বিবিধ ভাষা ভারতের দুর্বলতা নয়, ট্যুইটে জানালেন রাহুল

0
246
Rahul-Gandhi-696x392

মহানগর ওয়েবডেস্ক: হিন্দি ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা হিসাবে প্রথম স্বীকৃতি দিয়েছিলেন কংগ্রেসি প্রধানমন্ত্রী জওহর লাল নেহরু৷ তখন থেকেই এই নিয়ে অ-হিন্দিভাষী বিশেষ করে দাক্ষিণাত্যের রাজ্যগুলির সঙ্গে সংঘাত লেগেই আছে কেন্দ্রের৷ গত শনিবার হিন্দি দিবসে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তথা বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহর একটি বক্তব্য ফের ভাষিক সমস্যার আগুনে ঘি ঢালল৷ ফের ভাষা নিয়ে উত্তাল হল বাংলা থেকে দক্ষিণ ভারত৷ সেই বিতর্কে মুখ খুললেন কংগ্রেসের প্রাক্তন সভাপতি রাহুল গান্ধী৷ তিনি ট্যুইট করে বলেছেন, বহু ভাষা এই দেশের দুর্বলতা নয়। ট্যুইটারে বাংলা সহ ২৩টি ভাষার তালিকা দিয়েছেন রাহুল। প্রতিটি ভাষার পাশে একটি করে জাতীয় পতাকা।

কংগ্রেস যে হিন্দিকেই রাষ্ট্রভাষা হিসাবে মান্যতা দেয়৷ তা এই পরিস্থিততে কংগ্রেস নেতা রাজীব শুক্ল স্পষ্ট জানান৷ তাঁর কথায়, ‘হিন্দি ভারতের সরকারি ভাষা, আমরা চাই তার শ্রীবৃদ্ধি হোক কিন্তু অন্যান্য আঞ্চলিক ভাষাগুলিকেও গুরুত্ব দিতে হবে, ভাষা নিয়ে লড়াই কাম্য নয়। হিন্দির উন্নতি হোক কিন্তু জোর করে, চাপ দিয়ে নয়।’ শুধু রাজনীতির কথা ভেবে এই ইস্যু ব্যবহার করা উচিত নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি। উল্লেখ্য দেশের ৪৪ শতাংশ মানুষ হিন্দি ভাষায় কথা বলেন৷ এবার এই হিন্দির  মধ্যেও আছে রাজস্থানি, মাগধি, ভোজপুরী সহ বিভিন্ন রকমের উপ ভাষা৷ অ-হিন্দিভাষীদের বহুকালের দাবি, যে ভাষায় দেশের অন্তত ৫০ শতাংশর বেশি মানুষ কথা না বলেন সেই ভাষাকে কোন যুক্তিতে রাষ্ট্রভাষা করা হয়েছে? তাঁদের এই প্রশ্নের উত্তর কেন্দ্রের কোনও সরকারই দিতে পারেনি৷ রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘ(আরএসএস) সহ গেরুয়া শিবিরের দীর্ঘদিনের আজেন্ডা এক দেশ, এক ভাষা৷ এর ওপর তাদের রাজনীতির ভিত্তি- হিন্দি, হিন্দুত্ব, হিন্দুস্থান৷ আর এই লক্ষ্যে দেশজুড়ে হিন্দিকে জোর করে চাপিয়ে দিতে মরীয়া হয়ে উঠেছে মোদী সরকার৷ অমিতের কথায় তারই প্রতিধ্বনি শোনা গিয়েছে৷ ফলে দেশজুড়ে রাজনৈতিক ও ভাষিক সংগঠনগুলি হিন্দি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে সোচ্চার হয়ে উঠেছে৷

কংগ্রেসকে চিরকাল তিন ভাষার ফরমুলা মেনে চলেছে৷ তা হল ইংরাজি ও হিন্দির সঙ্গে রাজ্যের প্রধান ভাষাকে সরকারি কাজে ব্যবহার করতে হবে৷ এই ফর্মুলা মানতে রাজ্যগুলির কোনো সমস্যা দেখা যায়নি৷ ব্যতিক্রম অবশ্য দাক্ষিণাত্য৷ সেখানে হিন্দির প্রবেশ কড়াভাবে নিষেধ৷ কংগ্রেসের বক্তব্য, এই ফর্মুলা দেশের বৈচিত্র্য ও অখণ্ডতাকে অক্ষুন্ন রাখে৷ তাই এই নিয়ম পাল্টানো ঠিক নয়৷ সেই সঙ্গে কংগ্রেসের অভিযোগ, সংবিধান প্রণেতারা যে সমস্যার সমাধান করে যান, তা খুঁচিয়ে তোলা উচিত নয় ৷১৯৬৩-র অফিসিয়াল ল্যাঙ্গুয়েজেস অ্যাক্ট অনুযায়ী হিন্দি ও ইংরেজি কেন্দ্রীয় সরকার ও সংসদের সরকারি ভাষা। আর সংবিধানের অষ্টম ধারা অনুযায়ী সব মিলিয়ে ২২টি ভাষা স্বীকৃতি পেয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here