football news

চার্চিল ব্রাদার্স- ০           মোহনবাগান- ৩ (পাপা, সুহের, তুরসুনভ)

 

নিজস্ব প্রতিবেদন: গত বছর ডিসেম্বরের ৮ তারিখ। ঘরের মাঠে চার্চিলের কাছে চার গোল খেয়েছিল মোহনবাগান। কল্যাণীর গ্যালারিতে উঠেছিল ‘গো ব্যাক কিবু’ ধ্বনি। এই মোহনবাগান দল কত খারাপ, তা নিয়ে চুলছেড়া বিশ্লেষণে ফেসবুকে ঝড় তুলেছিলেন অনেক বোদ্ধারা। তারপর অনেকটা সময় কেটে গিয়েছে। হারতে ভুলে গিয়েছে মোহনবাগান। সামনে যে দলই আসুক না কেন, রেয়াত নয়। আর তাই যে চার্চিলের কাছে এখনও পর্যন্ত লিগের একমাত্র হার, সেই দলকেই তাদের ঘরের মাঠে গোলের মালা পড়িয়ে মধুর প্রতিশোধ মোহনবাগানের। কিবু বাহিনী তিন গোলে জিতলেও ফলাফল ৫-০ বা ৬-০ হলেও কিছু করার থাকত না।

এদিন দলে দুটি পরিবর্তন করেছিলেন মোহন কোচ কিবু ভিকুনা। গত ম্যাচে ধনচন্দ্র লাল কার্ড দেখায় প্রথম এগারোয় ফেরেন গুরজিন্দর। আর তুরসুনভের জায়গায় আসেন সাইরাস। পাপা ও সুহেরকে সামনে রেখে ৪-৪-২ ছকে দল সাজিয়েছিলেন তিনি। কিবু জানতেন বিপক্ষ চার্চিলের প্রধান অস্ত্র উইলিস প্লাজা। আর তাঁকে আটকাতে পারলেও যুদ্ধ অনেকটাই সহজ হয়ে যাবে। যেমন ভাবা তেমন কাজ। প্লাজার গায়ে জুড়ে দিলেন দীর্ঘদেহী সাইরাসকে। প্রথমার্ধে প্লাজাকে সেইভাবে নড়তেই দিলেন না তিনি। প্লাজা আটকে যাওয়াতেই ফ্লপ চার্চিল। আর সেই সুযোগে পাসিং ফুটবল খেলে গোটা মাঠ দাপিয়ে বেরালো পালতোলা নৌকা বাহিনী।

এদিন শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলা শুরু করে মোহনবাগান। আর সেই আক্রমনের ফলেই পঞ্চম মিনিটে চার্চিল বক্সের বাইরে ফ্রিক্রিক পায় সবুজ মেরুন। আর সেই ফ্রিকিক থেকেই আসে প্রথম গোল। বেইতিয়ার মাপা ফ্রিকিক থেকে বল পাপার জন্য সাজিয়ে দেন গঞ্জালেস। সেই বল খুব সহজেই গোলে পাঠান পাপা। শুরুতেই গোল পেয়ে যাওয়ার ফলে আরও তেড়েফুঁড়ে ওঠে পালতোলা নৌকা। মুহুর্মুহু বেশ কয়েকটি আক্রমণও গড়ে তোলেন বেইতিয়া, গঞ্জালেসরা। কিন্তু প্রথম ৩০ মিনিটের পর থেকেই কেমন যেন বদলে যায় খেলার অভিমুখ। এবার পাল্টা আক্রমণে ওঠে চার্চিলও। ৩২ মিনিটে প্লাজার একটি শট অল্পের জন্যও লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। এই সময় শঙ্কর আউটিংয়ে বেশ কিছু ভুল করছিলেন। যদিও ম্যাচের রাশ ফের একবার নিজেদের দখলে নিতে মোহনবাগানের বেশি সময় লাগেনি। ৩৯ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করার সুযোগ পেয়েছিলেন সুহের। কিন্তু পাপার মাইনাসে পা ছোঁয়াতে ব্যর্থ হন তিনি।

প্রথমার্ধের শুরুতে যেভাবে গোল তুলে নিয়েছিল মোহনবাগান, দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেও সেই একই ভাবে দলের ব্যবধান দ্বিগুণ করেন সুহের। মাঝমাঠ থেকে আসা বল ধরে একক দক্ষতায় গোল করে যান তিনি। এর মিনিট সাতেক পর আরও একটি গোল সবুজ মেরুনের। নাওরেমের বাম প্রান্ত থেকে ভাসানো বলে পা ঠেকিয়ে গোলে পাঠান পরিবর্ত খেলোয়াড় তুরসুনভ। তিন গোল হয়ে গেলেও চাপ একফোঁটাও কমায় নি কিবু ভিকুনার দল। ৭৩ মিনিটে সুহেরের শট কোনও রকমে বাঁচান চার্চিল কিপার। এরপর পরপর দুবার গোলের সুযোগ নষ্ট করেন পাপা। প্রথমে পাপার শট কোনও রকমে বাঁচান চার্চিল ডিফেন্ডার। আর তার পরের মুহূর্তেই সেই বাবাকারের হেড সাইড পোস্টে লাগে। শেষ মুহূর্তে তুরসুনভের আরও একটি শট বিপক্ষ কিপার সেভ করেন। শেষমেশ ৩-০ ব্যবধানে ম্যাচ জিতে নেয় মোহনবাগান। এই ম্যাচে জয়ের ফলে ১৩ ম্যাচে ৩২ পয়েন্ট নিয়ে সকলের ধরাছোঁয়ার আরও বাইরে চলে গেল কিবু ভিকুনার দল।

মোহনবাগানের প্রথম একাদশ: শঙ্কর, মোরান্তে, গুরজিন্দর, আশুতোষ, সাইরাস, সাহিল, বেইতিয়া, গঞ্জালেস, নাওরেম, সাহিল ও বাবাকার

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here