kolkata news

 

নিজস্ব প্রতিনিধি, সিঙ্গুর: কেন্দ্র ও রাজ‍্যের আশ্বাস সত্ত্বেও পরিয়ায়ী শ্রমিকদের দুরবস্থা কাটচ্ছে না। আজকেও রাজ‍্য-সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আটকে থাকা শ্রমিকদের সেই জায়গাতেই থাকার জন‍্য অনুরোধ করছেন প্রধানমন্ত্রী। পর্যাপ্ত পরিমাণে খাবার না পেয়ে রাজ‍্যের অনেক পরিয়ায়ী শ্রমিক বারবার দরবার করেছে সরকারের কাছে। মিলছে কিছু সাহায‍্যও। কয়েকদিন আগে সরকারি উদ্যোগে রাজ‍্যের বিভিন্ন প্রান্তে আটকে থাকা খেতমজুর শ্রমিকদের বাড়ি পাঠানোর ব‍্যবস্থা করেছে রাজ‍্য। তা সত্ত্বেও আটকে থাকা পরিয়ায়ী শ্রমিকরা খাদ‍্যের অভাবে সাহায‍্য না পেয়ে হেঁটে বাড়ি ফিরছেন এমন ছবি এখনও দেখা মিলছে রাজ‍্যের অনেক জায়গায়। সেই সঙ্গে দেশের অন‍্য রাজ‍্যেও প্রায় একই ছবি বিক্ষিপ্ত ভাবে ধরা পড়ছে সংবাদ মাধ‍্যমের ক‍্যামেরায়।

২৭ এপ্রিল সোমবার এরকম ছবি ধরা পড়ল হুগলির সিঙ্গুরে। পথ চলতে চলতে ক্লান্ত হয়ে বিশ্রাম নেওয়ার সময় সিঙ্গুরের দোলুইগাছাতে স্থানীয় মানুষ তাদের কিছু খাবার দিয়ে সাহায‍্য করেন। পরে তারা আবার পথচলা শুরু করেন। ষোলো জন পরিযায়ী শ্রমিক রাজমিস্ত্রির কাজে হাওড়ার ডোমজুড়ে ছিলেন। কয়েকমাস কাজ হওয়ার পর লকডাউনে আটকে পড়েন তারা। নিজেদের জমানো অর্থ দিয়ে এতদিন চলেছে কোনক্রমে। কিন্তু আর চলছে না। স্থানীয় প্রশাসন থেকে কোনও সাহায‍্য তারা পাননি বলে জানান। বিগত কয়েকদিন ধরে সারাদিনে জোটেনি তেমন কোনও খাবার। লকডাউন কবে উঠবে তার ও নিশ্চয়তা নেই। তাই বাড়ির উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন তারা। পরিযায়ী শ্রমিক বাজিরুল শেখ বলেন, লকডাউনের পর থেকে যা ছিল তা দিয়ে আমরা এতদিন খাওয়াদাওয়া করেছি। এখন টাকা পয়সা শেষ। কোনও রকম সাহায‍্য কোনও জায়গা থেকে পাওয়া যায়নি। তাই বাধ‍্য হয়েই বাড়ির উদ্দেশে বেরিয়ে পড়েছি। মরতে হলে না হয় রাস্তাতেই মরব।

অন‍্য এক পরিযায়ী শ্রমিক সাহাবর শেখ জানান, বীরভূমের মুরারাই থেকে ডোমজুড়ের দাসপাড়ায় আমার ষোল জন রাজমিস্ত্রি কাজে এসেছিলাম। কিছুদিন পরেই লকডাউনে আটকে পড়ি। একমাস ধরে খেয়ে টাকা পয়সা শেষ। স্থানীয় এলাকা, সরকার থেকে  কোনও সাহায‍্য পাইনি। এদিকে পয়সাও শেষ। খাব কী? তাই বাধ‍্য হয়েই হেঁটে বাড়ির উদ্দেশে রওনা দিয়েছি। পরিযায়ী শ্রমিকদের নিয়ে কেন্দ্র ও রাজ‍্যে সরকারের এত ঘোষণা সত্ত্বেও বিভিন্ন জায়গায় আটকে থাকা পরিযায়ী শ্রমিকরা ঠিক কীভাবে আছেন, তা আবারও একবার দেখা গেল।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here