national news

মহানগর ওয়েবডেস্ক: দেশজুড়ে আনলক প্রক্রিয়া শুরু হলেও এখনও চালু হয়নি রেল পরিষেবা৷ বাসের সংখ্যাও কম৷ এদিকে স্ত্রী ঝাড়খন্ড থেকে মধ্যপ্রদেশে পরীক্ষা দিতে যাবেন স্কুল শিক্ষকের৷ কিন্তু যাবেন কীভাবে? উপায় বের করলেন স্বামীই৷ স্কুটারে স্ত্রীকে চাপিয়ে ১২০০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করলেন স্বামী৷ স্ত্রীকে পৌঁছে ছিলেন পরীক্ষা কেন্দ্রে৷ ভালোবাসা ও দায়িত্ববোধের এমন অভূবপূর্ব উদাহরণের সাক্ষী থাকল ঝাড়খন্ড৷

বছর সাতাশের ধনঞ্জয় কুমারের স্ত্রী সোনি হেমব্রম৷ আদিবাসী এই দম্পতি ঝাড়খন্ডের গোড্ডা জেলার বাসিন্দা৷ সোনিদেবীকে ডিএড পরীক্ষা দিতে যেতে হত মধ্যপ্রদেশের গোয়ালিয়রে৷ তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে এক রাজ্য থেকে অন্য রাজ্যে যাওয়াটা বেশ কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে৷ তার ওপর সোনিদেবী অন্তঃসত্ত্বা৷ তাই স্ত্রীকে স্কুটারে করেই মধ্যপ্রদেশে নিয়ে গেলেন ধনঞ্জয়৷

ধনঞ্জয় জানিয়েছেন, নিজের স্ত্রীকে স্কুলের শিক্ষিকা হিসেবে দেখতে চান তিনি৷ ১২০০ কিলোমিটারেরও বেশি পথ অতিক্রম করতে হয় দম্পতিকে৷ প্রায় চার রাজ্য পেরিয়ে মধ্যপ্রদেশ পৌঁছন দম্পতি৷ কোথাও অতিবৃষ্টির কারণে জলে ডুবে রয়েছে রাস্তা তো কোথাও খানা খন্দে ভরে গিয়েছে পথ৷ তবে সব বাধা উপেক্ষা করেই তারা পৌঁছন তাদের গন্তব্যে৷ প্রথম প্রথম অন্তঃস্বত্ত্বা সোনিদেবী এতটা পথ স্কুটারে চেপে যেতে চাননি৷ তবে স্বামীর মনের জোর দেখে রাজী হয়ে যান তিনিও৷

ধনঞ্জয় বাবু জানিয়েছেন, এই পরিস্থিতিতে যদি ট্যাক্সি ভাড়া নিতে যেতাম তাহলে ৩০ হাজার টাকা লাগত যা আমাদের সামর্থ্যে কুলাতো না৷ আমাদের কাছে সামান্য কিছু গয়না ছিল যা বন্দক রেখে ১০ হাজার টাকা জোগার করি আমরা৷ তিনি আরও জানান, এক মধ্যে ৫ হাজার টাকা আমাদের যাওয়ায় ও থাকায় খরচা হয়েছে৷

সোনিদেবী জানিয়েছেন, ‘এতটা পথ যেতে গিয়ে অনেক সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় আমাদের৷ বৃষ্টিতে ভেজার কারণে জ্বরও এসেছিল আমার৷ তবে এখন সব ঠিক আছে৷ আমি আশা করছিল আমি পরীক্ষায় নির্বাচিত হবই’৷

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here