kolkata news

মহানগর ওয়েবডেস্ক: মতুয়া ভোট নিয়ে দড়ি টানাটানির লড়াইটা শুরু হয়েছিল সেই লোকসভা নির্বাচন থেকেই। একদিকে তৃণমূলের মমতাবালা ঠাকুর ও অন্যদিকে বিজেপির শান্তনু ঠাকুর। হাড্ডাহাড্ডি সে লড়াইয়ে তৃণমূলকে গো-হারা হারিয়েছিল বিজেপি। সে সব আজ কিছুটা অতীত হলেও এনআরসি নিয়ে নয়া দ্বন্দ্ব শুরু হল বড়মার ঘরে। সোমবার লোকসভায় বিপুল ভোট পেয়ে পাশ হয়ে গিয়েছে নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল। তার প্রেক্ষিতে এদিকে এনআরসির বিরোধিতায় কলকাতায় মতুয়াদের সামনে রেখে ধর্ণায় বসেছে তৃণমূল। যে অবস্থানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। কিন্তু সেই অনুষ্ঠানেই আশ্চর্যজনকভাবে অনুপস্থিত থাকলেন সর্বভারতীয় মতুয়া মহাসংঘের সংঘাধিপতি মমতাবালা ঠাকুর।

মঙ্গলবার ধর্মতলায় গান্ধী মূর্তির সামনে মতুয়াদের সঙ্গে নিয়ে তৃণমূলের এই ধরনায় মমতাবালার অনুপস্থিতি বেশ গাড় ভাবে নজরে এসেছে সবারই। যার জেরে উঠে আসছে মতুয়া সম্প্রদায়ের মধ্যে ভাঙনের স্পষ্ট ইঙ্গিত। যদিও এই প্রসঙ্গে, জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের দাবি, মমতা ঠাকুর অসুস্থ তাই তিনি আজ আসবেন না। কিন্তু উনি আমাদের সঙ্গেই রয়েছেন। আগামীকাল একবার আসার চেষ্টা করবেন উনি। তবে এই টুকুতে চিড়ে ভিজছে না। কারণ, নিজের অনুপস্থিতির ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে মমতাবালা ঠাকুর নিজেই জানিয়েছেন, এদিন ধর্মতলায় যে কর্মসূচি পালিত হয়েছে ওই কর্মসূচি তাদেরই কিনা সেটাই জানেন না তিনি। পাশাপাশি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ধর্ণা কর্মসূচির বিষয়ে কোনও কিছুই জানেন না মমতাবালা। ফলস্বরূপ, ‘ডাল মে কুছ কালা হে’ এটা বেশ বুঝতে পারছে রাজনৈতিক মহল। এমন পরিস্থিতিতে অবশ্য ঝোপ বুঝে কোপ মারতে তৈরি বিজেপিও।

এপ্রসঙ্গে রাজনৈতিক মহলের দাবি, লোকসভা নির্বাচনে ইতিমধ্যেই দুভাগে ভাগ হয়েছে মতুয়া সঙ্গ। এবার এনআরসি ইস্যুতেও যদি একই রকমভাবে মতুয়াতে ভাঙন ধরে তবে একুশের বিধানসভার আগে তা বেশ চিন্তার হবে তৃণমূলের কাছে। প্রসঙ্গত, নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলের সঙ্গে মতুয়া যোগ বেশ ভালরকম রয়েছে। কারণ মতুয়ারা হলেন, বাংলাদেশ থেকে আসা নমঃশূদ্র জাতি। ফলে এদেশের নাগরিকত্ব তাঁদের দীর্ঘদিনের দাবি। এদিকে উদ্বাস্তুদের কাছে টেনে বিজেপির তরফে প্রচার চালানো হচ্ছে ক্যাবের মাধ্যমে নাগরিকত্ব দিচ্ছে বিজেপি সরকার। ফলস্বরূপ মতুয়াতে বেশ বড়সড় ভাঙনের ইঙ্গিত পাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। মঙ্গবারের ধর্ণাতে উপস্থিত না থেকে সেই শঙ্কাতেই বাড়তি ইন্ধন দিয়ে দিলেন মহাসংঘের সংঘাধিপতি মমতাবালা ঠাকুর।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here