ডেস্ক: অগাস্টা ওয়েস্টল্যান্ড চপার কেলেঙ্কারির মূল অভিযুক্তকে ক্রিশ্চিয়ান মাইকেলকে ইতিমধ্যেই দুবাই প্রশাসনের তরফ থেকে একটি বিশেষ বিমানে গতকাল রাতে দিল্লিতে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। বিমানবন্দর থেকে তাকে সরাসরি সিবিআই দফতরে নিয়ে যাওয়া হয়। সারারাত ধরে সিবিআই জেরা চালায়। ক্রিশ্চিয়ান মাইকেলকে আজকে কোর্টে তোলা হবে। এই গ্রেফতারি প্রসঙ্গে কংগ্রেসকে খোঁচা মারতে বেশি দেরি করলেন না প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

রাজস্থানে এক জনসভায় নরেন্দ্র মোদী বলেন, ইউপিএ জমানায় এই চপার কেলেঙ্কারি ঘটেছিল। এই সরকারের আমলে সেই ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে এবং মূল অভিযুক্ত ধরাও পড়েছে। কংগ্রেসের আমলে যে হারে দুর্নীতি হয়েছে তার প্রত্যক্ষ প্রমাণ এটি। কংগ্রেসকে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, এবার শুধু অভিযুক্তের মুখ খোলা বাকি, তারপর ইউপিএ-র আসল সত্য বেরিয়ে আসবে।

প্রসঙ্গত, ২০০৭ সালে তৎকালীন কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে ভিভিআইপি-দের জন্য ১২ টি বিলাসবহুল হেলিকপ্টার কেনার চুক্তি হয়েছিল। চুক্তির ভিত্তিতে তৎকালীন ইউপি-এ সরকারকে ১২টি হেলিকপ্টার বা চপার দিয়েছিল অগস্টা ওয়েস্টল্যান্ড সংস্থা৷ ১২টির মধ্যে ৪টি ব্যবহার করা হত সেনার কাজে, অপর ৮টি চপার প্রধানমন্ত্রী, রাষ্ট্রপতির মতো ভিভিআইপিদের যাতায়াতের জন্য৷ সেই চুক্তিতেই ২২৫ কোটি টাকা ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ উঠেছিল এবং যার মূলচক্রী হিসাবে নাম উঠেছিল এই ক্রিশ্চিয়ান মাইকেলের। শুধু তাই নয় এই অর্থ ভারতের বিভিন্ন প্রভাবশালীদের পকেটেও এসেছিল বলেও অভিযোগ। এই ঘটনায় তৎকালীন কংগ্রেস সভাপতি সনিয়া গান্ধী এবং বায়ুসেনা প্রধান এসপি ত্যাগীরও নাম জড়ায়। গ্রেফতারও হতে হয় বায়ুসেনা প্রধানকে। পরে অবশ্য তিনি জামিন পান।

লোকসভা ভোটের প্রাক্কালে এই ইস্যু বিজেপি এবং কংগ্রেস দুই পক্ষের জন্যই যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। এর আগে ইটালির মিলানের আদালত এই মামলায় দুর্নীতি নেই বলে রায় দেয়, তাতে হাঁফ ছেড়ে বসে কংগ্রেস। কিন্তু মূল দালাল ক্রিশ্চিয়ান গ্রেফতার হওয়ার পর আবারও আশঙ্কার কালো মেঘ দেখছে কংগ্রেস। ভোটের আগে এই গ্রেফতারির পুরো কতিত্বই বিজেপি নিতে চাইছে। সেক্ষেত্রে রাজনৈতিক দ্বন্দ্বও যে আরও বাড়ল তা বলাই বাহুল্য।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here