football news

মোহনবাগান- ১ (পাপা বাবাকার)     পঞ্জাব এফসি- ০

 

নিজস্ব প্রতিবেদন: আরও একটা ম্যাচ, আরও একটা জয়। সত্যি এবার যেন স্বপ্নের ছন্দে আছে মোহনবাগান। সামনে যেই দলই আসছে বাগানের ঝাঁজে স্রেফ উড়ে যাচ্ছে। এদিন যেমন বিধ্বস্ত হল পঞ্জাব এফসি। টানা নয় ম্যাচ অপরাজিত থাকার পর চূড়ান্ত ছন্দে থাকা মোহনবাগানের সামনে এসে থেমে গেল পঞ্জাব। আর ইয়ান ল’র ছেলেদের হারিয়ে বাকি সকলের ধরা ছোঁয়ার আরও বাইরে চলে গেল কিবুর বাগান।

আই লিগের ফিরতি পর্বের প্রথম খেলায় ৪-৪-২ ছকে দল সাজিয়েছিলেন বাগান কোচ কিবু ভিকুনা। ডিফেন্সে রেখেছিলেন আশুতোষ, মোরান্তে, গঞ্জালেস ও ধনচন্দ্রকে। মাঝমাঠে বেইতিয়া, সাহিলের সঙ্গে সুহের ও নাওরেম। আর আক্রমণের দায়িত্ব ছিল তুরসুনভ ও পাপা বাবাকারের ওপর।

এদিন এক বনাম দুইয়ের খেলা হলেও এদিন কিন্তু শুরু থেকেই নিজেদের আধিপত্য দেখাতে শুরু করে মোহনবাগান। আসলে এই আই লিগে যে ছন্দে আছে সবুজ মেরুন, তাতে ঘরের মাঠে যে বিপক্ষকে শুরু থেকেই ‘কে পাড়ার দাদা’ সেটা বোঝাবেন গঞ্জালেস, বেইতিয়ারা সেটাই স্বাভাবিক। ম্যাচের প্রথম মিনিট থেকেই বেশ কিছু আক্রমণ গড়ে তুলতে থাকে লিগ শীর্ষে থাকা মোহনবাগান। যদিও বেশিরভাগ আক্রমণই হচ্ছিল মূলত ডানপ্রান্ত থেকে, আশুতোষ মেহতার ওভার ল্যাপিংয়ের সুবাদে। কিন্তু পঞ্জাব এফসিও শেষ নয় ম্যাচে হারেনি। তাদের জমাট ডিফেন্সের কাছে বারবার আটকা পড়ছিলেন পাপা, তুরুনভরা। অন্যদিকে, মাঝে মাঝে আক্রমণে উঠছিলেন পঞ্জাব এফসির খেলোয়াড়রাও। কিন্তু সেইভাবে করা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়নি শঙ্করকে। বরং ৪২ ওভারে কাঙ্ক্ষিত গোলটি পেয়ে যায় সবুজ মেরুন। ধনচন্দ্রর লম্বা থ্রো বক্সে এসে পড়লে তা থেকে হেডে গোল করে যান পাপা বাবাকার।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেও সেই প্রথমার্ধের মতোই ডমিনেটিং ফুটবল খেলা চালিয়ে যেতে থাকে মোহনবাগান। বারবার আক্রমণে উঠে আসছিলেন বাবাকার, সুহেররা। অন্যদিকে, নিজেদের দখলে বল রেখে ম্যাচের রাশ নিজেদের আয়ত্তে আনার চেষ্টা করছিলেন পঞ্জাবের খেলোয়াড়রাও। ৫২ মিনিটে ডান প্রান্ত থেকে তুরসুনভের সেন্টার থেকে দুরন্ত সাইড ভলি মারেন পাপা। কিন্তু তা সেভ করেন বিপক্ষ গোলকিপার। ৬১ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করার সুযোগ পেয়ে যায় সবুজ মেরুন। পঞ্জাব বক্সের বাইরে থেকে বেইতিয়ার ছোট্ট ফ্রিকিক থেকে গোল করে যান মোরান্তে। কিন্তু তাঁর গোল বাতিল করে দেন রেফারি। যদিও এতে দমে যাননি সবুজ মেরুন খেলোয়াড়রা। আরও বেশ কিছু আক্রমণ গড়ে তোলেন তারা। তবে শেষ দশ মিনিট যেন হঠাৎ করেই জ্বলে ওঠে পঞ্জাবের দলটি। মুহুর্মুহু বাগান গোল লক্ষ্য করে আক্রমণ শানান তারা। এই সময় যেন কিছুটা নড়বরে হয়ে পরে বাগান রক্ষণ। কিন্তু শঙ্করের বেশ কিছু ভাল সেভের সুবাদে অঘটন কিছু ঘটেনি। এই ম্যাচে জয়ের ফলে ১১ ম্যাচে বাগানের মোট পয়েন্ট ২৬। দ্বিতীয় স্থানে থাকা পঞ্জাবের সঙ্গে তাদের পয়েন্টের ফারাক ৯। ফলে খুব বড় কোনও অঘটন না হলে ইস্টবেঙ্গলের শতবর্ষে ভারত সেরা হতে চলেছে মোহনবাগানই।

মোহনবাগানের প্রথম একাদশ:

শঙ্কর, আশুতোষ, মোরান্তে, গঞ্জালেস, ধনচন্দ্র, সাহিল, বেইতিয়া, নাওরেম, সুহের, তুরসুনভ ও বাবাকার

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here