news bengali

মহানগর ওয়েবডেস্ক: নির্বাচনী ক্ষেত্রে নির্বাচিত প্রার্থীর অনুপস্থিতিতে তার নামে নিরুদ্দেশের পোস্টার পড়ার বিষয়টি বিরোধী প্রচারের একটি পুরনো পদ্ধতি। কিন্তু মধ্যপ্রদেশ উপনির্বাচনের আগে এই পদ্ধতিটিই এখন হয়ে উঠেছে প্রচারের প্রধানতম হাতিয়ার। এই প্রক্রিয়ায় নির্বাচিত প্রার্থীর নির্বাচন ক্ষেত্রটির প্রতি উদাসীনতাকে সার্থক ভাবে জনসাধারণের সামনে তুলে ধরা যায় বলে বিশ্বাস করে প্রায় সব রাজনৈতিক দল।

মধ্যপ্রদেশে প্রক্রিয়াটি শুরু হয়েছিল জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়াকে দিয়ে। ক’দিন আগেই কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়া এই নেতার নামে গোয়ালিয়রে নিরুদ্দেশের পোস্টার পড়ে। এবার ভুপালে প্রজ্ঞা ঠাকুরের ছবি দিয়ে নিরুদ্দেশের পোস্টার পড়ল। মধ্যপ্রদেশের রাজধানীতে করোনাভাইরাস সংক্রমণে আক্রান্ত হয়েছে ১৪০০ মানুষ। সেই প্রসঙ্গের উল্লেখ করে পোস্টারে লেখা হয়েছে, ভুপালের বাসিন্দারা যখন করোনাভাইরাসে বিপর্যস্ত তখন সাংসদকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

কংগ্রেসের নেতা ও প্রাক্তন মন্ত্রী কমলেশ্বর পটেল জানান, ”এরপর থেকে ভোট দেওয়ার আগে ভোটারদের ভেবে দেখা উচিৎ। যেখানে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী দিগ্বিজয় সিং নির্বাচনে হেরে গিয়েও দিনরাত কাজ করে চলেছেন সেখানে নির্বাচিত সাংসদকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। ভবিষ্যতে এই ধরনের প্রার্থীকে নির্বাচিত করবেন না যারা মানুষের বিপদের সময় পাশে এসে দাঁড়ায় না। আমরা প্রজ্ঞা ঠাকুরকে ফিরে আসতে অনুরোধ করছি। এখন ওনাদের সরকার, ফলে ওনার চিন্তার কোনও কারণ নেই।”

বিজেপি মুখপাত্র রাহুল কোঠারি জানান, প্রজ্ঞা ঠাকুর বর্তমানে এআইএমএস–এ ভর্তি রয়েছেন ওনার চোখ ও ক্যান্সারের চিকিৎসার জন্য। দলের তরফ থেকে কমিউনিটি কিচেন ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার কাজ চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে। দিগ্বিজয় সিং–এর কার্যকলাপকে সম্পূর্ণ ‘রাজনৈতিক’ বলে মন্তব্য করেন কোঠারি।

শুধুমাত্র যে শাসক দলের সাংসদ বা বিধায়কদের নামে নিরুদ্দেশের পোস্টার পড়ছে এমন নয়, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী কমল নাথ ও তাঁর পুত্র নকুল নাথের নামেও চিদওয়ারায় নিরুদ্দেশের পোস্টার দেখা গিয়েছে। এমনকি তাঁদের খুঁজে দিতে পারলে ২১,০০০ টাকা পুরস্কারের ঘোষণাও করা হয়েছে সেই পোস্টারে। সামগ্রিক ভাবে মধ্যপ্রদেশের উপনির্বাচনে নির্বাচনী ক্ষেত্রে প্রার্থীর উপস্থিতি এখন রাজনৈতিক প্রচারের প্রধানতম বিষয় হয়ে উঠেছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here