kolkata bengali news

মোহনবাগান- ৪ (সুহের দুই, ব্রিটো দুই), সাদার্ন সমিতি- ০

সায়ন মজুমদার: খেলা শুরুর আগে থেকে প্রবল বৃষ্টি, খেলা হওয়া নিয়ে সংশয়, মোহনবাগানের লিগ খেতাব থেকে ছিটকে যাওয়া ইত্যাদি কারণে কিছুটা হলেও ম্যাচের আকর্ষণ বেশ কম ছিল। যদিও আপাত নিয়মরক্ষার ম্যাচেও বিপক্ষকে ছারখার করে দিল সবুজ মেরুন। মোহন খেলোয়াড়দের দুরন্ত পাসিং ফুটবল অবনমনের খাদের কিনারায় আরও এগিয়ে গেল সাদার্ন সমিতি। তিন প্রধানের মধ্যে মোহনবাগান মাঠের অবস্থা সবচেয়ে ভালো। প্রবল বর্ষাতেও একদিন মোটামুটি ভালোই ছিল মাঠ। কিন্তু এদিনের প্রবল বৃষ্টিতে সেই মাঠেও বেশ জল জমে যায়। কিন্তু মোহনবাগানের মাঠ কর্মীদের তৎপরতায় কিছুক্ষন পরেই মাঠ খেলার মত তৈরি হয়ে যায়।

দল লিগ খেতাব থেকে প্রায় ছিটকে গিয়েছে। এই অবস্থায় দলে সাতটি পরিবর্তন করেছিলেন মোহন কোচ কিবু ভিকুনা। তেকাঠির তলায় দীর্ঘদিন পর ফেরেন শিল্টন পাল। এছাড়া সাদার্নের বিরুদ্ধে প্রথম থেকে দলে ছিলেন আশুতোষ, বিক্রমজিৎ, মোরান্তে, ব্রিটো, সালভাদর ও শিল্টন ডি’সিলভা। এদিন ম্যাচ শুরুর আগে থেকে প্রবল বৃষ্টি (বৃষ্টির তীব্রতায় মোহনবাগান মাঠ থেকে দেখা যাচ্ছিল না দ্য ফরটিটুও) নামায় প্রায় ১৪ মিনিট দেরিতে খেলা শুরু হয়। আর প্রবল বর্ষণে মাঠের হালও বেশ খারাপ হয়ে যায়। জল জমে যায় ঘাসের তলায়। ফলে বল কন্ট্রোল তো দূর, দাঁড়াতেও বেশ সমস্যা হচ্ছিল দুই দলের ফুটবলারদের। তা সত্ত্বেও যথেষ্ট ভালো ফুটবল উপহার দিলেন কিবুর ছেলেরা।

খেলা শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বৃষ্টি একটু ধরায় সমর্থকরা তখন সবে ছাতা, রেইনকোট যে যার মতো গোছাতে ব্যস্ত, সেই সময়েই প্রথম গোলটি পেয়ে গেল মোহনবাগান। সৌজন্যে সালভা-সুহের যুগলবন্দী। আশুতোষের তোলা বল চেস্ট ট্র্যাপ করে সুহেরের জন্য নামিয়ে দেন সালভা। সেই বল গোলে ঠেলতে দ্বিধা করেননি সুহের। মাত্র পাঁচ মিনিটের মধ্যে গোল পেয়ে যাওয়ায় স্বাভাবিক ভাবেই আক্রমণের ঝাঁজ বাড়ায় সবুজ মেরুন। সেই রকম একটি আক্রমণ থেকেই ১৮ মিনিটে বল নিয়ে একা সাদার্ন বক্সে ঢুকে যান ব্রিটো। তাকে থামাতে পিছন থেকে ট্যাকল করেন স্যামুয়েল। মোহন খেলোয়াড়রা পেনাল্টির জোরালো আবেদন জানালেও রেফারি সুরজিৎ দাস তাতে কর্ণপাত করেননি। এরপর ৩০ মিনিটে বেইতিয়ার কর্নার থেকে হেডে বল সাদার্ন জালে জড়ান সালভা। কিন্তু ফাউলের কারণে তার গোল বাতিল হয়ে যায়। অন্যদিকে, সাদার্নের খেলায় কোনও ঝাঁজই ছিল না। একমাত্র আল আমনাই একটু যা চেষ্টা চালাচ্ছিলেন। সাদার্ন যে গুটিকয় আক্রমণ শানাল তা মূলত আমনার প্রচেষ্টাতেই। ৪৪ মিনিটে সুহেরের মাইনাস বিপক্ষ গোলেট সামনে ধরেন সালভাদর। কিন্তু তাও গোল করতে পারেননি তিনি। তাকে বক্সে কড়া ট্যাকল করেন সাদার্ন ডিফেন্ডার। ফের একবার পেনাল্টির আবেদন করেন মোহনবাগান খেলোয়াড়রা। কিন্তু এবারও তা ফলপ্রসূ হয়নি।

প্রথমার্ধের খেলা শেষ হওয়ার পর আরও ঝেঁপে আসে বৃষ্টি। টানা বৃষ্টিতে মাঠের জায়গায় জায়গায় জমে যায় দল। বিরতির পর রেফারিরা মাঠে নামতে মাঠের অবস্থা নিয়ে রেফারিকে অভিযোগ জানান সাদার্ন সমিতির খেলোয়াড়রা। বেশ কিছুক্ষণ ধরে মাঠ পরীক্ষা করেন রেফারি। মাঠে এসে ফিরে যান মোহন খেলোয়াড়রাও। এরপর প্রায় ৩৫ মিনিট অপেক্ষার পর ফ্লাড লাইট জ্বালিয়ে ফের শুরু হয় খেলা। তবে দুই পক্ষকেই ছন্দ ফিরে পেতে বেশ স্ট্রাগল করতে হয়। ৫৩ মিনিটে দুরন্ত গতিতে বিপক্ষ ডিফেন্সকে পরাস্ত করে গোলের খুব কাছে পৌঁছেও কিপারের হাতে বল মারেন নাওরেম। এর কিছু পরে সাদার্ন ডিফেন্সের ভুল থেকে বল ধরে বিপক্ষ গোল লক্ষ্য করে শট ক্রসপিসে লেগে ফিরে আসে। ৬৪ মিনিটে ফের একবার গোল করেন সুহের। এবার এসিস্ট ব্রিটোর। দুই গোলের লিড নিতেই সালভাদরকে বসিয়ে নতুন বিদেশি জুলেন কলিনাসকে নামান কিবু। তিনি নামার ১২ মিনিটের মধ্যেই গোল করালেন তিনি। তার পাস থেকেই তৃতীয় গোলটি করেন ব্রিটো। ম্যাচের ৮১ মিনিটে ময়দানের বিখ্যাত ইরানিয়ান স্ট্রাইকার জামশেদ নাসিরির ছেলে কিয়ান নাসিরিকে নামান কিবু। দশ মিনিটের খেলায় কাউকে বিচার করা উচিত নয়, তবুও কিয়ানের টাচ দেখে বলাই যায়, মাঝা ঘষা করলে এই ছেলের মধ্যেও ক্ষমতা আছে নজর কাড়ার। অতিরিক্ত সময়ে আরও একটি গোল করেন ব্রিটো। শেষদিকে অবশ্য সাদার্নের ফৈজলের শট বারে লাগে।

অন্যদিকে, কল্যাণীতে সন্তোষ ট্রফির কোয়ালিফায়ারে বিহারের কাছে ১-০ গোলে হারল বাংলা। এই বিহারকে আগের ম্যাচে ছয় গোল দিয়েছিল উড়িষ্যা।

মোহনবাগানের প্রথম একাদশ: শিল্টন পাল, আশুতোষ, বিক্রমজিৎ, মোরান্তে, গুরজিন্দর, ব্রিটো, নাওরেম, শিল্টন ডি’সিলভা, বেইতিয়া, সুহের ও সালভা চামোরো

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here