ডেস্ক: মূর্তি ভাঙাকে কেন্দ্র করে দুই সম্প্রদায়ের হিংসার জেরে রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছে বিহারের নওদা। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে একে অপরকে দুষছে বিহারের প্রতিপক্ষ দুই রাজনৈতিক দল জেডিইউ এবং আরজেডি। এরইমাঝে বিহারে হিংসা ছড়ানোর ঘটনায় সরাসরি আরএসএস প্রধান মোহন ভগবতকে দায়ী করলেন জেডিইউ সুপ্রিমো লালুপ্রসাদ যাদবের পুত্র তেজস্বী যাদব।

শুক্রবার সাংবাদিকদের সামনে লালুপুত্র তেজস্বী আরএসএস প্রধান মোহন ভগবতকে উদ্দেশ্য করে সরাসরি বলেন, ‘সম্প্রতি ১৪ দিনের জন্য বিহারে এসেছিলেন মোহন ভগবত। রামনবমীর আগে তিনি এখানে প্রশিক্ষণ দিয়ে গিয়েছেন কিভাবে এখানে সাম্প্রদায়িক হিংসা ছড়ানো যায়। এখন বিহারের মানুষ বুঝতে পারছেন কেন তিনি বিহার সফরে এসেছিলেন।’ একইসঙ্গে বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারকেও একহাত নিতে ছাড়েননি তিনি। তাঁর কথায়, ‘বিজেপি-র হাতে পুতুল হয়ে গিয়েছেন নীতীশ। বিজেপি আসলে যা করতে চায়, নীতীশ তাদের সেটাই করতে দিচ্ছেন।’

অন্যদিকে, বিহারের হিংসা প্রসঙ্গে সেখানকার মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারকে নিশানা করে তাঁকে একহাত নিয়েছেন পশুখাদ্য কেলেঙ্কারি মামলায় দোষী সাব্যস্ত জেলবন্দি লালুপ্রসাদ যাদব। মুখ্যমন্ত্রীকে সরাসরি আক্রমণ করে তিনি বলেন, ‘নীতিশের খেল খতম হয়ে গিয়েছে। বিহারে বিজেপি আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছে। হিংসার জন্যও বিজেপিকেই দায়ি করেন তিনি।’ এদিকে চারিদিক থেকে চাপের মুখে পড়ে বিহারে কিছুটা কোণঠাসা হয়ে পড়েছে নীতীশের দল জেডিইউ। দলের সাধারণ সম্পাদক শ্যাম রজক এদিন সাংবাদিকদের বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলার প্রশ্নে নীতীশজী কোনও আপস করবেন না। তার জন্য আমরা যে কোনও মূল্য দিতে রাজি আছি।’

উল্লেখ্য, মুর্তি ভাঙাকে কেন্দ্র করে বিহারের নওদায় দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে ছড়ায় হিংসা। পরে বিহারের ভাগলপুর, আরা, ঔরঙ্গাবাদ, সমস্তিপুর, নালন্দা সহ আরও একাধিক এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে হিংসার রেশ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এলাকায় নেমেছে বিশাল পুলিশবাহিনী। অশান্তি ছড়ানোর অভিযোগে এখনও পর্যন্ত গ্রেফতার হয়েছেন দুই বিজেপি নেতা। ধৃত নেতাদের নাম দীনেশ ঝা এবং মোহন পাটওয়া। এছাড়াও গ্রেপ্তার করা হয়েছে ১০ জনকে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here