মহানগর ওয়েবডেস্ক: কথায় বলে পুলিশে ছুলে ১৮ ঘা। মার খেয়েছিলেন তিনি। একমাস হাসপাতালের বিছানায় দিন কাটাতে হয়েছিল তাঁকে। অভিযোগও দায়ের হয়েছিল দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে। তবে আদালতে বিচার এখনও শেষ হয়। দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে ধিমে তালে আজও চলছে মামলা। প্রচুর ব্যস্ততার মাঝে আজও সেদিনের বিভীষিকাময় ঘটনার কথা স্মরণ করে আদালতে উপস্থিত হতে হয় রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। কলকাতার হাজরা মোড়ে দুষ্কৃতীদের হাতে আক্রান্ত হওয়া সেই মামলাই এবার তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার আদালতে রাজ্যসরকারের তরফে জানিয়ে দেওয়া হল এই মামলা আর চালাতে চায় না সরকার।

সালটা ১৯৯০ সালের ১৬ আগস্ট। রাজ্যজুড়ে তখন সিপিএমের দাপট। বাম সরকারের বিরুদ্ধে সরব হয়ে হাজরা মোড়ে এক মিছিলে হাঁটছিলেন তৎকালীন যুব কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অতর্কিতে সেই মিছিলে হামলা চালায় দুষ্কৃতীরা। হামলার জেরে আক্রান্ত হন তৎকালীন যুব কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মাথায় গুরুতর আঘাত নিয়ে একমাস হাসপাতালে ভর্তি হতে হয় তাঁকে। ঘটনায় অভিযোগের আঙুল ওঠে তৎকালীন সিপিএম ঘনিষ্ঠ লালু আলম ও তাঁর সঙ্গীদের বিরুদ্ধে। দীর্ঘ দিন ধরে চলা এই মামলায় ১২ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট পেশ করে পুলিশ। তবে ৩০ বছর সময়টা অনেক। আর সেই হিসাবে বুধবার সরকারী আইনজীবী রাধাকান্ত মুখোপাধ্যায় আদালতে জানান এই মামলাটি তুলে নিতে চায় রাজ্যসরকার। কারণ অভিযুক্তদের একজন ছাড়া আর কেউ জীবিত নেই। বেশিরভাগ সাক্ষীই মারা গিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী নিজেও চান না এই মামলা চলুক। তাঁর পক্ষেও আর সাক্ষ্য দিতে আসা সম্ভব হচ্ছে না। অভিযুক্ত লালু আলমের তরফেও সরকারের এই সিদ্ধান্তে কোনও আপত্তি নেই বলে জানা গিয়েছে।

Image result for mamata attack at hazra

যদিও আদালতের তরফে এই বিষয়ে এখনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। বুধবার এই মামলার রায় দেননি বিচারক। আগামী ৩ সেপ্টেম্বর রায়ের দিন ধার্য্য করা হয়েছে। এদিকে, বুধবার ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে মামলায় মুখ্যমন্ত্রীর সাক্ষ্য গ্রহণের কথা ছিল। অভিযুক্তের আইনজীবীদের তরফেও মমতাকে জেরা করা বাকি। এরই মাঝে রাজ্য সরকারের তরফে এই মামলা তুলে নেওয়ার আবেদন পেশ করা হল আদালতে। সরকারীভাবে দাবি করা হয়েছে এই মামলায় আশাপ্রদ ফল পাওয়া যাবে বলে মনে হয় না। কারণ ৩০ বছরে অনেক কিছুই শেষ হয়ে গিয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here