মহানগর ওয়েবডেস্ক: কাশ্মীরে ৩৭০ ধারা বাতিল করে নরেন্দ্র মোদী–অমিত শাহ বহু যুগ ধরে জমে থাকা অন্ধকার দূর করেছেন বলে জানালেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পীযুষ গোয়েল। এই ধারা বাতিলের মধ্যে দিয়ে কাশ্মীরে সুবিচার শান্তি ও সাধারণ মানুষের সমৃদ্ধির সূচনা হল বলে তিনি জানিয়েছেন।

৩৭০ ধারা বাতিলের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে একটি টুইট করে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বলেন, ‘’সাধারণ মানুষের জন্য সুবিচার, শান্তি এবং সমৃদ্ধির সূচনা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীজি যুগ যুগ ধরে চলা অন্ধকারের অবসান ঘটিয়ে জম্মু ও কাশ্মীর এবং লাদাখে উন্নয়ন ও সুযোগের দ্বার খুলে দিয়েছেন। ৩৭০ ধারা রদ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহজি দেশকে একতার সূত্রে বেঁধে কেন্দ্র শাসিত অঞ্চলের মানুষকে তাদের ভবিষ্যত গড়ার করার সুযোগ করে দিয়েছেন।‘’

২০১৯ সালের ৫ অগস্ট সংবিধানের ৩৭০ ধারা রদ করে দেওয়া হয়। এর ফলে জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা লোপ পায়। একই সঙ্গে গোটা রাজ্যকে জম্মু, কাশ্মীর, লাদাখ এই তিনটি কেন্দ্র শাসিত অঞ্চলে ভেঙে দেওয়া হয়। এক বছর পর এই অঞ্চলের পরিস্থিতি জানাতে গিয়ে এক পুলিশ আধিকারিক জানান, জনসাধারণ, সেনাবাহিনী, পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর সহায়তায় অবস্থার যথেষ্ট উন্নতি হয়েছে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী কাশ্মীরে হিংসার ঘটনা জানুয়ারি থেকে জুলাই মাসের মধ্যে হয়েছে ১২০টি। একই সময় গতবছর এই সংখ্যাটি ছিল ১৯৮। ২০১৮ সালে যেখানে পাথর ছোড়ার ঘটনা ঘটেছিল ৫৩২টি এবং ২০১৯–এ ৩৮৯টি এবছর সেই ঘটনার সংখ্যা মাত্র ১০২টি। সরকারি আধিকারিকদের অভিমত, বিশাল নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতি ও নিজেদের মধ্যে উন্নত বোঝাপড়ার ফলে সন্ত্রাসবাদীদের গ্রেনেড আক্রমণও অনেক কমে এসেছে।

বিচ্ছিন্নতাবাদী বা সন্ত্রাসবাদীদের ডাকা বনধের সংখ্যাও গতবছরের ৩০ থেকে নেমে দাঁড়িয়েছে চারে। গণতান্ত্রিক পরিকাঠামোকে শক্তিশালী করার উদ্দেশে প্রশাসন থেকে জম্মু ও কাশ্মীরের জন্য ২৫ লক্ষ টাকার ব্লক ডেভলপমেন্ট ফান্ড তৈরি করা হয়েছে। এই তহবিলের দায়িত্ব থাকবে ব্লক ডেভলপমেন্ট কাউন্সিলের চেয়ারপার্সনের ওপর। সরকারের মুখপাত্র রোহিত কানসাল সাংবাদিকদের জানান, জম্মু ও কাশ্মীরে পঞ্চায়েত ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার জন্য এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন লেফটেনেন্ট গভর্নর গিরীশ চান্দের মুর্মু।

গত সপ্তাহেই প্রশাসনের তরফ থেকে সমস্ত নির্বাচিত প্রতিনিধির জন্য ২৫ লক্ষ টাকার জীবন বীমা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। জম্মু ও কাশ্মীরের নির্বাচিত পঞ্চায়েত সদস্য, এবং শহরের পুরসভা’র নির্বাচিত সদস্যদের যদি জঙ্গি হানায় মৃত্যু হয় তাহলে তাদের পরিবার ২৫ লক্ষ টাকা পাবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here