harry
অন্ধকার পেরিয়ে

মহানগর ডেস্ক: ব্রিটিশ রাজপ্রাসাদে জাঁকজমকের মধ্যে মোটেও ভ্যালো ছিলেন না প্রিন্স হ্যারি ও তাঁর স্ত্রী মেগান মর্কেল। এতটাই একা ও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিলেন একটা সময় তাঁর বেঁচে থাকার ইচ্ছাই চলে গিয়েছিল। তিনি আত্মহত্যার কথাও ভেবেছিলেন বলে এক সাক্ষাৎকারে বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন প্রাক্তন মার্কিন অভিনেত্রী মেগান মর্কেল।

রাজপরিবারের জৌলুস জীবনযাত্রা, প্রাসাদ থেকে বের হলে হাজারো ক্যামেরার ঝলকানি। সাধারণ কোনও মানুষের কাছে এটা একটা স্বপ্নের দুনিয়া। বাইরের জৌলুস অনেক সময় জাঁকজমক জীবনযাত্রার ভিতর থাকে ঘন কালো আন্ধকার। সেই রকম ব্রিটিশ রাজপরিবারের অন্ধকার, অজানা, অপ্রিয় কথা মার্কিন সঞ্চালক অপরাহ উইফ্রেকে জানালেন মেগাম মর্কেল। শনিবার আমেরিকার একটি টেলিভিশনে এক সাক্ষাৎকার সম্প্রচার হয়। ব্রিটেনে স্থানীয় সময় সোমবার রাতে এই সাক্ষাৎকারটি সম্প্রচার হবে। তবে বর্তমানে এই সাক্ষাৎকারটি বিশ্বজুড়ে ভাইরাল হয়ে গিয়েছে। রাজপরিবার থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করার পরেই এটাই মেগান ও হ্যারির প্রথম সাক্ষাৎকার।

সাক্ষাৎকারে মেগান বলেন, রাজপ্রাসাদে তাঁর জীবন অতিষ্ট হয়ে গিয়েছিল। তিনি যখন অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন, সেই সময় প্রাসাদের সবাই অনুমান করতেন, তাঁর সন্তানের গায়ের রঙ কতটা কালো হতে পারে। এমনকী তিনি কতবার বন্ধুদের সঙ্গে মধ্যাহ্নভোজে যেতেন, সেই নিয়েও কথা শুনতে হতো। সাক্ষাৎকার দেওয়ার সময় বার বার চাপা কান্নায় তাঁর গলা ধরে আসে। তিনি বলেন, সেই সময় অনেক অপমানকর ঘটনাই হয়েছে। তাঁকে বার বার অপদস্থ করা হয়েছে। তিনি হ্যারিকেও বলতে পারছিলেন না। হ্যারির পরিবার প্রতি দূর্বলতা তিনি জানতেন। তিনি বলেন, ‘কিন্তু সেই সময় আমি বুঝতে পেরেছিলাম, যদি আমি হ্যারিকে বলতে না পারি তো আমি আত্মহত্যা করে ফেলব।’

গোটা সাক্ষাৎকারের বেশিরভাগ অংশটা ছিল রাজপরিবারে মেগানের লড়াই নিয়ে। তিনি বলেন, পরিস্থিতি এমন জায়গায় চলে গিয়েছিল, তিনি বাকিংহাম প্যালেসের মানবসম্পদ বিভাগের কাছে সহায়তা চান। কিন্তু সেই সময় তাঁকে বলা হয়েছিল, যেহেতু তিনি রাজপ্রাসাদের কর্মী নন, তাই তাঁকে সহায়তা করা সম্ভব হবে না। তিনি বলেন, ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের নজর শুধু একটা বিষয়েই ছিল, তাঁকে কীভাবে রাজ পরিবার মেনে নিয়েছে। তবে তিনি বলেন, রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ একজন চমৎকার মানুষ ছিলেন। তিনি আন্তরিক ও শুভাকাঙ্খী ছিলেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here