শুভ ‘এমবাপে’ ঘোষের ম্যাজিকে বর্ণহীন রেনবো

0
547
kolkata bengali news

মোহনবাগার-১ (শুভ) রেনবো-০ 

সায়ন মজুমদার, কল্যাণী: কল্যাণীর সবুজে ঘেরা মসৃণ মাঠে নৈশালোকে ম্যাচ। কলকাতার ক্যাকফোনি থেকে অনেক দূরে নিরালায় এই ম্যাচের পরিবেশ সত্যিই খুব সুন্দর। আর সেই একই রকমের সুন্দর বাগানের নয়া ‘তারকা’ শুভ ঘোষ। তার মাঠে নামার আগে পর্যন্ত সাদা মাটা ফুটবল খেলছিল বাগান। তিনি নামতেই সেই বাগানে রঙের ছটা। আর অন্যদিকে, ভালো চেষ্টা করেও শেষমেশ পারল না সৌমিক দে’র দল। এই ম্যাচে জয়ের ফলে ১৪ পয়েন্ট নিয়ে লিগের দুই নম্বর উঠে এল মোহনবাগান।

এদিন প্রথম একাদশে তিনটি পরিবর্তন করেছিলেন কোচ কিবু ভিকুনা। সুরাবুদ্দিন, সালভাদর ও মোরান্তের জায়গায় প্রথম থেকে শুরু করেন ব্রিটো, গঞ্জালেস ও ত্রিনিদাদ ও টোবাগোর সাইরাস। গত এরিয়ান ম্যাচে দু’টি বাজে গোল খেলেও দেবজিতের প্রতি ভরসা রেখেছিলেন কিবু। তবে এদিন শুরু থেকে সামনে একা সুহেরকে রেখে ৪-৫-১ ফর্মেশনে খেলে মোহনবাগান। ফলে শুরু থেকে আক্রমণে কিছুটা ঘাটতি দেখা যাচ্ছিল সবুজ মেরুনের খেলায়। অন্যদিকে, এদিন আবার রেনবো কোচ হিসেবে অভিষেক হল ইস্টবেঙ্গলের ঘরের ছেলে সৌমিক দে’র। আর এদিন কিন্তু লাল হলুদ জার্সি পরে ম্যাচ খেলতে নেমেছিল রেনবো।

ম্যাচের শুরু থেকেই কিন্তু মোহনবাগানের সঙ্গে তালে তালে রেখে লড়ছিল রেনবো। তবে ম্যাচের শুরুতেই বিপক্ষ বক্সের একটু বাইরে ফ্রিকিক পায় বাগান। যদিও তার ফায়দা তুলতে ব্যর্থ হয় দল। এর মিনিট চারেক পরেই সাইরাসের থ্রু ধরে রেনবো ডিফেন্স টপকে বক্সের ভেতর ঢুকে পড়েছিলেন বেইতিয়া। কিন্তু বল রিসিভ করতে ভুল করেন তিনি। পাল্টা আক্রমণ চালাচ্ছিল সৌমিক দের দলও। ২০ মিনিটে বাম প্রান্ত থেকে দুরন্ত দৌড়ে চুলোভাকে টপকে সতীর্থ চিডির উদ্দেশে ক্রস তোলেন। কিন্তু অদ্ভুতভাবে দেবজিৎকে প্রায় ফাঁকা পেয়েও বল বাইরে মারেন রেনবো স্ট্রাইকার। ২৯ মিনিটে আরেকটি সুবর্ণ সুযোগ মিস করেন সুহের। ব্রিটোর মাইনাসে পা ছোয়াতেই ব্যর্থ হন তিনি।

kolkata bengali news

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুটাও হল সেই সুহেরের মিস থেকেই। ৫৯ মিনিটে বাম প্রান্ত ধরে আগুয়ান গুরজিন্দরকে ফাউল করলে ফ্রিকিক পায় বাগান। বেইতিয়ার তোলা বলে মাথা ঠেকাতে ব্যর্থ হন বাগানের ২০ নম্বর। আক্রমণে সুহেরের ব্যর্থতা ঢাকতে ৫৬ মিনিটে শুভকে নামান কিবু। আর তাতেই এল সাফল্য। ৬৬ মিনিটে বেইতিয়ার কর্নার থেকে দুরন্ত স্পটজাম্পে হেড করে বল জালে জড়ান সুপার সাব শুভ ঘোষ। আর তারপরেই বুকের কাছে দুইহাত জোড়া করে ঠিক এমবাপে স্টাইলে অভিনব গোল সেলিব্রেশন করলেন তিনি। তবে শুধু গোলই নয়, বাগান আক্রমনেও আলাদা ঝাঁজ আনলেন শ্যামনগরের এই তরুণ। প্রথমার্ধে যতটা লড়াই করল রেনবো, দ্বিতীয়ার্ধে সেই লড়াই উধাও। ইনজুরি টাইমে গঞ্জালেসের ফ্রিকিকে মাথা ছুঁইয়ে বল গোলে পাঠানোর চেষ্টা করেন সালভাদর। কিন্তু তা বারে লেগে প্রতিহত হয়। শেষমেশ শুভর করা একমাত্র গোলে ম্যাচ জিতে নেয় বাগান।

ম্যাচের পর রেনবো কোচ সৌমিক দে জানান, ‘প্লেয়াররা খুব ভালো খেলেছে। দুদিন আগে মাত্র দায়িত্ব নিয়েছি। বাঙালি ছেলেদের বুঝিয়েছিলাম মোহনবাগানের বিরুদ্ধে কিভাবে খেলতে হয়। আমি বলবো আমার আশার থেকে বেশি ভালো খেলেছে। আরেকটু সময় দরকার। আরো ভালো ফুটবল আশা করি ওরা খেলবে। আর মোহনবাগান আজ খুব একটা ভালো ফুটবল খেলতে পারেনি। সাইরাস তো উচ্চতাকে কাজে লাগিয়ে বেরিয়ে গেল। নাহলে ওই কোয়ালিটির ভারতীয় অনেক ফুটবলার আছে।’

তিন পয়েন্ট পেয়ে তৃপ্ত মোহনবাগান কোচ কিবু জানান, ‘রেসাল্ট নিয়ে আমি খুশি। তবে আগের দিন বেশি ভালো খেলেছিলাম বলে মনে করি। বিপক্ষ খুব একটা বেশি সুযোগ পায়নি। এখন আমাদের ১৪ পয়েন্ট। আর তিনটি ম্যাচ আছে। নয় পয়েন্ট পেতে যায়। আর শুভ বেশ ভালো খেলছে। অল্প বয়সী ছেলে। একটা কিলিং ইন্সটিং আছে। নাওরেম, সাহিল এরাও অল্পবয়সী অথচ প্রতিভাবান খেলোয়াড় রয়েছে। আর সাইরাস খুব ভালো ডিফেন্স করেছে। লম্বা চেহারার পাশাপাশি ঠান্ডা মাথায় নিজের কাজ করে। তবে ওকে আরও সময় দিতে হবে। বিপক্ষ দলও ভালো রক্ষণ করেছে। তাই এক গোলে আমি খুশি।’

মোহনবাগানের প্রথম একাদশ: দেবজিৎ, চুলোভা, সাইরাস, কিমকিমা, গুরজিন্দর, ব্রিটো, গঞ্জালেস, সাহিল, নাওরেম, বেইতিয়া ও সুহের।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here