bengali news

 

মহানগর ডেস্ক: শীতলকুচির ঘটনায় একযোগে প্রধানমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে তোপ দাগলেন রাজ্যসভায় তৃণমূলের দলনেতা ডেরেক ও’ব্রায়েন৷ আজ রবিবার বিস্ফোরক অভিযোগে তিনি বলেছেন, রক্ত লেগে আছে মোদি-শাহের হাতে৷ আপনারা দুজনেই খুনি৷ গতকাল চতুর্থদফা ভোট চলাকালে কোচবিহারের মাথাভাঙার শীতলকুচিতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর গুলিতে ৪জন নিহত হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে ডেরেক আজ এক ভিডিয়ো ট্যুইট করে বলেন, বাংলার বিধানসভা ভোটে স্বচ্ছভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে না পেরে এবার খুনের রাজনীতিতে নেমেছেন মোদি-শাহ৷ শীতলকুচিতে ৪ জন ভোটদাতাকে খুনের দায় নিতে হবে এই দুজনকে৷ ১৮ বছরের এক যুবক জীবনে প্রথমবার তার ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে গণতন্ত্রের বৃহত্তম উৎসবে শামিল হয়ে বেঘোরে প্রাণ হারালেন৷

উল্লেখ্য, এদিন একইসঙ্গে শীতলকুচি বিধানসভা কেন্দ্রের ১২৬ নম্বর বুথে কেন্দ্রীয় বাহিনীর গুলিতে প্রাণ হারায় ৪জন ভোটার৷ তৃণমূলের দাবি, নিহতেরা সকলেই তাদের দলের কর্মী ও সমর্থক ছিলেন৷ তৃণমূলের অভিযোগ, বিনা প্ররোচনায় ঠাণ্ডা মাথায় পরিকল্পনা করে ওদেরকে খুন করা হয়েছে৷ তারপর জওয়ানদের রাইফেল ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা হলে আত্মরক্ষার্থে গুলি চালাতে বাধ্য হওয়ার মতো বানোয়াট সব গল্প সাজানো হচ্ছে৷ এই হত্যার জন্য মূলত অমিত শাহকেই কাঠগড়ায় তুলেছে তৃণমূল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব৷

আজ মোদি-শাহ জুটিকে লাগামছাড়া আক্রমণ করে একটা ভিডিয়ো ট্যুইট করেছেন তৃণমূল সাংসদ ডেরেক৷ যেখানে তিনি প্রধানমন্ত্রী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে সরাসরি খুনি বলে অভিহিত করে বলেছেন, আপনাদের নির্দেশেই পুলিশের ডিজি, এসপি, ওসি, আইসি সহ প্রশাসনিক শীর্ষকর্তাদেরকে ঢালাওভাবে বদলি অথবা সরানো হয়েছে৷ যাদেরকে আনা হয়েছে, তারা এ রাজ্যের বিন্দুবিসর্গ জানেন না৷ অথচ তাঁদের হাতেই তুলে দেওয়া হয়েছে রাজ্যের প্রশাসন এবং নির্বাচন পরিচালনার গুরুদায়িত্ব৷ এরপর তিনি বলেন, শীতলকুচিতে ৪ জনকে হত্যা করাও যদি যথেষ্ট না হয়, তাহলে আরও কয়েকজনকে গুলি করুক কেন্দ্রীয় বাহিনী৷ সেটাই হবে মোদি-শাহের স্বপ্নের ’সোনার বাংলা’৷ এই খুনের রাজনীতি আমদানির জন্য বাংলার মানুষ বিজেপিকে কোনওদিন ক্ষমা করবে না বলেও মন্তব্য করেন ডেরেক৷

তাঁর কথায়, শীতলকুচির ঘটনায় ব্যাকফুটে চলে গিয়েছে নির্বাচন কমিশন৷ রিপোর্ট দিতে গিয়ে তাদের কালঘাম ছুটে যাচ্ছে৷ জুতসই প্রেক্ষাপট সাজাতে গিয়ে চূড়ান্তভাবে নাকাল হয়েছে তারা৷ প্রকৃত ঘটনাকে ধামাচাপা দিতে গিয়ে প্রতি পদে মিথ্যাচারিতা করা হচ্ছে৷ এসব কিছুই হচ্ছে খোদ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের অঙ্গুলিহেলনে৷ যদিও কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং নির্বাচন কমিশন বলেছে, জওয়ানদের কাছ থেকে রাইফেল ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা হলে আত্মরক্ষার্থে বাধ্য হয়ে গুলি চালাতে হয়৷ বিজেপি শিবিরের অভিযোগ, মমতা ব্যানার্জির উসকানিমূলক ভাষণ থেকে অনুপ্রেরণা নিয়েই দিকে দিকে হিংসা-অশান্তি করছে তৃণমূলী গুণ্ডাবাহিনী৷

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here