kolkata bengali news

নিজস্ব প্রতিবেদক, মেদিনীপুর: গরু চরানোর দখলদারি নিয়ে আদিবাসীদের সালিশি সভায় পিটিয়ে মারা হল এক প্রৌঢ়কে। আর কোনওক্রমে জঙ্গলে ঢুকে প্রাণ বাঁচালেন তাঁর স্ত্রী ও ছেলে। মর্মান্তিক এই ঘটনাটি ঘটেছে পশ্চিম মেদিনীপুরের গুড়গুড়িপাল থানার অন্তর্গত বেড়া গ্রামে। পুলিশ জানায়, মৃতের নাম কান্ত হেমব্রম (৫৭)। তাঁকে পিটিয়ে মারার ৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বেড়া গ্রামের সামান্য জমির মালিক কান্ত হেমব্রম ও তাঁর স্ত্রী আলমুনি হেমব্রম। তাঁরা জমিতে লোকের গরু চরিয়েই দিনাতিপাত করেন। তাঁদের এক কিশোর ছেলেও রয়েছে। হেমব্রম দম্পতি কেবল বেড়া গ্রাম বয়, পার্শ্ববর্তী বাঘমরা গ্রামের বাসিন্দাদেরও গরু চড়ান। সেজন্য আগেই তাঁদের গ্রাম থেকে বিতাড়িত করা হয়েছে। আদিবাসী মোড়লদের নির্দেশে গত সাত বছর ধরে গ্রামের বাইরে মাঠের প্রান্তে একটি চালাঘর করে বসবাস করেন ওই দম্পতি। কিন্তু বুধবার সেখানেও বাধ সাধে মোড়লরা। তারা হেমব্রম দম্পতিকে বুধবার রাতে গ্রামের সালিশি সভায় ডেকে আনে এবং বাঘঘরা গ্রামের গরু চরাতে নিষেধ করে। সালিশি সভার সেই নির্দেশ শিরোধার্য না করে প্রতিবাদ করেন কান্ত হেমব্রম। তিনি জানান, গরু না চরালে তাঁরা সকলে না খেতে পেয়ে মারা পড়বে। তাই তিনি একথা মানতে পারবেন না। কান্ত হেমব্রমের কাছে এধরনের জবাব আশা করেননি মোড়লরা। ক্ষুব্ধ হয়ে তারা সালিশি সভার মধ্যে কান্তকে মারধর করার নির্দেশ দেয়। এরপর সালিশি সভায় উপস্থিত গ্রামবাসীরা লাঠি, কুঠার দিয়ে কান্তকে বেধড়ক মারধর করতে শুরু করে। পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে ছেলেকে নিয়ে আলমুনি কোনওক্রমে পালিয়ে যান এবং স্বামীকে বাঁচানোর আর্জি জানিয়ে পাশের গ্রামের এক সিভিক পুলিশকর্মীকে খবর দেন। তারপর ওই সিভিক পুলিশ মারফত খবর পেয়ে রাতেই স্থানীয় থানার পুলিশ বেড়া গ্রামের সালিশি সভায় যায়। কিন্তু ততক্ষণে সব শেষ! পুলিশ সালিশি সভাস্থল থেকে কান্ত হেমব্রমের নিথর দেহ উদ্ধার করে। তবে অভিযুক্তরা রেহাই পায়নি। গ্রামের চার আদিবাসী মোড়লকেও গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

উল্লেখ্য, বেড়া গ্রামের বেশিরভাগ আদিবাসী দিনমজুর। এদের মধ্যে অনেকেই আবার পাশাপাশি গ্রামের অবস্থা সম্পন্ন কৃষকদের গরু মাঠে চরিয়ে রোজগার করেন। সেই গরু চরানোর কর্তৃত্ব নিয়েই হেমব্রম দম্পতি গ্রামের আদিবাসী মোড়লদের রোষে পড়েন। কান্ত হেমব্রমের আত্মীয় ধনিরাম সরেন বলেন, ‘গরু চরানোর দখলদারি নিয়ে হিংসাবশত এই আক্রমণ করা হয়েছে। কান্ত অনেকের গরু চরাত এবং সেখান থেকে ভাল রোজগার করত। তাই হিংসা করে ওর উপর এই আক্রমণ। সাত বছর ধরে গ্রামছাড়া করে রাখার পর এবার প্রানে মেরে ফেলল।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here