football news

পঞ্জাব এফসি- ১ (ডিকা)     মোহনবাগান- ১ (শুভ)

 

নিজস্ব প্রতিবেদন: প্রায় হারতে হারতে কোনওরকমে ড্র। পঞ্জাবের বিরুদ্ধে আই লিগের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে বাগানের মানরক্ষা করলেন বঙ্গ তনয় শুভ। গোটা ম্যাচ খুব একটা ভাল ফুটবল উপহার না দিতে পারলেও পঞ্জাব থেকে ১ পয়েন্ট নিয়েই ডার্বি খেলতে নামবে কিবু বাহিনী। পিছিয়ে পরেও এই ড্র ১৯ তারিখ বড় ম্যাচের আগে স্বাভাবিক ভাবেই কিছুটা অক্সিজেন দেবে মোহনবাগানকে।

পঞ্জাবের বিরুদ্ধে এদিনের ম্যাচে নিজের দলে কোনও পরিবর্তন আনেননি কিবু। পাপা বাবাকারকে লোন স্ট্রাইকার হিসেবে ব্যবহার করে ৪-২-৩-১ ছকে দল সাজিয়েছিলেন তিনি। ডিফেন্সে আশুতোষ, মোরান্তে, সাইরাসের সঙ্গে ধনচন্দ্র। মাঝমাঠে গঞ্জলেস ও সাহিল। সামনে পাপার পিছনে নাওরেম, বেইতিয়া ও সুহেরকে রেখেছিলেন বাগান কোচ। এমনিতে সাধারণত পাসিং ফুটবল খেলেই বিপক্ষকে ছারখার করতে ভালবাসেন কিবু। কিন্তু টানা তিনদিন ধরে লুধিয়ানায় বৃষ্টি হওয়ায় মাঠের অবস্থা বেশ খারাপই ছিল। ফলে বল যাচ্ছিল থমকে। সেই কারণে স্বাভাবিক পাসিং ফুটবল খেলতে পারলেন না বেইতিয়া, গঞ্জালেসরা।

ইস্টবেঙ্গলের বিরুদ্ধে ম্যাচের দিন পঞ্জাবের হয়ে মাঝমাঠে আগুন ঝরিয়েছিলেন লাল হলুদেরি প্রাক্তনী সঞ্জু প্রধান। আর আজ মোহনবাগানের কাছে ভিলেন হয়ে উঠলেন তাদেরই প্রাক্তনী ডিপান্ডা ডিকা। ২০ মিনিটে মোহনবাগান জনতাকে চুপ করিয়ে গোল করে যান ধূর্ত ডিকা। অবশ্য গোল খাওয়ার পরেই তেড়েফুঁড়ে ওঠে সবুজ মেরুনও। বেশ কয়েকবার গোলের সুযোগও তৈরি করেন পাপা, গঞ্জালেসরা। কিন্তু গুরু নানক স্টেডিয়ামের ভেজা মাঠে তা কাজে লাগাতে ব্যর্থ হন বাগান খেলোয়াড়রা। ফলে প্রথমার্ধে অনেক বেশি বল পজিশন ও বেশি অ্যাটাক তৈরি করলেও পিছিয়ে থেকেই ড্রেসিংরুমে ফেরেন মোহনবাগান ফুটবলাররা।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই গোল শোধের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে সবুজ মেরুন। কিন্তু অ্যাটাকিং থার্ডে এসে কোথাও যেন খেই হারিয়ে ফেলছিলেন বাগানের খেলোয়াড়রা। অন্যদিকে, পঞ্জাব কিন্তু বেশ ভালই আক্রমণ গড়ে তুলছিল। বারবার মোহন ডিফেন্সে চিড় ধরিয়ে বক্সে ঢুকে পরছিলেন ডিকা। একবার তো সাইরাসের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কিতে বক্সের মধ্যে পরেও যান। সঙ্গে সঙ্গেই পেনাল্টির আবেদন করেন ডিপান্ডা। যদিও রেফারি সেই আবেদনে সাড়া দেননি। ৬৯ মিনিটে একটি আক্রমণ থেকে পঞ্জাব বক্সের ভেতর ফাঁকায় বল পান সুহের। কিন্তু সেটিকে গোলে না মেরে গ্যালারিতে মেরে বসেন বাগান ফরোয়ার্ড। এর পরের মুহূর্তেই আবার বাগান বক্সের বাইরে থেকে মাটি ঘেঁষা শট নেন সঞ্জু। শঙ্কর ডানদিকে ঝাঁপিয়ে পরে তা সেভ করেন। ৮২ মিনিটে আবারও বাগানকে নাড়িয়ে দিচ্ছিলেন কেভিন। তাঁর শট ডিফ্লেক্ট হয়ে বাগান পোস্টে লাগে। অবশ্য ৮৮ মিনিটে বাগানের ত্রাতা হয়ে ওঠেন শুভ। পঞ্জাব ডিফেন্সের বড় ভুল থেকে গোল করে যান এই তরুণ। একেবারে শেষ মুহূর্তে আবার পঞ্জাবের একটি শট বারে লাগে। এই ম্যাচে ড্রয়ের ফলে ৭ ম্যাচে ১৪ পয়েন্ট নিয়ে লিগ শীর্ষেই থাকল মোহনবাগান। পঞ্জাব ১১ পয়েন্ট নিয়ে দুই নম্বরে উঠে এল।

মোহনবাগানের প্রথম একাদশ: শঙ্কর, আশুতোষ, মোরান্তে, সাইরাস, ধনচন্দ্র, গঞ্জালেস, সাহিল, নাওরেম, বেইতিয়া, সুহের ও পাপা বাবাকার

ছবি- টুইটার

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here