ডেস্ক: উত্তরপ্রদেশ উপনির্বাচনে হারের ক্ষত শোকাতে না শোকাতেই সেই ক্ষতে নুনের ছিটে দিয়েছিলেন তেলেগু দেশম পার্টির প্রধান তথা অন্ধ্রের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডু। এনডিএ-র সঙ্গে দীর্ঘদিনের জোট ভেঙে বেরিয়ে এসেছিল টিডিপি। কারণ, অন্ধ্রপ্রদেশকে স্পেশাল স্টেটাস দিতে অস্বীকার করেছিল কেন্দ্রীয় সরকার। বিকেলেই আবার একই রকমের দাবি জানিয়ে বিহারের জন্য স্পেশাল স্টেটাসের দাবি জানান এনডিএ-র আরেক জোটসঙ্গী নীতিশ কুমারের দলের নেতা কেসি ত্যাগী। সব মিলিয়ে একসপ্তাহের মধ্যেই শক্ত অবস্থায় থাকা এনডিএ-র পায়ের তলার মাটি যেন নরম হয়ে যায়।

অন্যদিকে, সোমবার সাংসদে অনাস্থা প্রস্তাবের নোটিশ আনতে চলেছে চন্দ্রবাবুর দল। কিন্তু তার আগেই নতুন করে ফের শরিক হারানোর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। একে একে এনডিএ জোট ভাঙার তালিকায় এবার নাম উঠে এসেছে মেহেবুবা মুফতি ও রামবিলাস পাসোয়ানের নাম। জম্মু কাশ্মীরের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী মেহেবুবা মুফতি। জম্মু কাশ্মীর পিপলস ডেমোক্রেটিক পার্টি এনডিএ-র সঙ্গে জোট গড়ে ক্ষমতায় রয়েছে উপত্যকায়। অন্যদিকে, রামবিলাসের লোক জনশক্তি পার্টিও এনডিএ জোটে রয়েছে।

সাংসদে যদি অনাস্থা প্রস্তাব গ্রহণ করেও নেওয়া হয় তাও বিজেপি শিবিরে অবশ্য দুশ্চিন্তার কোনও কারণ নেই। কারণ, এনডিএ জোটে এখনও রয়েছে ৩১৩ জন। তা সত্ত্বেও নতুন করে জল্পনা তৈরি হয়েছে মেহেবুবা মুফতি ও রামবিলাস পাসোয়ানকে কেন্দ্র করে। ভারতীয় রাজনীতির ইতিহাস সাক্ষী রয়েছে, যখন দিল্লিতে যেন দল ক্ষমতায় থাকে; চন্দ্রবাবু, মেহেবুবা এবং রামবিলাসের পেন্ডুলামও সেদিকেই ঝুলে থাকে। অন্ধ্রপ্রদেশ ও তেলেঙ্গানা ভাগ হওয়ার সময়ও ইউপিএ সরকারের সমর্থনেই ছিল টিডিপি।

এই বিষয়ে অবশ্য মেহেবুবা বা রামবিলাস মুখ খোলেন নি। কিন্তু এই দলগুলির রাজনৈতিক সমীকরণ কিন্তু এমন ইঙ্গিতই দেয় যে কোনও জোট সরকার ক্ষমতায় আসার সম্ভাবনা হলে অবস্থান বদল করে থাকে দলগুলি। ফলে দেশজুড়ে যেভাবে বিরোধী দলগুলির মধ্যে মোদী বিরোধী হাওয়া তৈরি হচ্ছে তা মাথায় রেখেই নিজেদের অবস্থান বদলের কথা এই দলগুলি ভাবছে বলে মনে ধারণা রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here