bengali news

 

মহানগর ডেস্ক: হুগলি জেলার সদর চুঁচুড়া বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী অসিত মজুমদারকে নিয়ে প্রথম থেকেই দলীয় স্তরে ক্ষোভ-বিক্ষোভ ছিল৷ তাতে কর্ণপাত না করেই পুনরায় তৃতীয়বার অসিত মজুমদারকে প্রার্থী করায় মূলস্রোতের আদি তৃণমূলীদের ক্ষোভের বর্হিপ্রকাশ তীব্র আকার নিল কাল মঙ্গলবার৷ এদিন এখানেই মমতার সভা ছিল৷ কিন্তু মমতা ব্যানার্জি মঞ্চে উঠে জানতে পারেন আদি তৃণমূলীরা অভিমানে তাঁর সভা বয়কট করেছে৷ ফলে মমতার জনসভা সুপার ফ্লপ হয়ে যায় এদিন৷ জানা যায়, মেরেকেটে মমতার চুঁচুড়ার সভায় বড়জোর হাজার দুয়েক লোক হয়৷ অর্থাৎ অর্ধেক মাঠই ফাঁকা ধূ ধূ করতে থাকে৷ এমতাবস্থায় মমতার চোখে-মুখে বিরক্তির ছাপ স্পষ্ট দেখা যায়৷ অগত্যা ১৫ মিনিট পরেই সভামঞ্চ ছেড়ে চলে যান তৃণমূল সুপ্রিমো৷

জানা যায়, এখানকার ঘাসফুল প্রার্থী অসিতের বিরুদ্ধে দলীয়স্তরে কাটমানি, তোলাবাজির মতো গুরুতর সব অভিযোগ ছিল৷ স্থানীয় তৃণমূলী কর্মী-সমর্থকদের দাবি, একদা মমতা নিজেই অসিতকে কাটমানি-তোলাবাজির জন্য ধমক দিয়েছিলেন৷ তাহলে তারপরেও কেন সেই দুর্নীতবাজ অসিতকেই প্রার্থী করা হল? এদিন মমতা সভা ছেড়ে চলে যাওয়ার পর তড়িঘড়ি বৈঠকে বসেন অসিত বিরোধী গোষ্ঠীর লোকজন৷ তারা সিদ্ধান্ত নেন, অসিতকে লক্ষাধিক ভোটে হারাতে হবে৷ তার পরাজয় যেন কেউ আটকাতে না পারে, এই মর্মে অঙ্গীকার করেন তাঁরা৷ এই গোষ্ঠীর তরফে আদি তৃণমূলীদেরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে অসিতকে হারাতে বিজেপি অথবা নোটায় ভোট দেওয়ার জন্য৷ চুঁচুড়ার বিজেপি প্রার্থী সাংসদ লকেট চ্যাটার্জি বলেন, তৃণমূল প্রার্থী অসিত মজুমদার যে কতবড় মাপের তোলাবাদ ও দুর্নীতিবাজ, তা লোকের মুখে মুখে ফিরছে৷ বিজেপি শিবিরের দাবি, গত ১০ বছরে অসিতবাবু যে পাহাড়প্রমাণ দুর্নীতি করেছেন, তার জন্য ভোটের পর নিশ্চিত হারবেন এবং ইডি তাঁকে গ্রেফতার করবেই৷ এটাই তাঁর একমাত্র ভবিতব্য৷

উল্লেখ্য, চুঁচুড়া এলাকায় সম্প্রতি তৃণমূলের একাংশ এক লিফলেট বিলি করে৷ যাতে লেখা ছিল, ’ইডি-র নজরে আছেন অসিত মজুমদার ও তাঁর ঘনিষ্ঠ কয়েকজন৷’ এ ছাড়াও লেখা হয়েছে অসিত মজুমদার গত ১০ বছরে একাধিকবার বিদেশ সফর করেছেন। তার সঙ্গী ছিলেন চুঁচুড়া বিধানসভার অন্তর্গত বেশকিছু পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য ও পঞ্চায়েত প্রধান। ওই সফরে কয়েক কোটি টাকা খরচ হয়েছে। কারা কারা এই বিদেশ সফর করেছিলেন, তাদের পাসপোর্ট ও ভিসা পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে’। এই লিফলেট সামনে আসতেই চাঞ্চল্য ছড়ায় গোটা চুঁচুড়া এলাকায়। তবে কারা এই লিফলেট ছড়িয়েছেন তা জানা যায়নি। কারও নাম উল্লেখ নেই সেখানে।

​লিফলেটের শেষদিকে বলা হয়েছে, ‘এবারে বিধানসভা ভোটে যে হলফনামা দিয়েছেন অসিত মজুমদার, তাতে দেখা গিয়েছে ২০১৬ সালের তুলনায় তার এবং তার স্ত্রীর সম্পত্তির পরিমাণ বেড়েছে অনেক গুণ। গত পাঁচ বছরে কী করে তার এত সম্পত্তি বাড়লো, সেই বিষয়টিও ইডি নজরে রাখছে বলে বলা হয়েছে। ভোটের আগে তার বিরুদ্ধে এই যে লিফলেট ছড়ানো হয়েছে, তাতে অসিত মজুমদার বেশ বেকায়দায় পড়েছেন বলে মত এলাকাবাসীর।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here