ডেস্ক: অঞ্জন জমানার শেষদিকে যে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছিল ক্লাবে, টুটু জমানায় তা ঘুচবে বলেই আশা করেছিলেন আপামর মোহনবাগানী জনতা। সেই জন্য মোহন নির্বাচনে দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে ২১-০ ব্যবধানে গোটা টুটু প্যানেলকে জিতিয়ে নিয়ে এসেছিলেন সদস্য-সমর্থকরা।

কিন্তু প্রশাসকের বদল হলেও বদলায়নি মোহনবাগানের অন্দরমহল। একদিকে যখন পড়শি ক্লাবে দীর্ঘদিন আই লিগ না ঢুকলেও, ইনভেস্টর এনে ‘ড্যাংড্যাং’ করে আইএসএল খেলার তোড়জোড় শুরু হয়ে গিয়েছে, তখন শতাব্দী প্রাচীন ক্লাবের কর্তারা যখের মতো আঁকড়ে আছেন ক্ষমতার কুর্সি। নির্বাচনের আগে ইনভেস্টর তথা স্পনসর আনার গালভরা প্রতিশ্রুতি ডিডি-টুম্পাইরা দিলেও, দায়িত্ব নেওয়ার এতদিন পড়েও স্পনসর আনতে ব্যর্থ তাঁরা। সর্বদাই অমুখের সঙ্গে, তমুকের সঙ্গে কথা চলছে বলেই দায় এরাচ্ছেন তাঁরা। সম্প্রতি কলকাতার ফ্র্যাঞ্চাইজি দলের সঙ্গেও গাঁটছড়া বাঁধার কথাও শোনা যাচ্ছিল। আর এবার দলের টেনিস সচিবের পদটাই তুলে দেওয়ার পথে টুটু গোষ্ঠী।

নামে মোহনবাগান অ্যাথলেটিক্স ক্লাব হলেও শুধুমাত্র ফুটবল, ক্রিকেট ও অ্যাথলেটিক্সই খেলে সবুজ-মেরুন। অতীতে হকি ও টেনিস খেলায় সুনাম থাকলেও কালের অতল গহীনে ফিকে সেই গরিমা। নতুন শাসক আসার পর আশা করা হয়েছিল হৃত গৌরব পুনরুদ্ধারে সচেষ্ট হবেন টুটু-টুম্পাইরা। কিন্তু আদতে দেখা গেল সেই স্মৃতিও ধুয়ে মুচে সাফ করে দিতে উদ্যোগী তাঁরা। ক্লাবের পরিকাঠামো পরিবর্তনের নামে টেনিস সচিব পদটি না রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মোহনকর্তারা। এই মুহূর্তে ক্লাবের টেনিস সচিব সঞ্জয় ঘোষ। তাঁর পদটি অবলুপ্ত হলে তিনি ইয়ুথ ডেভেলপমেন্টের দায়িত্ব সামলাবেন। যদিও ভবিষ্যতে ফের একবার হকি প্রতিযোগিতায় অংশ নেবে মোহনবাগান, এমনটাই জানিয়েছেন দেবাশিষ দত্ত। রাজ্য সরকারের উদ্যোগে একটি অ্যাস্ট্রো টার্ফ বানানো হচ্ছে। সেটি প্রস্তুত হলেই ফের একবার হকি দল তৈরি করবে শতাব্দী প্রাচীন ক্লাব।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here