national news amit shah

মহানগর ওয়েবডেস্ক: অতিমারীর সুযোগ নিয়ে নারী ও শিশু পাচারকারীরা অতি সক্রিয় হয়ে উঠেছে। এই বিষয়ে বিশেষ নজর দেওয়ার জন্য রাজ্যগুলিকে পাচার বিরোধী নতুন ইউনিট খোলার জন্য চিঠি দিল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। পাচার বিরোধী ইউনিট হল একাধিক বিভাগের সমন্বয়ে গঠিত টাস্ক ফোর্স যারা মানব পাচার প্রতিরোধ করার কাজে জড়িত থাকে। প্রশিক্ষিত পুলিশ কর্মী, নারী ও শিশু কল্যাণ দফতর, অন্যান্য সংশ্লিষ্ট বিভাগের সঙ্গে বিভিন্ন এনজিও’র সমন্বয়ে এই টাস্ক ফোর্স তৈরি করা হয়।

দেশের প্রত্যেকটি জেলায় পাচার বিরোধী ইউনিট তৈরি করার জন্য নির্ভয়া তহবিল থেকে গত মার্চ মাসে ১০০ কোটি টাকা মঞ্জুর করা হয়েছিল। ন্যাশনাল ক্রাইম ব্যুরো’র তথ্য অনুযায়ী ২০১৮ সালে চার হাজারের কাছাকাছি পাচারের ঘটনা ঘটেছে যার ৯২ শতাংশই ছিল নারী ও শিশু পাচারের ঘটনা।

এই মুহূর্তে দেশে ৩৩০টি মানব পাচার বিরোধী ইউনিট সক্রিয় রয়েছে। এই ইউনিটগুলি একই সঙ্গে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক, নারী ও শিশু উন্নয়ন মন্ত্রক, শ্রম মন্ত্রকের সঙ্গে সমন্বয় রেখে ভারতের মধ্যে এক রাজ্য থেকে অন্য রাজ্যে ও ভারত থেকে বাইরে মানব পাচার প্রতিরোধ করে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক থেকে পাঠানো অ্যাডভাইসারিতে বলা হয়েছে, ”গার্হস্থ্য হিংসা, মানষিক অত্যাচার, উপেক্ষা বা অন্যান্য ভাবে উৎপীড়িত মানুষরা পাচারকারীদের সহজ শিকার হয়ে ওঠে।”

ওই অ্যাডভাইসারিতে আরও বলা হয়েছে, পাচারকারীরা মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত মানুষদের ভালো চাকরি, ভালো আয়, চমৎকার জীবন যাপন, পরিবারের সঠিক দেখভাল ইত্যাদি মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে ফাঁদে ফেলে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক থেকে রাজ্যগুলিকে পারস্পরিক সমন্বয়ের মাধ্যমে নিয়মিত সময়ের ব্যবধানে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক করে এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে বলা হয়েছে। এই কর্মসূচিতে স্থানীয় স্তরে পঞ্চায়েতকে নজরদারি চালানোর কথা বলা হয়েছে। গ্রামগুলিতে প্রত্যেকের গতিবিধির ওপর নজর রাখার কথা বলা হয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অ্যাডভাইসারিতে।

বিশেষজ্ঞদের অভিমত, এই অতিমারীর মধ্যে এই অ্যাডভাইসারি পাঠানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। কারণ বর্তমান পরিস্থিতি পাচারকারীদের পক্ষে অনুকুল অবস্থা তৈরি করেছে। তারা মনে করেন বিপুল পরিমাণ মানুষ কাজ হারানোর ফলে শিশু শ্রমিকের সংখ্যা বৃদ্ধির যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে ফলে বাড়তে পারে শিশু পচারের ঘটনা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here