মহানগর ওয়েবডেস্ক: গত লোকসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের অন্যতম অস্ত্রই ছিল রাফালে চুক্তির অস্বচ্ছতা। চুক্তিটি যখন সম্পাদিত হয় তখন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ছিলেন মনোহর পর্রিকর। তিনি সেই চুক্তির আদ্যপান্ত জানবেন সেটাই স্বাভাবিক। কিন্তু দেশের রাজনীতি যখন সেই চুক্তি নিয়ে উত্তাল তখন অসুস্থ পর্রিকর ছিলেন আশ্চর্যরকম নীরব। তারই মধ্যে কংগ্রেসের মুখপাত্র রনদীপ সুরজেওয়ালা  গোয়ার স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে উদ্ধৃত করে দাবি করেছিলেন, রাফাল চুক্তির আসল ফাইলটি রয়েছে তৎকালীন গোয়ার মুখ্যমন্ত্রীর শোওযার ঘরে। কিন্তু সত্যিই কি ফাইলটি জীবনের শেষ ক’টা দিন পর্রিকর তাঁর একান্ত নিজস্ব কোনও জায়গায় সরিয়ে রেখেছিলেন?

কেন্দ্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী, পরবর্তী সময়ে গোয়ার মুখ্যমন্ত্রী মনোহর পর্রিকরের জীবনী কয়েকদিনের মধ্যেই প্রকাশিত হতে চলেছে। প্রবীণ সাংবাদিক সদগুরু পাতিল তাঁর আসন্ন প্রকাশিত গ্রন্থ ”অ্যান এক্সট্রাঅর্ডিনারি লাইফ”–এ জানাতে চলেছেন মনোহর পর্রিকর সম্পর্কে অজস্র অজানা তথ্য। বাস্তবিকই তৎকালীন প্রতিরক্ষামন্ত্রীর শোওয়ার ঘরে রাফাল চুক্তির কোনও ফাইল ছিল না। চুক্তির সমস্ত তথ্যই ছিল গোয়ার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর স্মৃতিতে। ওনার কাছে সমস্ত তথ্য রয়েছে এই কথা ওনার অনুগামীদের বলায় অনেকেই ধরে নিয়েছিলেন তথ্যবন্দি ফাইলটি ছিল পর্রিকরের নিজস্ব জিম্মায়।

কেন তিনি সেই তথ্য প্রকাশ্যে আনছেন না, যখন সারা দেশের রাজনীতি তোলপাড় হচ্ছে ওই একটি প্রশ্নে, জিজ্ঞাসা করায় প্রাক্তন প্রতিরক্ষামন্ত্রী গোয়ার মন্ত্রীদের জানিয়েছিলেন অরুণ জেটলি সহ বিজেপি’র সমস্ত নেতারাই যখন সরকারের বয়ান জানাচ্ছেন এবং কেউই তাঁর কাছে সংশয় দূর করার জন্য অনুরোধ করেননি তখন তিনি আগ বাড়িয়ে জনসমক্ষে তাঁর কথা বলবেন না।

তৎকালীন অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি’র সঙ্গে পর্রিকরের সম্পর্কটি মোটেই ভালো ছিল না। ”এক পদ এক ভাতা” নিয়ে অর্থমন্ত্রীর টালবাহানা তিনি সহজ ভাবে মেনে নিতে পারেননি। দিল্লির পরিবেশও ছিল প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর না–পসন্দ। কোনওদিনই তিনি রাজধানীর দরবারি সংস্কৃতির সঙ্গে অভ্যস্ত হতে পারেননি। তাছাড়া শহরের দূষণ, গোয়ার মাছের দুষ্প্রাপ্যতাও ছিল দিল্লিকে পছন্দ না করার অন্যতম কারণ। কোনওদিন তিনি দিল্লির মাছের বাজার থেকে মাছ কেনেননি। গোয়ার বিধায়ক কার্লোস আমেলিয়া দিল্লি গেলে মন্ত্রীর জন্য গোয়া থেকে টাটকা মাছ নিয়ে যেতেন। তিনবার অনুরোধের পর খুবই নিস্পৃহ ভাবে তিনি কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর পদ গ্রহণ করেছিলেন।

দিল্লিতে পর্রিকর ছিলেন বন্ধুহীন। ব্যক্তিগত জীবনেও তিনি খুব ‘নিঃসঙ্গ’ ও ‘ক্লান্ত’ বোধ করতেন। অরুণ জেটলি’র সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি ও নিঃসঙ্গতা তাঁকে দিল্লির প্রতি বীতশ্রদ্ধ করে তুলেছিল। কোনও বন্ধুবান্ধব তাঁর কাছে এলে নিজের সরকারি বাসভবনে না রেখে তিনি তাঁদের গেস্ট হাউসে রাখতেন কারণ তাঁর দায়িত্ব যে অতিমাত্রায় সংবেদনশীল সে বিষয়ে তিনি পূর্ণ সচেতন ছিলেন। কাজ পাগল এই মানুষটির জীবনী একটি ”সৎ রাজনৈতিক জীবনী” বলে দাবি করেছেন গ্রন্থের লেখক সদগুরু পাতিল।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here