হল না শেষরক্ষা, মার্কাসের জোড়া গোল ডুরান্ড ফাইনালে হার মোহনবাগানের

0
71

মোহনবাগান- ১ (সালভাদর) গোকুলাম- ২ (মার্কাস)

সায়ন মজুমদার: সুদীর্ঘ ১৯ বছর পর ফের একবার ডুরান্ড জয়ের স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছিল মোহনবাগান। সুযোগ ছিল ১৭ বার দেশের প্রাচীনতম টুর্নামেন্ট জিতে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইস্টবেঙ্গলকে টপকে যাওয়ার। কিন্তু হল না। দুরন্ত ফুটবল খেলেও শেষরক্ষা করতে পারলেন না কিবু ভিকুনা। দর্শনীয় না হলেও স্রেফ ট্যাকটিক্যাল ফুটবল খেলে প্রবলতর প্রতিপক্ষকে হারালো গোকুলাম। একইসঙ্গে ৯০-এর দশকে কোচিন এফসির পর কোনো কেরলের দল হিসেবে দুরান্ড কাপ জিতল গোকুলাম। তাও আবার প্রথম কোনও সর্বভারতীয় টুর্নামেন্টের ফাইনালে উঠে।

এদিন প্রথম একাদশে দুটি পরিবর্তন এনেছিলেন মোহন কোচ কিবু ভিকুনা। জেসুরাজ বদলে সুহের ও গোলে শঙ্করের বদলে দেবজিৎকে দলে রেখেছিলেন সবুজ মেরুন কোচ। ৪-১-৩-২ ছকে দল সাজিয়েছিলেন তিনি। আক্রমণে সুহের ও সালভাদর এবং মাঝমাঠে সুরাবুদ্দিন, বেইতিয়া ও নাওরেম। ডিফেন্সিভ স্ক্রিনে সাহিল। অন্যদিকে, গোকুলাম কোচ সেমিফাইনালের উইনিং কম্বিনেশনই ধরে রেখেছিলেন। দুইদিন আগে যে ছকে ইস্টবেঙ্গলকে বধ করেছিলেন, সেই একই ছকে ফাইনালেও বাজিমাত করলেন গোকুলামের কোচ ভ্যালেরা।

ম্যাচের প্রথম মিনিট থেকে হঠাৎ করেই মিনিট আটেকের জন্য একটা আক্রমণের ঘূর্ণি তুলে মোহনবাগান রক্ষণে আতঙ্ক তৈরি করেছিলেন গোকুলাম আক্রমণভাগ। শুরুতেই গোলের খুব কাছে পৌঁছেও বাজে মিস করেন সেবাস্তিয়ান। তারপর ধীরে ধীরে ম্যাচে ফেরে মোহনবাগান। কিন্তু কেরলের দলের আল্ট্রা ডিফেন্সিভ নীতির সামনে বারবার আটকে যাচ্ছিলেন সালভা, সুহেররা। মোহনবাগানের আক্রমণের সময় মাঝে মাঝে ৭ জন খেলোয়াড় মিয়ে ডিফেন্স করছিলেন। ঘর গুছিয়ে আক্রমণের নীতিতে খেলছিল গোকুলাম। আর সেই সুবাদেই মাঝে মাঝে বাগান শিবিরে হানা দিচ্ছিলেন মার্কাস ও বাগানের প্রাক্তনী হেনরি। এইরকমই একটা মুভ থেকে প্রথমার্ধের শেষলগ্নে মোহন বক্সে ঢুকে পড়েন কিসেকা। আগুয়ান মোহন প্রাক্তনীকে অবৈধবভাবে নিজেদের বক্সে ফেলেদেন দেবজিৎ। পেনাল্টি থেকে গোকুলামকে কাঙ্খিত লিড এনে দেন মার্কাস। এইটি ডুরান্ড কাপে তার দশম গোল। অবশ্য তার আগে বেইতিয়ার একটি বাঁকানো শট একটুর জন্য বিপক্ষ বার উচিয়ে চলে যায়।

ইস্টবেঙ্গলের বিরুদ্ধে ম্যাচে প্রথমার্ধ একটু পেছন থেকে অপারেট করলেও দ্বিতীয়ার্ধে সামনে উঠে এসেছিলেন মার্কাস। আর তাতেই আক্রমণের ঝড় তুলেছিল গোকুলাম। এদিনও সেই একই ছক। দ্বিতীয়ার্ধে মার্কাস উপরে উঠে আসায় আক্রমণে ঝড় তুললো কেরলের দল। ৫১ মিনিটে মাঝমাঠে বাজে মিস করলেন আশুতোষ। আর সেই বল ধরে নাওচার পাস মার্কাসকে। অসাধারণ দক্ষতায় দেবজিৎকে পরাস্ত করে গোটা যুবভারতী স্তব্ধ করে দিলেন সেই মার্কাস। তবে ৬৪ মিনিটে স্তব্ধ গ্যালারিতে প্রাণ সঞ্চার করলেন সেই সালভাদর। বেইতিয়ার ফ্রিকিক থেকে হেডারে গোল করেন সালভা। যদিও এক্ষেত্রে উবেইদকে বেশি কৃতিত্ব দিতে হয়। সালভাদর মোটামুটি তার হাতেই হেড করলেও অদ্ভুত ভাবে সেই বল তার হাত থেকে গলে জালে জড়িয়ে যায়। এই গোলের পরেই ম্যাচে নয়া উদ্যমে ফিরে আসে কলকাতার অন্যতম প্রধান। ৮৩ মিনিটে ম্যাচে সমতা প্রায় ফিরিয়ে দিয়েছিলেন মুনোজ। কিন্তু সে যাত্রায় কোনো রকমে বল সেভ করেন উবেইদ। ৮৬ মিনিটে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে বাইরে চলে যান গোকুলামের জেস্টিন। বিপক্ষ দশ জনে হয়ে যাওয়ার পর আরো মরিয়া হয়ে ওঠে মোহনবাগান। অতিরিক্ত সময়ে নিজেদের বক্সে একটি হ্যান্ডবল করেন গোকুলামের ইরশাদ। কিন্তু মোহনবাগানের হ্যান্ডবলের আবেদন নাকচ করে দেন রেফারি। শেষমেষ ২-১ গোলে ম্যাচ জিতে প্রথমবারের জন্য ফাইনাল জিতে নেয় গোকুলাম।

মোহনবাগানের প্রথম একাদশ: মোরান্তে, গুরজিন্দর, আশুতোষ, সালভাদর, বেইতিয়া, নাওরেম, কিমকিমা, সুহের, সুরাবুদ্দিন, দেবজিৎ ও সাহিল

গোকুলামের প্রথম একাদশ: উবেইদ, নাওচা, ডেনিস, ইরশাদ, মার্কাস, রাশিদ, মেইতেই, সেবাস্তিয়ান, শিবিল, জেস্টিন ও হেনরি

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here