে পিঠ, অগ্নিপরীক্ষা দিতে দিতে হৃদয়টা পুরো ঝলসে গেছে’।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here