মহানগর ওয়েবডেস্ক: ভারতের সঙ্গে নেপালের বন্ধুত্ব যে কেবল ‘লোক দেখানো’, তা ক্রমেই স্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে। সম্প্রতি নেপালের স্কুলে তাদের দেশের যে মানচিত্র প্রকাশ করা হয়েছে, যেখানে ভারতের তিনটি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এলাকা নিজেদের বলে দেখিয়েছে কাঠমান্ডু। নয়াদিল্লির সঙ্গে বিগত কয়েক মাস যাবত চলতে থাকা সীমান্ত উত্তেজনার মধ্যেই নেপাল যে দুঃসাহস দেখাচ্ছে, তা চোখ এড়িয়ে যায়নি ভারতেরও। বস্তুত, চিনের সমর্থনকে হাতিয়ার করেই যা তারা এতটা ডানা মেলতে পারছে, সেটাও একপ্রকার অকথিত সত্য বলেও ধরে নেওয়া যেতে পারে।

উল্লেখ্য, ভারতের লিপুলেখ, কালাপানি ও লিম্পিয়াধুরাকে নিজেদের এলাকা ঘোষণা করে ইতিমধ্যেই নিজেদের সংসদে নতুন মানচিত্র প্রকাশ করেছে নেপাল। যদিও ভারতের তরফে তা অস্বীকার করা হয়। তবে নেপাল মানচিত্র একগুয়ে থাকছে। স্কুলপাঠ্যে তা শামিল হওয়ার পর এই বিষয়টি কার্যত সিলমোহর পড়ে গিয়েছে বলা চলে।

সংবাদ সংস্থা পিটিআই সূত্রে জানা গিয়েছে, নেপালের শিক্ষামন্ত্রক সম্প্রতি তাদের সংশোধিত মানচিত্র সহ নতুন পাঠ্যবই প্রকাশ করেছে। ‘নেপালের অঞ্চল এবং সীমান্ত সংক্রান্ত বিষয়গুলি পাঠ’ শীর্ষক পাঠ্যপুস্তকে। নবম ও দশম শ্রেণীর পাঠ্যের জন্য এই বই ছাপানো হয়েছে। যার সম্পাদকীয় লিখেছেন খোদ নেপালের শিক্ষামন্ত্রী গিরিরাজ মানি পোখারেল।

প্রসঙ্গত, গত বছর ২০১৯ সালের নভেম্বর মাসেই ভারত নিজেদের নতুন মানচিত্র প্রকাশ করেছিল। তার ঠিক ছয় মাসের মধ্যেই চলতি বছরের মে মাসে নিজেদের সংসদে নেপাল একটি নতুন মানচিত্র প্রকাশ করে। যেখানে উত্তরাখণ্ডের একাধিক এলাকাকে তারা নিজেদের মানচিত্রে শামিল করে। যে জায়গাগুলি বস্তুত এখনও ভারতের অধীনেই রয়েছে। এই পদক্ষেপ পুরোপুরি চিনের সাম্রাজ্যবাদ বিস্তারের একপ্রকার অনুকরণ বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here