mohunbagan news

মোহনবাগান- ৪ (গঞ্জালেস দুই, সুহের, শুভ)    ট্রাউ- ০

নিজস্ব প্রতিবেদন: চাপে পড়লে কলকাতার দুই প্রধান যে কতটা ভয়ঙ্কর হয়ে উঠতে পারে, সেটা গতকাল দেখিয়েছিল ইস্টবেঙ্গল। আর আজ দেখিয়ে দিল মোহনবাগান। লিগের প্রথম ম্যাচে ড্র, তারপর চার্চিল ম্যাচে চার গোল খাওয়া, কিবুনার উদ্দেশ্যে সমর্থকদের গো ব্যাক ধ্বনি, সব মিলিয়ে চাপের প্রেশারকুকারে ছিল কলকাতার অন্যতম প্রধান। আর ইস্টবেঙ্গলের মতোই পাহাড়ের দলকে হারিয়েই পাহাড় প্রমাণ চাপ থেকে বেড়িয়ে এল মোহনবাগান। দর্শনীয় ফুটবল খেলে ডগলাসের ট্রাউকে স্রেফ উড়িয়ে দিল সবুজ মেরুন।

গত ম্যাচে চার্চিলের কাছে বিধ্বস্ত হওয়ার পর এদিন দল দুটি পরিবর্তন করেছিলেন কিবু ভিকুনা। প্রথমত গোলে দেবজিৎকে প্রথম একাদশের বাইরে রেখেছিলেন। সেই সঙ্গে বিয়ের কারণে নেই শিল্টনও। তাই তৃতীয় কিপার শঙ্করকেই বাগান তেকাঠির নিচে রেখেছিলেন কিবু। সেই সঙ্গে ব্রিটোর বদলে দলে এসেছিলেন রোমারিও। আই লিগের দুই ম্যাচের বিপরীত এদিন যেন একেবারে অন্য মোহনবাগান। আক্রমণ, মাঝমাঠ বা ডিফেন্স সবেতেই নজর কাড়া ফুটবল। তবে সাইরাসকে নিয়ে কিছু চিন্তা থাকছেই। অন্যদিকে, সাধুবাদ জানাতে হয় ট্রাউকেও। নিয়মিত ব্যবধানে গোল খেলেও কখনই নিজেদের গুটিয়ে নেয়নি ডগলাসের ছেলেরা। বেশ ওপেন ফুটবলই খেলেছে তারা। সেই সুবাদেই বেশ মাঠ জুড়ে খেলার সুযোগ পায় মোহনবাগানও। একেবারে তিকিতাকা স্টাইলে পাসিং ফুটবল খেলেই আই লিগের প্রথম জয় তুলে নিল সবুজ মেরুন।

ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দলই ওপেন ফুটবল খেলা শুরু করে। আর সেই ওপেন ফুটবলের সৌজন্যেই চতুর্থ মিনিটে মূল্যবান গোল পেয়ে যায় মোহনবাগান। বেইতিয়ার কর্নার ট্রাউ বক্সে এসে পড়লে পায়ের জঙ্গলের মাঝেই হঠাৎ একটি লুজ বল পেয়ে যান ফ্রান গঞ্জালেস। চকিতে শট নিয়ে সেই বল ট্রাউ জালে জড়িয়ে দেন এই স্প্যানিশ তারকা। তবে শুরুতেই গোল খেয়ে গেলেও মোটেই দমে যায়নি ডগলাসের দল। পাসিং ফুটবল খেলে বারবার মোহন বক্সে হানা দিতে থাকে ট্রাউ। পাল্টা অবশ্য মোহনবাগানও বেশ গতিময় ফুটবল খেলে সবুজ মেরুনও। ১৯ মিনিটে ব্যবধান দ্বিতীয় গোলটি পেয়ে যেতেই পারত মোহনবাগান। নাওরেমের সাজিয়ে দেওয়া বল প্রায় ফাঁকা গোলে ঠেলতে ব্যর্থ হন কলিনাস। যদিও ক্রমাগত চাপ বজায় রাখার সুফল ৩৮ মিনিটে পেয়ে যায় পালতোলা নৌকা বাহিনী। ডান উইং ধরে আশুতোষ মেহেতা দুরন্ত দৌড়ে গোলের বল সাজিয়ে দেন সতীর্থ সুহেরের জন্য। সেই বল ফলো করে বাম পায়ের ছোঁয়ায় তা ট্রাউ জালে জড়ান বাগান স্ট্রাইকার।

প্রথমার্ধের পর দ্বিতীয়ার্ধেও শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে কিবু ভিকুনার দল। আর বিরতির পরে প্রথম মিনিটেই ট্রাউ ডিফেন্সের ভুলের সুযোগ নিয়ে দলের হয়ে তৃতীয় গোলটি করে ফেলেন সেই ফ্রান গঞ্জালেস। ম্যাচের ফল নির্ধারিত হয়ে যেতেই বেইতিয়াকে তুলে নেন কিবু। তাতেও অবশ্য মোহন আক্রমণের ঝাঁজ কমেনি। ৬৮ মিনিটে ট্রাউ কিপারের পা থেকে বল ছিনিয়ে নিয়ে নাওরেমের উদ্দেশ্যে বল বাড়ান আশুতোষ। কিন্তু ট্রাউ ডিফেন্ডার উচের তৎপরতায় সেই যাত্রায় বাঁচে মণিপুরের দলটি। ৭৯ মিনিটে মোহনবাগান বক্সের বাইরে একটি ফ্রিকিক পায় ট্রাউ। সেই স্পটকিক থেকে বল মোহন ওয়ালে লেগে পৌঁছে যায় ট্রাউয়ের ব্রাজিলিয়ান স্ট্রাইকার মার্সেলের কাছে। কিন্তু তাঁর দুর্বল পুশ ঝাঁপিয়ে পরে বাঁচান শঙ্কর। এরপর ম্যাচের একেবারে শেষ লগ্নে শেখ ফৈয়াজের সেন্টারে মাথা ছুঁইয়ে ট্রাউ কফিনে শেষ পেরেক পোঁতেন পরিবর্ত খেলোয়াড় শুভ।

মোহনবাগানের প্রথম একাদশ: শঙ্কর, মোরান্তে, গুরজিন্দর, আশুতোষ, বেইতিয়া, রোমারিও, নাওরেম, কলিনাস, সুহের, সাইরাস ও ফ্রান গঞ্জালেস

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here