md selim

md selim

মহানগর ডেস্ক: নেতাজির ১২৫তম জন্মশতবার্ষিকীতে ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালের সভায় মমতার বক্তব্যের সময় ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনি দেওয়া ‘দৃষ্টিকটু’ বলে আখ্যা দিলেন সিপিআইএম নেতা মহঃ সেলিম। সাংবাদিকদের এই বিষয়ে বলতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘মমতার বক্তৃতার আগে যেভাবে জয় শ্রীরাম ধ্বনি উঠল তা অত্যন্ত দৃষ্টিকটু।’

‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনির বিরুদ্ধে মুখ খুললেও মুখ্যমন্ত্রীকে কটাক্ষ করতেও ছাড়েননি সেলিম। তিনি বলেন, ‘যেকোনো সরকারি অনুষ্ঠান সর্বতভাবে অরাজনৈতিক থাকা উচিত। সেদিক দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ঠিক কথাই বলেছেন। কিন্তু তাঁর নিজের সরকারি ও প্রশাসনিক সভা-সমাবেশ কি আদৌ অরাজনৈতিক থাকে?’

প্রসঙ্গত, প্রধানমন্ত্রীর শহরে পা রাখা থেকেই রাজনৈতিক উত্তেজনার পারদ চড়ছিল। এবারে নেতাজির ১২৫তম জন্মশতবার্ষিকী পালনেও ‘রাজনীতি’ করার অভিযোগ এনে ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালের মঞ্চে বক্তব্য থেকে নিজেকে বিরত রাখলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আমন্ত্রণ করে এনে তাঁকে ‘বেইজ্জত’ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তিনি বলেন, ‘নেতাজির ১২৫তম জন্মশতবার্ষিকীর মর্যাদা রেখে সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক ভাবে পালিত হবে সেটাই স্বাভাবিক। কিন্তু আমাকে যেভাবে আমন্ত্রণ জানিয়ে বেইজ্জত করা হল তার প্রতিবাদে আমি নিজেকে বক্তব্য থেকে বিরত রাখছি।’ এরপরেই সভামঞ্চ থেকে নেমে আসেন তিনি।

সকাল থেকেই নেতাজির ১২৫তম জন্মশতবার্ষিকী ঘিরে একের পর এক পদযাত্রা সভা-সমাবেশে মুখরিত ছিল কল্লোলিনী। সকালে একাই হাজির হয়ে নেতাজির বাসভবনে নেতাজিকে শ্রদ্ধা জানান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তারপর শ্যামবাজারে নেতাজি মূর্তির পাদদেশ থেকে রেড রোড পর্যন্ত দীর্ঘ পদযাত্রাও করেন তিনি। কিন্তু তাল কাটে প্রধানমন্ত্রী আসার কিছুক্ষণ আগে। প্রধানমন্ত্রীর অফিস থেকে জানান হয় নেতাজির বাসভবনে প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও সঙ্গে যাবেন বিজেপির নেতারা। সেই কথায় তীব্র আপত্তি তোলেন সুভাষচন্দ্র বসু পরিবারের সদস্য সুগত বসু। তিনি জানান, ‘প্রধানমন্ত্রী যদি প্রধানমন্ত্রী হিসাবে নেতাজির বাসভবনে আসেন, তবেই তাঁকে স্বাগত জানান হবে। রাজনৈতিক নেতা হিসাবে এসে তিনি যেন নেতাজির গরিমা নষ্ট না করেন।’

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে প্রধানমন্ত্রী সফরে নিজেদের মধ্যে ‘সৌজন্যতা’ বিনিময়ে হয়েছে মোদী-মমতার। ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালের অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীকে উত্তরীয় পরিয়ে দেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু দেখা যায় যখন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সভায় বক্তব্য রাখতে আসেন ঠিক তখনই কার্যত তাঁকে উদ্দেশ করেই ভেসে আসে ‘জয় শ্রী রাম’ ধ্বনি। এরপরেই আর নিজের ক্ষোভ সামলাতে পারেননি মমতা। সামনে বসে থাকা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে লক্ষ্য করেই তিনি ‘রাজনীতি’ করার কথা বলে গর্জে ওঠেন।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে সকাল থেকেই নেতাজির জন্মদিন পালন ঘিরে শুরু হয়ে গিয়েছিল রাজনৈতিক দড়ি টানাটানি। সকালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নেতাজি ভবনে যাওয়ার পরেই নিজের অত্যন্ত কাটছাঁট সফর থেকেও নেতাজির বাসভবনে যাওয়ার পরিকল্পনা নেন মোদী। নেতাজির ১২৫তম জন্মশতবার্ষিকী ঘিরে সূক্ষ্ম রাজনৈতিক যে লড়াই শুরু হয়েছিল মমতার বক্তব্যে তা আরও প্রকট হল।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here