Parul

নিজস্ব প্রতিনিধি বাঙালি আবেগ উসকে দিতেই সৌরভের বাড়িতে ছুটলেন মুখ্যমন্ত্রী! অন্তত বিজেপির একাংশের দাবি তেমনই। এঁদের মতে, নিছক সৌজন্যের আড়ালে সুকৌশলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দিয়ে দিলেন রাজনীতির দুর্লভ চাল!

ads

তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বরাবরই সৌজন্য বোধ সম্পর্কে যথেষ্ঠ সচেতন। মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পরে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য অসুস্থ শুনে তৎক্ষণাৎ তাঁকে দেখতে ছুটেছিলেন মমতা। পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছিলেন বুদ্ধ-জায়া মীরাকে। মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার আগেও আর এক প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী প্রয়াত জ্যোতি বসুর সঙ্গে দেখা করতে সল্টলেকে ইন্দিরা ভবনে গিয়েছিলেন মমতা। তাঁর পায়ে হাত দিয়ে প্রণামও করেন। বিমান বসুরা মহাকরণে তাঁর সঙ্গে দেখা করতে গেলে ফিশফ্রাই সহযোগে চা খাইয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা। তা নিয়ে বামেদের অন্দরে বিতর্ক কিছু কম হয়নি। প্রশংসাও জুটেছে। তবে বিরোধী দলের নেতাদের প্রতি সৌজন্য দেখানোয় মমতা যে একটা দৃষ্টান্ত তৈরি করেছেন, তা মেনে নিয়েছেন বামেদেরই একটা বড় অংশ।

আজ, বৃহস্পতিবারের বারবেলায় ফের একবার সেই সৌজন্যেরই নজির গড়লেন মমতা। এদিন ছিল প্রাক্তন ক্রিকেটার তথা বিসিসিআই প্রেসিডেন্ট সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের ৪৯তম জন্মদিন। এদিন দুপুরে হঠাতই নবান্ন থেকে বেরিয়ে মমতা চলে যান সৌরভের বেহালার বাড়িতে। হদুল গোলাপ দিয়ে শুভেচ্ছা জানান প্রাক্তন ক্রিকেটারকে।

চর্মচক্ষে একে নিছক সৌজন্য বলে ধরাই যেতে পারে। তবে বিজেপির একটি সূত্রের দাবি, হলুদ গোলাপ দিয়ে মমতা কার্যত বন্ধুত্বের বার্তাই দিয়ে রাখলেন। কারণ, একুশের নির্বাচনের আগে সৌরভকে মুখ্যমন্ত্রী প্রজেক্ট করে বিজেপি ভোটে লড়বে বলে জল্পনা ছড়ায়। সে খবর পেয়ে সৌরভকে নিরস্ত করতে শিলিগুড়ি থেকে ছুটে এসেছিলেন বাম নেতা অশোক ভট্টাচার্য। এদিন সৌরভের বাড়িতে গিয়ে মমতা শুধু যে বন্ধুত্বের বার্তা দিলেন তাই নয়, কৌশলে উসকে দিলেন বাঙালি আবেগও। যে আবেগের নাম সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। যে আবেগের পানশিতে ভেসে বিপুল জয় পেয়েছেন একুশের বিধানসভা নির্বাচনে।  

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here