corona virus news

মহানগর ওয়েবডেস্ক: মৃত্যুমিছিল লেগেছে বিশ্বজুড়ে। চতুর্দিকে হাহাকার। মারণ ভাইরাস কোভিড ১৯-র উৎসস্থল চিন লড়ে ফিরে আসার লড়াই চালালেও ইতালি সবথেকে করুণ সময় দেখছে। ইতালির প্রধানমন্ত্রী জানিয়ে দিয়েছেন, এবার দেশ সবথেকে বিপজ্জনক সপ্তাহ দেখতে চলেছে। ঠিক এহেন অবস্থায় ইতালির প্রশাসন জানিয়েছে, পরিস্থিতি এভাবেই চলতে থাকলে কিছু নিষ্ঠুর অথচ অত্যন্ত প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত তাদের নিতে হবে। তা হল, ৮০ বছরের ঊর্ধ্বে কোনও ব্যক্তি যদি করোনা আক্রান্ত হন তবে তাঁকে চিকিৎসা দেওয়া হবে না। সোজা কথায়, সে সব ব্যক্তিদের মৃত্যুর জন্য অপেক্ষা করা ছাড়া আর কোনও উপায় থাকবে না। এমনটাই খবর আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম ডেইলি মেইল সূত্রে।

কোভিড ১৯-এ জর্জরিত দেশগুলির মধ্যে এই মুহূর্তে সবচেয়ে শোচনীয় দশা ইতালির। বিগত ৪৮ ঘণ্টায় মৃত্যু হয়েছে ৭০০-র বেশি মানুষের। সে দেশে আক্রান্ত হয়েছেন ২৭,৯৮০ জন। যাদের মধ্যে ২,৭৪৯ জন সেরে উঠেছেন। তবে এখনও পর্যন্ত ২,১৫৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। যে কটি দেশে করোনা ভাইরাস ছড়িয়েছে, সর্বাধিক সংক্রমণ এই দেশেই লক্ষ্য করা গিয়েছে। এত বেশি সংখ্যক মানুষ প্রতি ঘণ্টায় আক্রান্ত হচ্ছেন যে তাদের সকলকে কোয়ারেন্টাইনে রাখা বা চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। ফলে এই মুহূর্তে কাদের চিকিৎসা করা হবে এবং কাদের করা হবে না এই কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে চিকিৎসক মহলকে। প্রধানমন্ত্রী গুইসিপে কন্টে সতর্ক করে বলেছেন, এখনও এই মহামারী চরম আকার নেয়নি। চলতি সপ্তাহে তা সবচেয়ে ভয়ঙ্কর রূপ দেখাতে পারে। এখনই যা পরিস্থিতি, আরও ভয়ঙ্কর রূপ কী হবে সেটা ভেবেই গায়ে কাঁটা দিচ্ছে বিশ্ববাসীর। আর সেই সময় সকলকে চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়া সম্ভব হবে না। অন্তত যে পরিকাঠামো ইতালিতে রয়েছে তার দ্বারা কখনই সেটা সম্ভব নয়।

Image result for corona victims italy

সম্প্রতি ইতালির তুরিনে এক জরুরি বৈঠকে পরিস্থিতির আগাম মোকাবিলা করতে এমনই প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। যতজনকে জায়গা দেওয়া সম্ভব, রোগীর সংখ্যা তার থেকে বেশি হলে ৮০ ঊর্ধ্ব বৃদ্ধদের আর চিকিৎসা দেওয়া হবে না। কেননা একটা বিষয় ইতিমধ্যেই স্পষ্ট, এই রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু তাদেরই হচ্ছে যাদের বয়স বেশি এবং রোগ প্রতিরোধে অক্ষম। তাই প্রয়োজন পড়লে ৮০ বছরের বেশি বয়সী আক্রান্তদের চিকিৎসা না দিয়েই মৃত্যুর জন্য ফেলে রাখা হবে। যাতে অন্তত যাদের হাতে বয়স রয়েছে, বা চিকিৎসা চালালে বেঁচে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে তাদের বাঁচিয়ে দেওয়া যায়। কেননা ইতালি এমনই একটা সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে যখন এই ধরনের কঠিন সিদ্ধান্ত না নিলে আরও খারাপ সময় তাদের জন্য অপেক্ষা করতে পারে।

এই প্রসঙ্গে ইতালির এক চিকিৎসক জানাচ্ছেন বর্তমান পরিস্থিতিটা ঠিক যুদ্ধের মতো। এখন একজন রোগীর ভাগ্য নির্ধারিত হবে তার বয়স এবং শারীরিক পরিস্থিতি বিচার করার পর। অন্যদিকে করোনা আক্রান্ত হয়ে গোটা বিশ্বে এই মুহূর্তে আক্রান্তের সংখ্যা ১ লক্ষ ৮০ হাজার পেরিয়ে গিয়েছে। যাদের মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ৭,১৬৯ জনের। সেরে উঠেছেন প্রায় ৮০,০০০ মানুষ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here