মহানগর ডেস্ক:   পঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্ক দুর্নীতি কাণ্ডের প্রধান অভিযুক্ত মেহুল চোকসির নাম যবে থেকে প্রকাশ্যে এসেছে, তবে থেকেই আর একটি নাম তাঁর সঙ্গে ঘোরা ফেরা করছে। বারবারা জারাবিকা। কিন্তু কে এই রহস্যময়ী নারী বারবারা জারাবিকা। প্রথম থেকেই বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম বারবারাকে চোকসির প্রেমিকা বা বিশেষ বান্ধবী হিসেবে উল্লেখ করেছেন। যদিও বারবারা বেশ কয়েকবার সংবাদমাধ্যমের কাছে জানিয়েছেন, মেহুল চোকসির সঙ্গে তাঁর ব্যবসায়িক সম্পর্ক তার বেশি নয়। অন্য দিকে আবার মেহুল চোকসির স্ত্রী ও আইনজীবী জানিয়েছেন, পরিকল্পনা করে বারবারার মাধ্যমে মেহুল চোকসিকে অপহরণ করে অ্যান্টিগুয়ার বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। যাতে ভারত সরকার সহজে দেশে মেহুল চোকসিকে ফেরত নিয়ে যেতে পারে। পরিস্থিতি যাই হোক না কেন, বারবারাকে নিয়ে ক্রমেই রহস্য ঘনাচ্ছে।

বারবারাকে নিয়ে সেভাবে কোনও তথ্যও পাওয়া যাচ্ছে না। কোথাকার মেয়ে, কীভাবে অ্যান্টিগুয়ায় এলেন, সেভাবেও কিছু জানা যাচ্ছে না। বারবারার সোশ্যাল মিডিয়া বলতে ইস্টাগ্রামে, লিঙ্কডিনে এবং টুইটারে বারবারা জারাবিকার প্রোফাইল খুঁজে পাওয়া গিয়েছে। তবে সেখান থেকে এই রহস্যময়ী নারী সম্পর্কে বিশেষ কোনও তথ্য পাওয়া যায়নি। লিঙ্কডিনে লেখা রয়েছে, তিনি একজন প্রোপার্টি ইনভেস্টমেন্ট এজেন্ট। রিটেল এস্টেট ইন্ডাস্ট্রিতে তাঁর অভিজ্ঞতা আছে। কাস্টমার সার্ভিসেও তাঁর অভিজ্ঞতা রয়েছে। ১০ বছরের বেশি তাঁর সেলসে অভিজ্ঞতা রয়েছে। দেখা গিয়েছে লন্ডন স্কুল অফ ইকোনমিক্স থেকে তিনি পড়াশোনা করেছেন।

আশ্চর্যের বিষয় যবে থেকে তাঁর নামটা বার বার সংবাদমাধ্যমে উঠে এসেছে, প্রোফাইল থেকে তিনি তাঁর ছবি সরিয়ে দিয়েছেন। তিনি যে লন্ডন স্কুল অফ ইকোনমিক্স থেকে পড়াশোনা করেছেন, সেই তথ্যই তিনি সরিয়ে দিয়েছেন। অন্যদিকে, লন্ডন স্কুল অফ ইকোনমিক্সের তরফে জানানো হয়েছে, বারবারা জারাবিকা নামের কোনও পড়ুয়া কোনও দিন তাঁদের ছিল না বা এখনও নেই।

পাশাপাশি টুইটারে সৈকতের ধারে চুল দিয়ে মুখ ঢাকা একটি ছবি রয়েছে তাঁর। টুইটারে তিনি ২০১২ সালের জুলাই মাস থেকে রয়েছেন। কিন্তু এতদিন ধরে টুইটারে থাকার পরেও তিনি মাত্র একটা টুইট করেছেন। তিনি টুইটারে সাতজনকে ফলো করেন। তাঁরা হলেন, এলন মাস্ক, বিল গেটস, জামিয়া অলিভার, রিচার্ড বার্নসন অ্যান্ড দ্য ইকোনমিস্ট। এছাড়াও তিন জনকে তিনজনকে তিনি ফলো করেন। তাঁকে মোট ১১ জন ফলো করেছে। দেখা গিয়েছে, একজন বাদে সকলেই ভারতীয়।

বারবারার ইনস্টাগ্রামে সাতটা মাত্র পোস্ট রয়েছে। সৈকতে রোদে সুইমিং সুট পরে একটি ছবি রয়েছে। কোনও ছবিতে আবার তাঁকে হেলিকপ্টারে উঠতে দেখা গিয়েছে। ইনস্টাগ্রামে তাঁক প্রায় ১,৩০০ ফলোয়ার। এবং ফলোয়ারদের মধ্যে বেশিরভাগ ভারতীয় কিংবা ভারতীয় বংশোদ্ভূত। আর ফলোয়ারদের মধ্যে বেশিরভাগ গুজরাটের বাসিন্দা বলে জানা গিয়েছে। ইনস্টাগ্রামের কিছু কিছু পোস্ট ২০১৯ সালের জানুয়ারি- ফেব্রুয়ারিতে করা। বেশ কয়েকজন ফলোয়ার মেহুল চোকসির ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর এসেছে। ৪-৫ দিন আগেও বেশ কয়েকজন তাঁর ছবিতে লাইক করেছে।

এছাড়াও অ্যান্টিগুয়াতে তাঁর আচরণ নিয়ে প্রশ্ন করেছেন মেহুল চোকসির স্ত্রী প্রীতি। ছয় মাস ধরে বারবারার সঙ্গে তাঁর স্বামী মেহুল চোকসির বন্ধুত্ব। প্রাতভ্রমণে গিয়েই দুজনের মধ্যে বন্ধুত্ব হয়েছে বলে প্রীতি জানান। অ্যান্টিগুয়য় জলি হারবারের কাছে তাঁকে বারবারা নৈশভোজের জন্য আমন্ত্রণ জানান। দিনটা ছিল ২৩ মে। এরপর ৮-১০ জন তাঁকে নিমর্মভাবে মেরে তাঁকে সেখান থেকে নিয়ে যায়।

 প্রীতি বারবারা সম্পর্কে আরও তথ্য দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, বারবারা অ্যান্টিগুয়ার নাগরিক নন। তিনি মাঝে মাঝে অ্যান্টিগুয়ায় আসেন। আগের বছর অগস্টে এসেছিলেন। এবছর এপ্রিল মে মাসে বারবারা অ্যান্টিগুয়ায় এসেছিলেন। প্রীতি মনে করছেন ডোমিনিকায় তাঁর স্বামীকে অপহরণ করে নিয়ে যাওয়ার নেপথ্যে বারবারা রয়েছেন। কারণ তারপর থেকেই বারবারাকে আর দেখতে পাওয়া যাচ্ছে না।

আদৌ মেহুল চোকসি বারবারর সঙ্গে ডমিনিকা গিয়েছিলেন নাকি তাঁকে অপহরণ করা হয়েছিল, এই বিষয়ে বিশেষ কোনও তথ্য পাওয়া যায়নি। অ্যান্টিগুয়ার প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। তবে ক্রমেই বারবারা জারাবিকাকে নিয়ে রহস্য ঘনাচ্ছে, কোথাকার মেয়ে, ব্যাকগ্রাউন্ড কি, কোন দেশের মেয়ে সেই নিয়ে সন্দেহ থেকেই যাচ্ছে। ভারতের সঙ্গে তার যে যোগাযোগ রয়েছে, সেই বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই।  

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here