kolkata bengali news, district news

নিজস্ব প্রতিবেদক, ক্যানিং: হুগলির স্কুলের মিড-ডে মিলের দুর্নীতি প্রকাশ্যে আসার পর রাজ্যের প্রাথমিক স্কুলগুলির বেহাল দশা আরও প্রকট হয়েছে৷ যার জেরে অনেকটাই কোণঠাসা হয়ে পড়েছে রাজ্যের শাসকদল৷ তাই এবার মিড-ডে মিল এবং প্রাথমিক স্কুলগুলির হাল ফেরাতে উদ্যোগী হয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার৷ রবিবার প্রাথমিক শিক্ষকদের এক সম্মেলনে সে কথাই শোনা গেল ক্যানিং পশ্চিমের তৃণমূল বিধায়ক শ্যামল মন্ডল। মিড-ডে মিলকে দুর্নীতিমুক্ত করার বার্তা দিয়ে প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষকদের প্রতি তাঁর হুঁশিয়ারি, ‘মিড-ডে মিলে কোনওরকম দুর্নীতি বরদাস্ত করা হবে না৷’ শুধু তাই নয়, শিক্ষকদের স্কুলে না গিয়ে দলের কাজ করা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিধায়ক৷

জানা গিয়েছে, এদিন দক্ষিণ ২৪ পরগনার ক্যানিংয়ে বন্ধুমহলে প্রাথমিক শিক্ষকদের একটি সম্মেলন ছিল৷ ওই সম্মেলনে বিধায়ক শ্যামল মন্ডল ছাড়াও স্থানীয় স্কুলগুলির শিক্ষক-শিক্ষিকা থেকে শুরু করে প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের চেয়ারম্যান ঘনশ্রী বাগ ও ক্যানিং সার্কেলের সভাপতি দেবব্রত মন্ডলও উপস্থিত ছিলেন৷ তাঁদের সকলকেই স্কুলের মিড-ডে মিল এবং শিক্ষকদের কাজকর্মের ব্যাপারে কড়া বার্তা দেন বিধায়ক। মিড-ডে মিল নিয়ে কোনও দুর্নীতি সরকার বরদাস্ত করবে না জানিয়ে তাঁর হুঁশিয়ারি, ‘সরকারি নির্দেশিকা মেনেই আপনারা মিড-ডে মিল দেবেন। সেক্ষেত্রে কোনওরকম দুর্নীতি বরদাস্ত করা হবে না। মিড-ডে মিলের নাম করে কোনওরকম শিশুখাদ্য চুরি করা যাবে না। এব্যাপারে কোনও অভিযোগ হলে এবং সেটি প্রমাণিত হলে প্রশাসন তার মতো করেই ব্যবস্থা নেবে।’ শুধু তাই নয়, শিক্ষকতা এবং সমাজের কারিগর গড়ার জন্যই যে শিক্ষকেরা বেতন পান এবং মমতার সরকার সাম্প্রতিককালে প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষকদের বেতন বৃদ্ধি করেছে, সেকথাও এদিন স্মরণ করিয়ে দেন শ্যামল মন্ডল৷ তাঁর কথায়, ‘রাজ্য সরকার আপনাদের যথেষ্ট বেতন বাড়িয়েছে। খুব শীঘ্রই নতুন পে কমিশন চালু করা হবে। তাই আপনাদেরও স্কুলের কাজকর্মের ব্যাপারে ওয়াকিবহাল হওয়া উচিত৷’ এমনকি স্কুলে না গিয়ে দলীয় কাজে অংশগ্রহণ করা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘স্কুলের কাজ না করে দলের কাজ করা কোনোও শিক্ষকের উচিত নয়। প্রতিটি শিক্ষকের আগে সময়মতো স্কুলে যাওয়া উচিত। তারপর দলের কাজ৷’

উল্লেখ্য, ক্যানিংয়ের বিভিন্ন স্কুলে মিড-ডে মিল নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ উঠছে। ইতিমধ্যে বহু স্কুলে মিড-ডে মিলে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বিক্ষোভও দেখিয়েছেন ছাত্রছাত্রীর অভিভাবকেরা৷ এর উপর প্রাথমিক স্কুলগুলির বহু শিক্ষক তৃণমূলের বিভিন্ন পদে রয়েছেন৷ ফলে তাঁরা দলের কাজের অছিলায় নিয়মিত স্কুলেও যান না। অথচ সময়মত বেতন তুলে নেন। শিক্ষকদের এই আচরণের ফলে সরকার অধীনস্থ স্কুলগুলির উপর থেকে আস্থা হারাচ্ছে সাধারণ মানুষ৷ ছাত্রছাত্রী ও অভিভাবকদের মধ্যেও চাপা ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে৷ এই পরিস্থিতিতে প্রাথমিক স্কুলগুলির হাল ফিরিয়ে জনগণের ক্ষোভ প্রশমন করতেই শিক্ষকদের প্রতি বিধায়ক শ্যামল মন্ডলের এই হুঁশিয়ারি বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল৷

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here